ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

কবিতা

হেমন্ত বাড়ি আছো

রেজা ফারুক

প্রকাশিত: ১৭:২৫, ১২ মার্চ ২০২৬

হেমন্ত বাড়ি আছো

হেমন্ত বাড়ি আছো, হে...ম...ন্ত... 
ডেকে ডেকে অবসন্ন ক্লান্ত এক নিরালা নির্জন মাঠ
পাশ ফিরে বসে আরো এক অরবতাজ¦লা।
দোচালা মাঠের উসারায়
বসে নিজেরই নিভন্ত আঁজলায়।

আজকাল কেউ আর হেমন্ত্রকে কোথাও দ্যাখে না
আজকাল হেমস্ত সারাদিনভর কোথায় যে
টো-টো করে ঘোরে:
কুয়াশার কারপার্কে একদিন অবেলায় মার্বেলের মতো
ছড়িয়ে পড়তে দেখা গিয়েছিল তাকে
একদিন ঠাঠা রোদ্দুরে
একদিন অঝোর বৃষ্টিতে ডুবে গিয়েছিল ছন্নছাড়া
হেমন্তর হতশ্রী মেঘ রঙছায়া।

হেমন্ত বাড়ি নেই, নাকি বাড়িটাই নেই আর হেমন্তের
এ রকম রত্নোজ্জ্বল দ্বিধার ভিতর
এ রকম পাতাঝরা বিকেলের লাল কানকোতে
রোঁয়া ঝরা সাদা ভোরের আস্তিনে
তারাজ¦লা সন্ধ্যায় হেমন্ত ফিরবে কিনা কেউই জানে না!

হেমন্ত বাড়ি আছো, হে...ম...ন্ত...
ডেকে ডেকে ঘুমিয়ে পড়েছে তারই চন্দ্রাহত
নির্জনতাজাগা গহন ধূসর কলস্বর! 

তোমার দিকে চেয়ে আছি
সোহরাব পাশা

‘একমাত্র তোমার দিকে চেয়ে আছি এখন
যে-রঙ পাইনি তুমি এনে দেবে।’
                             নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
চিরদিন কেউ ভুলে থাকে না সুন্দর
নিজস্ব ভ্রমণে ব্যস্ত চোখ
প্রিয় পথগুলি অন্যমুখী,
দুর্বোধ্য রঙের শৈলী
হলুদ স্মৃতির ঘ্রাণ
অসমাপ্ত গানের টুকরো
ভুল পাঠ
আগুনের ফুল, নিঃস্বতার
দীর্ঘ  ভিড়ে নির্জন কোলাহল;
অমীমাংসিত স্বপ্নের গল্প
মায়াপথ
পাতা ঝরা অন্ধ ছায়া
পৃথিবীর এখন নষ্ট সময়,
খুব একা একা সবদিন  হাঁটে
ব্যস্ততার তীব্র ভিড়ে দৌড়ুচ্ছে শহর
দৌড়ুচ্ছে মলিন সভ্যতা
দীর্ঘ অসময়।

 

সনেট : ২
গালিব সৈয়দ

নদীও উতলা হয় মাঝরাতে ঘন অন্ধকারে
রেশমি সুতায় আঁকা ফুলতোলা বালিশের বুক
ভরে ওঠে রঙিন ফুলের গন্ধে যমুনার তীরে!
সোনার খাঁচায় পাখি তড়পায় গোলাপি অসুখ
শোণিতে ছড়ায় দ্যুতি। কামিনীর ঝোপে মাদকতা
গন্ধের জোয়ারে ভাসে নিশি রাইতের চরাচর
গহীন রাতের আয়ু ক্ষয়ে যায় ভেঙে নীরবতা 
পুবে আঁতকা ধ্বনিত হয় ডাহুকের তীক্ষè স্বর।
নদীর ওপারে বসে বৈষ্ণবের কীত্তনের মেলা
বাতাসে ধূপের গন্ধ ছুটে চলে কীর্তনের সুরে
রতির তাগিদে ফুঁসে পৌরুষের ফণা এ অবেলা
নিঝুম ঘরের কোণে দংশন হানে অকাতরে।
অন্ধকারে ঢাকা আছে লাস্যময়ী ওই দেহধাম
লাজ নাই  দেখবে না-খুলে দাও পিঠের বোতাম। 

ক্যাম্পাসের মিথ 
সোহেল মাজহার 

না, আমরা কোনও সূর্যাস্ত দেখিনি 
আমরা জন্ম দিয়েছিলাম মিথ,
সিনেমার ক্যানভাস নয়, খণ্ড স্মৃতির ট্রেলার 
শুধু ক্যাম্পাসের গল্প। 

এখনো শ্যাওলায় পা পিছলে যেতে যেতে 
বৃষ্টি ইংলিশ রোডের মোড়ে লুটোপুটি খায়।
সিঁড়ি ও সেমিনারে নির্জনতা ভর করলে 
ক্লাসঘর টিচারের উপস্থিতি ভুলে যায়  
সবকিছুই পুরনো মিথ্যে প্রপঞ্চে ভরে আছে, 
হারানো কয়েনের বদলে কেউ কি খুঁজে নেবে 
চা-শিঙাড়ার উষ্ণ তাপ, পেন্সিল ইরেজার? 
ক্যাম্পাস আজও রাতদিন জেগে থাকে 
প্রতীক্ষার ছোট্ট শব্দের দীর্ঘ বিরহ নিয়ে 
এখনো প্রলাপ বকে ফেলে আসা দিন 
সমুদ্র ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ে মিছিল স্লোগান। 

না, স্মৃতি বলে আমাদের জীবনে কিছু নেই 
আহসান মঞ্জিলের দুর্গ দেয়ালে চিহ্ন ফেলে আসিনি 
স্বপ্নে দেখা কোনো গোপন প্রহরের কথা মনে নেই। 

না, আমরা কোনো সূর্যোদয়ের পর 
লবণ পানির বালি তীরে নাম চিহ্ন লিখিনি
দুর্গ প্রাকারের ক্ষয় দশার পরে 
আমরা জন্ম দিয়েছিলাম মিথ, ক্যাম্পাসের গল্প। 

প্যানেল/মো.

×