তমাল রায়চৌধুরী
পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র, নাটক ও মঞ্চ- তিন মাধ্যমের দাপুটে অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী মারা গেছেন। কলকাতার আর্টিস্ট ফোরামের অন্যতম সম্পাদক দেবদূত ঘোষ কলকাতার এক গণমাধ্যমকে বলেছেন, রবিবার রাতে ঘুমের মধ্যেই চলে যান এ অভিনেতা। তার বয়স হয়েছিল আশির কিছুটা ওপরে।
দেবদূত বলেন, গৃহপরিচারিকা এসে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে খবর দেন। তিনি এসে জানান, ঘুমের মধ্যেই চলে গিয়েছেন তমালদা।
এ রকম অভিনেতা টালিউড আর পাবে না। দেবদূত ঘোষের ভাষ্য, হৃদরোগ ছিল তমাল রায়চৌধুরীর, পেসমেকারও বসানো হয়েছিল। অসুস্থতা এবং বয়সজনিত কারণে দীর্ঘ দিন অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন তিনি। শহরের কেওড়াতলা মহাশ্মশানে অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন দেবদূত।
তমাল রায়চৌধুরীর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন অভিনেতা সুদীপ মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, তমালদার হাত দিয়ে বহু অভিনেতা-পরিচালকের জন্ম হয়েছে। আমি যতদূর জানি, পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘মেন্টর’ বা গুরু ছিলেন উনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সাহিত্য নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করেছেন। তার মতো রবীন্দ্র-সাহিত্য সম্পর্কে জ্ঞান খুব কম জনের আছে। তার ছায়ায় তৈরি বলেই ঋতুপর্ণ ঘোষ অত ভালো লিখতে পারতেন বলে শুনেছি। সব ধরনের সাহিত্যের ওপরে দখল ছিল তার। সুদীপের কাছে ব্যক্তি তমাল রায়চৌধুরী ছিলেন প্রচ- রসিক ও সাদামাটা মনের মানুষ। আর অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরীকে নিয়ে সুদীপ বলেন, যে কোনো চরিত্রে অনায়াসে তার অভিব্যক্তি উঠে আসত।
‘ক্যালকাটা পারফর্মার্স’ নামে নিজস্ব নাট্যদল ছিল তমাল রায়চৌধুরীর।
প্রয়াত অভিনেতার ঝুলিতে থেকে গেল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’, ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘জাতিশ্বর’, ‘রামধনু’, ‘নোবেল চোর’, ‘বড়া দিন’, ‘চাঁদের পাহাড়’, ‘জাতিস্মর’, ‘দ্য নেমসেক’-এর মতো বহু দর্শক নন্দিত সিনেমা। সিনেমা ছাড়াও টেলিভিশনের ধারাবাহিক সিরিয়ালে তিনি কাজ করেছেন; থিয়েটারের মঞ্চেও ছিলেন শক্তিশালী এক অভিনেতা।
প্যানেল হু








