//

ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

পেট্রোল আসল নাকি নকল, চিনবেন যেভাবে

প্রকাশিত: ১০:০০, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

পেট্রোল আসল নাকি নকল, চিনবেন যেভাবে

ছ‌বি: সংগৃহীত

গাড়ি বা মোটরসাইকেলের সঠিক পারফরম্যান্স অনেকটাই নির্ভর করে জ্বালানির মানের ওপর। ভালো মানের পেট্রোল না হলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়, মাইলেজ কমে যায় এবং নানা যান্ত্রিক সমস্যার মুখে পড়তে হয়। দুঃখজনকভাবে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় পেট্রোলে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করে থাকেন। তাই পেট্রোল আসল কি না, তা প্রাথমিকভাবে চিনে নেওয়ার কিছু সহজ কৌশল জানা থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

প্রথমেই পেট্রোলের গন্ধে নজর দেওয়া যেতে পারে। আসল পেট্রোলের গন্ধ সাধারণত তীব্র ও পরিচিত হয়। বিপরীতে ভেজাল বা নকল পেট্রোলের গন্ধ অনেক সময় হালকা, অস্বাভাবিক বা কেমিক্যালের মতো মনে হতে পারে। একই সঙ্গে রং দেখেও ধারণা পাওয়া যায়। সাধারণত ভালো মানের পেট্রোল হালকা হলুদ বা প্রায় স্বচ্ছ হয়। রং যদি বেশি গাঢ়, মেঘলা বা অস্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে ভেজালের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

পানি ব্যবহার করেও পেট্রোল পরীক্ষা করা যায়। একটি স্বচ্ছ পাত্রে সামান্য পানি নিয়ে তার ওপর পেট্রোল ঢাললে আসল পেট্রোল আলাদা স্তর হয়ে পানির ওপরে ভেসে থাকবে। কিন্তু পেট্রোল যদি পানির সঙ্গে মিশে যায় বা পানির রং বদলে যায়, তাহলে সেটি ভেজাল হতে পারে। একইভাবে সাদা কাগজে কয়েক ফোঁটা পেট্রোল ফেলে শুকিয়ে দেখলেও ধারণা মেলে। আসল পেট্রোল শুকিয়ে গেলে কাগজে কোনো দাগ থাকে না, অথচ ভেজাল পেট্রোলে তেলের মতো ছোপ থেকে যেতে পারে।

আরও একটি লক্ষণ হলো পোড়ানোর সময়ের আচরণ। নিরাপদ দূরত্বে ধাতব কোনো পাত্রে অল্প পেট্রোল নিয়ে জ্বালালে আসল পেট্রোল দ্রুত ও পরিষ্কারভাবে জ্বলে যায়। ভেজাল পেট্রোল হলে অনেক সময় কালো ধোঁয়া উঠতে পারে বা ঠিকমতো জ্বলতে চায় না। এর পাশাপাশি গাড়ির পারফরম্যান্সও বড় ইঙ্গিত দেয়। পেট্রোল নেওয়ার পর যদি ইঞ্জিনের শক্তি কমে যায়, গাড়ি হঠাৎ বন্ধ হয়ে আসে, মাইলেজ কমে যায় বা ইঞ্জিন অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়, তাহলে জ্বালানির মান নিয়ে সন্দেহ করা উচিত।

ভেজাল পেট্রোল শুধু বাড়তি খরচের কারণ নয়, দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনের বড় ক্ষতিও ডেকে আনতে পারে। তাই সম্ভব হলে সবসময় বিশ্বস্ত পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়া ভালো এবং প্রয়োজনে এসব সহজ উপায় কাজে লাগিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। ভালো মানের জ্বালানি ব্যবহার করলে গাড়ির পারফরম্যান্স যেমন ভালো থাকে, তেমনি ইঞ্জিনও দীর্ঘদিন সুস্থ থাকে।

এ.এইচ

×