//

ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৯ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

নামজারি প্রক্রিয়া নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুখবর!

প্রকাশিত: ১১:৩৫, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

নামজারি প্রক্রিয়া নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুখবর!

ভূমি মালিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে এবং নামজারি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও দুর্নীতিমুক্ত করতে তিনটি বড় পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে কাগজপত্রের জটিলতা, দালালচক্র এবং অনিয়ম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রথম পরিবর্তন হিসেবে নামজারি আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নির্দিষ্ট তালিকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে নতুন মালিকানা সৃষ্টির বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলসহ সম্পত্তি দাতার কাছে থাকা সব যাচাইযোগ্য দলিল আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এতে প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়ায় বিলম্ব কমবে।
আবেদনকারীর পরিচয় যাচাইয়েও কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, পূর্ববর্তী মালিকের পরিচয়পত্র ও ছবি ছাড়া কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। ঘাটতি থাকলে আবেদন বাতিলের সম্ভাবনা থাকবে এবং আবেদনকারীকে তা অবশ্যই জানানো হবে। কোনো ডকুমেন্টে সমস্যা থাকলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং ত্রুটি সংশোধনের পর প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওয়ারিশি সম্পত্তির ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে ঐকমত্য না থাকলে নামজারি ফাইল খোলা যাবে না। বণ্টন দলিল ছাড়া কোনো ব্যক্তি আলাদাভাবে নামজারি করলে তা অবৈধ বিবেচিত হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তারাও দায়িত্বে অবহেলা করলে শাস্তির আওতায় আসবেন।
বণ্টন দলিল না থাকলে প্রতিটি ওয়ারিশকে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করতে হবে। সনদ জমা দিয়ে যৌথ খতিয়ানের জন্য আবেদন করা যাবে। যাচাই-বাছাই শেষে ভূমি কমিশনার স্ত্রী-পুরুষের মালিকানা অনুপাতে যৌথ খতিয়ান ঘোষণা করবেন। ভবিষ্যতে পৃথক রেজিস্ট্রেশন করতে চাইলে আলাদা দলিল প্রয়োজন হবে।
নামজারির অটোমেশন প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুলাই পর্যন্ত ২১টি উপজেলায় সিস্টেম চালু ছিল এবং শিগগিরই এটি সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে। নতুন ব্যবস্থায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তিনটি নির্দিষ্ট দলিল জমা দিলেই সরাসরি ভূমি অফিসে একটি কপি পাঠানো হবে। ভূমি অফিস যাচাই শেষে নো-অবজেকশন রিপোর্ট পাঠাবে এবং পরে রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি সম্পন্ন হবে।
সম্পূর্ণ অনলাইন-ভিত্তিক নতুন সিস্টেমে আবেদনকারী তার দলিল রেজিস্ট্রেশনের প্রতিটি ধাপ ট্র্যাক করতে পারবেন। মোবাইল নম্বর দিলে নির্দিষ্ট তারিখে এসএমএসের মাধ্যমে অগ্রগতি জানানো হবে। তিনটি সেবা—দলিল রেজিস্ট্রেশন, খতিয়ান সংশোধন এবং অনলাইনে ডকুমেন্ট সংযুক্তকরণ—একই প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। প্রতিটি ভূমি মালিকের জন্য একটি অনলাইন আইডি ও ভূমি মালিকানা সনদ তৈরি হবে, যা ওয়েব লিংক বা কিউআর কোডের মাধ্যমে সহজে দেখা যাবে।
নতুন উদ্যোগের ফলে নামজারি প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং ঘুষ-দালালের পথও বন্ধ হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি বহুদিনের জটিলতা দূর করার এক বড় পদক্ষেপ। তবে কার্যকর হতেই কিছুটা সময় লাগবে। মন্ত্রণালয় আবেদনকারীদের সময়মতো প্রয়োজনীয় দলিলাদি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, “ব্যাকডোর কায়দা আর থাকবে না; নতুন পদ্ধতিতেই মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে।”

আফরোজা

×