মালেকের আর নূরুর সঙ্গে ঘর বাঁধা হলো না, সব কিছুই বন্যার তোড়ে উড়ে গেলো ভেসে গেলো, জীবন যেন এমনি, নদী যেমন ধারা বদলাই, জীবনও কখনো-সখনো নিজেকে ধুয়ে-মুছে একাকার করে নেয়, হয়তো পরিসুদ্ধ করবার জন্য, মালেক যেন একটা সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা নতুন টিলা, সেখানে আশ্রয় বাঁধা যায় না, কারণ সে যে অস্তায়মান, বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও যে সরিয়ে দেয়, তা প্রমাণ হলো হুমায়ুন কবীর (১৯০৬-১৯৬৯) এর ‘নদী ও নারী’ (১৯৫২) উপন্যাসের মধ্য দিয়ে, তিল-তিল করে যে স্বপ্ন যে আকাক্সক্ষা মনের নিভৃতে জমা হয়েছিলো, মালেক আর নূরুর রক্ত সঞ্চলনে যে স্বপ্নবীজ রোপণ হওয়ার কথা, তা কাকতালীয়ভাবে ভেঙে গেলো খানখান হয়ে একটা চিরসত্য বাণীতেই, তারপরও সত্য চিরন্তন সত্যই সুন্দর, সত্য এবং সুন্দর দুটোকেই মানুষ ভালো না বেশেও ভালোবাসে, সে সুন্দরের কাছে পৃথিবী থেকে হয়তো হোঁচট খায়, অথবা সঠিক পথেই চলে, মানুষ শুধু সত্যকে ভয় পায়, আসগর মিয়া কিন্তু সত্যকে চেপে রাখেনি, সত্যকে নদীর কাছে নারীর কাছে উন্মেচিত করেছে, মালেক যে আমেনার প্রথম পক্ষের স্বামীর ঘরের সন্তান, যে আমিনাকে নজুমিয়া বিয়ে করেছিলো এবং পরবর্তী সময়ে নজুমিয়া তালাক দেয় এবং পুরানো প্রেমিক ফুপাতো ভাই আসগরকে বিয়ে করে আমিনা এবং সেই আমিনার দ্বিতীয় স্বামীর ঘরের দিকের সন্তান নূরু, অর্থাৎ মালেক এবং নূরু একই মায়ের পেটের ভাই-বোন, যদিও বাপ ভিন্ন কিন্তু মাতৃদুদ্ধ তো আমিনারই গ্রহণ করেছে দুজন। চিরসত্য কথাটা শুনে মালেক এবং নূরু নিজেদের অন্য জগতে আবিষ্কার করলো, এই আবিষ্কারের মধ্যে যন্ত্রণা এবং দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের কবর রচনা, পাঠক শেষ অধ্যয়ে দেখলো, মালেক চলে গেলো বৃহৎতরের সন্ধানে, কে থাকে আর শূন্য মাঝারে, দুনিয়ার নীতিই এই, যে ভাঙাগড়ার ভেতর বিকাশিত হয় অন্য আরেক গল্প, ‘নদী ও নারী’ উপন্যাসের মূল বিষয়টা আসলে এখানেই নিহিত। উপন্যাসটিকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, প্রথম খণ্ড ‘নজুমিয়া’ (প্রথম খণ্ডে আটটি অধ্যায়) দ্বিতীয় খণ্ড ‘আসগর’ (দ্বিতীয় খণ্ডে আটটি অধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড ‘নূরু ও মালেক’ (তৃতীয় খণ্ডে ছয়টি অধ্যায় রয়েছে) এবং নূরু ও মালেকের শেষ অধ্যায়ে আরেকটি অধ্যায় সংযোজিত হয়েছে। প্রতি অধ্যায়ের কাহিনীমালা পাঠককে টেনেছে, গল্পের যে গতি তা থেকে বিচ্যুতি হয়নি কখনো।
দার্শনিক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব (ভারতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী)-কবি-কথাশিল্পী হুমায়ুন কবীরকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশে তেমনভাবে কোনো আলোচনা হয় না বললেই চলে, যদিও তিনি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের (ফরিদপুর জেলার) মানুষ, তার একমাত্র বাংলা সার্থক উপন্যাস ‘নদী ও নারী’ বিস্মৃতপ্রায় বলা যায়।
উপন্যাসে তিরিশ/চল্লিশ দশকের চিত্ররূপ-আবহাওয়া স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়, হুমায়ুন কবীর গ্রামীণ একটা কিছু প্রেম এবং অপ্রেম বা সামাজিক সংঘাতের মতো বিষয়বস্তুকে অবলম্বন করে ‘নদী ও নারী’ উপন্যাসের বীজ বপন করেন, যেখানে পদ্মা নদীর উপস্থিতি গভীরভাবে দৃশ্যমান হয়েছে, পদ্মানদীকে কেন্দ্র করে কাহিনী এগিয়ে গেছে বিভিন্ন দিকে, পদ্মাপাড়ের মানুষের জীবিকার পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের যে সংগ্রাম এবং বেঁচে থাকার তাগিদে কঠিন পেশায় নিয়োজিত, সর্বোপরি সংঘাত-প্রেম-দ্বেষ এবং মানবিকতা ফুটে উঠেছে, ‘নদী ও নারী’ উপন্যাসের একেকটি চরিত্র হয়ে উঠেছে একেকটি অতি মানব, এখানে মৃত্যু আছে এবং অবধারিতভাবে মৃত্যু একটা সাধারণ বিষয় হলেও জন্ম ও মৃত্যুর মাঝে জীবন চলমান নদীর মতো বহমান প্রতিনিয়ত, কঠিন বিপদের সময়েও মানুষ মৃত্যুর কথা ভুলে জীবনের কথা ভাবে, নতুন চরের মতো নতুন জীবন তাকে বেঁচে থাকার আকাক্সক্ষা জোগায়। নদী পার হয়ে মানুষ যেমন সমুদ্রে যেতে চায়, সমুদ্রও নদীকে কদাচিৎ হাতের নাগালে পেয়ে একটু ঝাঁকুনি দেয়, হয়তো বুকে তুলে নেয়, নজুমিয়ার মা আয়েশার একমাত্র অবলম্বন নাতি মালেকই ছিলো যক্ষের ধন, নাতিকে ছাড়া যেমন তার একদন্ডও কাটে না, তেমনি মালেকেরও দাদিকে ছাড়া জীবন যেন অন্ধকার, এই ভালোবাসার মধ্যে মাতৃস্নেহ যেমন রয়েছে, তেমনি আছে অনেক না বলা গল্প, পদ্মানদীর স্রোতরাশির মতোই তাদের এক-অপরের নীবিড় সম্পর্ক, কেউ কাউকে ছাড়া অচল, নজুমিয়াও মাকে এতোটাই ভালোবাসে এবং সম্মান করে যে কখনো তাকে উপেক্ষা করবার চিন্তাও করে না, সমস্ত রকম আদেশ-নির্দেশ মান্য করে বরাবর। উপন্যাসটিতে গ্রামীণ কৃষক পরিবারের মূলত এই তিনজনই প্রধান, কেউ কারো চেয়ে ছোট নয়, যেন সবাই প্রধান। তারপরও কাজের লোকের বা পারিপাশ্বিক আরো বেশ কিছু চরিত্র ‘নদী ও নারী’ উপন্যাসে ভীড় করেছে, তাতে কাহিনী আরো বেগবান হয়েছে বলতেই হয়। নজুমিয়া খন্ডের অধ্যায়ে পাঠক বিভিন্ন চড়াই-উৎরায়ের ভেতর দিয়ে একটা গন্তব্যে পৌঁছে যায়, আয়েষাকে কখনো মনে হয়ে বৃক্ষ আবার কখনো সে হয়ে উঠেছে পদ্মানদীর একটা শাখা, যার বুকের দুটো ধন, দুটো নয়নমনি, ছেলে এবং নাতি। রহিমপুরের এই নজুমিয়া এক বৈশাখ শেষে ঝড়ের তান্ডবে রাক্ষুসি পদ্মানদীর গহবরে হারিয়ে যায়, যখন খবরটা এসে আয়েষার কানে পৌঁছালো ধুলদির অন্য আর সব মানুষের মতোই স্তম্ভিত হয়ে গেলো সেও, পদ্মানদীর বুকে ঝাঁপ দিয়ে সে ছেলেকে সন্ধান করতে চাইলো, দুঃখ-শোকে আয়েষা সত্যসত্যিই এক মাঝরাত্রে পদ্মার বুকে ঝাঁপ দিয়ে বুকের জ্বালা চিরতরে মেটালো, তারপর থেকে মালেক হয়ে গেলো অনাথ, কিন্তু এই অনাথ বালক মালেকের ভার কে নেবে, কুলসুম বা বসিরচাচা কতোদিন আর মালেক বা মালেকের বাপের বিষয়-সম্পত্তি আগলে রাখতে পারে, কিন্তু তারপরও মালেক যে একমাত্র উত্তরাধিকার, অথচ পূর্ব চরের জমির প্রজার বিলি বণ্টনের টাকা দিতে চায় না, যার কারণে পূর্ণিমার খাজনা শোধ হয় না, দিনেদিনে খাজনার পরিমাণ বাড়তে থাকে, বসিরচাচা-কুলসুমের কাছে যা ছিলো অবশিষ্ট সবই চলে যায় একেএকে, এমনকি আয়েশার সোনাদানাও বিক্রি করতে হয় খাজনা শোধ করতে, অবশেষে মালেক এবং নজুমিয়ার সম্পদ-সম্পত্তি বিলি-বণ্টনের চর একদিন নজুমিয়ার চিরশত্রু আসগরের হাতে সঁপে দেয়, কারণ পঞ্চয়েত প্রধান নজুমিয়ার মৃত্যুর পর রহিমপুরের পঞ্চয়েত প্রধান হন আসগর, তাই তার অর্থ-ক্ষমতা-যশ-খ্যাতি সবই বেশি,আর সে কারণে গ্রামবাসী আসগরকেই মালেকের দায়-দায়িত্ব দেয়।
এই আসগরের মেয়ে নূরুকে পাঠক মালেকের শৈশব-কৈশোরের সঙ্গি হিসাবে পেয়েছে, তাদের জীবন যেন ছকে বাঁধা, মালেক এবং নূরুর মা যে আসগরের বিবি আমেনা, এখানেই উপন্যাসটিকে বহুমাত্রায় নিয়ে যায়। পদ্মাচরের ভাঙা জমি ভেঙে রহিমপুরের গ্রাম এবং নূরু এবং মালেককে মাতৃদুদ্ধ পান করিয়েছে যে নারী সেই আমেনাকে ধীর-স্থির একটা প্রতীক হিসেবে দেখা যায়, নদী যেখানে রাক্ষুসী-উন্মুক্তা-পাগলপারা-সর্বগ্রাসী, সভ্যতাকে ভেঙে চলে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে, অথচ আমেনা একটা নারী, তাকে যতোই মাত্বত্বের পরিচয়ে বেঁধে রাখি না কেনো, সে এমনই একটা নদী, যার ওপর অনেক স্রোত অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা চলে গেছে তারপরও আমেনা নদীর মতোই অটল-শান্ত। হয়তো নদীর সঙ্গে নারীর একটা মিলের সেতুবন্ধন রচনা করতে চেয়েছেন হুমায়ুন কবীর।
রহিমপুরের পঞ্চয়েত প্রধান আসগর মিয়ার দেখভালের মধ্যেই মালেক বড় হতে থাকে, আসগরের স্ত্রী আমেনা হাতে স্বর্গ পেলো, তার পূর্বের স্বামীর ঔরশের সন্তান মালেক হলেও তারই যে জঠরের নাড়ি ছেঁড়া ধন, সে কথা তো আর অস্বীকার করা যায় না। আমিনার মন কানায়-কানায় ভরে গেলো, মালেককে দীর্ঘসময় পর কাছের পেয়ে সত্যিই সে আনন্দে আত্মহারা, নূরু-মালেক মানুষ হতে থাকে তারই চোখের সামনে। ভালোবাসা আবদারে দুজন যেন একই বৃন্তে ফোটা দুটো ফুল হয়ে যায়। আমিনার মন শান্ত হয়, আমিনা যে দীর্ঘ অপেক্ষার পর মালেককে পেয়েছে তার জন্য শুকরিয়া আল্লাহ’র কাছে জানায়, নজুমিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে-সঙ্গে তার এই প্রাপ্তি তা হয়তো কখনো কামনা করেনি, কিন্তু তারপরও পেয়ে যায়।
উপন্যাসের মানুষগুলো সত্যসত্যিই নদীর মতো কখনো সরল এবং কখনো মনে হয়েছে নদীর মতোই বাঁকা। তিরিশের প্রধান কবি বুদ্ধদেব বসু ‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকায় লিখেছেন, ‘নদী ও নারী’ উপন্যাসের পদ্মা বর্ষায় প্রখর, শরতে সুন্দর, কালবৈশাখীর ঝড়ের সন্ধ্যায় ভয়াল, অপমৃত্যুর আধার, প্রাণের পালয়িত্রী -আবার সুদীর্ঘ অনাবৃষ্টির পরে হঠাৎ বর্ষণে বন্যাস্ফীতা সর্বগ্রাসিনী।” উপন্যাসের চরিত্রের সঙ্গে পদ্মার সম্পর্ক সেভাবে চোখে পড়ে না, ভূমি এবং সামন্ততান্ত্রিক বিষয়াদি যেভাবে প্রাধান্য পেয়েছে এবং সম্পর্কের টানাটানি উপন্যাসটিকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে, সম্পর্কের যে পালাবদল এবং ভাঙাগড়া যা সমাজজীবনে বহমান, তাই দেখাতে গিয়ে দার্শনিতাকে বহুগুণে আশ্রয় দিয়েছেন, প্রেমের যে আলোক ঝলসানো দৃশ্যাবলী অধ্যায়ের পর অধ্যায় লিপিবদ্ধ করেছেন, বুদ্ধদেব বসু তাতেও বিরূপ মন্তব্য করেছেন, হয়তো মন্তব্য করতে হয় বলেই মন্তব্য করা আর কি, দেশকাল পাত্র ভেদে মানুষ কি চায় এবং তার প্রকৃত ঘটনাকে সাহিত্যে তুলে আনাই হলো একটা বৃহৎ প্রাপ্তি। কিন্তু তারপরও অনবদ্য ভাষা, ভাষার যে শক্তি এবং নদী-মানুষ-প্রকৃতির যে একাকার হয়ে মিশে যাওয়ার ছবি দেখা যায়, তাতে উপন্যাসটির সরল আখ্যানে একটা দার্শনিক মাত্রা যোগ হয়েছে বলা অপেক্ষা রাখে না।
প্রথম দুটো খন্ডে নদী ও নারীর বুনন যেভাবে চলছিলো, প্রায় সবটুকুই তা ছিলো ভূমিনির্ভর। শেষখন্ডে দেখা গেলো সমুদ্রের অভিমুখে যাত্রা, অবশ্যই নদী তো আপন বেগে পাগলপারা, তার শেষ গন্তব্যস্থল সমুদ্র, সমুদ্রেই যে মিশবে, সেখানে সে তার আপন অস্তিত্ব খুঁজে নেবে, কাহিনী পটভূমিটিও রহিমপুর থেকে ক্রমে বন্যা-দুর্যোগ ঝড়-ঝঙ্ঘায় সমুদ্রবেলার বিরানচরে সরে এসেছিলো, যে চরে নতুন বসতি সৃযিত হয়েছিলো, নদীতীরবর্তী মানুষ তো সংগ্রামী, প্রকৃতির দুর্যোগকে ভয় করে না, বারবার ভাঙে আবার গড়ে, আবার ভাঙে তারপরও গড়ে তোলে বসতি-সমতল, নতুন চরে নতুন ভূমিতে ফসল ফলায় শ্রম দিয়ে শক্তি দিয়ে, তাকে কে বাঁধিবে কে বা রূখিবে, নদীর মতোই নদীতীরবর্তী বাসিন্দারাও তো চলমান-বেগবান। হুমায়ুন কবীরের ‘নদী ও নারী’ ভাববাদী মানবতা-চাঞ্চল্য জীবনদৃষ্টির শিল্প প্রতীমা, উপন্যাসে সার্থক সর্বজ্ঞ সহানুভূতি বর্ধিত হয়েছে স্বচ্ছল কৃষিজীবীদের প্রতি, জীবনাচরণের দৃষ্টিতে কৃষক হলেও সম্পত্তি বৃদ্ধির আকাক্সক্ষার মধ্য দিয়ে তারা অকপটে উন্মেচিত হলেও তাদের সামান্ততান্ত্রিক মনোবৃত্তি প্রকাশ পেয়েছে, তারপরও বলতে হয় হুমায়ুন মূলত নবজাগ্রত মুসলমান মধ্যবিত্তশ্রেণীর ভাবসত্যকে মনে-প্রাণে উপলব্ধি করে তাদেরই মনের কথাকে গল্পে-গল্পের আখ্যানে স্থান করে দিয়েছেন, যা একজন প্রকৃত সাহিত্যিকের করণীয়, এজন্যই তিনি বাংলাসাহিত্যের সার্থক রূপকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, নদী এবং নারী যে আমাদেরই জীবনের অবিচ্ছিদ্য অংশ তা তো কখনো অস্বীকার করা যাবে না, সেই সত্যেরই বহিপ্রকাশ ‘নদী ও নারী’। বাংলাসাহিত্য বা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে উপন্যাসটি একটি অলংকার এবং অহংকার, যা হয়তো কখনো ফুরোবার নয়, পদ্মানদী, এই সেই পদ্মানদী বাংলাসাহিত্যে বাংলাভাষী বা বাংলাদেশের নানা রূপবিভঙ্গে বারংবার ঘুরে-ফিরে এসেছে নারীর মতো কখনো রাগে আবার কখনো অনুরাগে। পদ্মাপাড়ের নিম্নবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের প্রাগাধুনিক জীবনের ছাঁদ অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয় পদ্মার মতো খেয়ালী নদীর সঙ্গ-সাবুজ্যে, কেমনভাবে নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে গাঁথা থাকে যাপনের ভরকেন্দ্র, তারই আখ্যান হুমায়ুনের ‘নদী ও নারী’ উপন্যাস, পদ্মার জলপদ্যে যেখানে আঁকা হয়েছে লোকায়েত জীবনের সরল বর্ণালী।
প্যানেল/মো.








