বৃহস্পতিবার ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ০১ অক্টোবর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

অদম্য অকুতোভয় জনকণ্ঠ

  • তাপস মজুমদার

দেখতে দেখতে দৈনিক জনকণ্ঠ পা দিল চব্বিশে। যেটা দেখবার বিষয়, তা হলো দুরন্ত চব্বিশেও জনকণ্ঠ অদম্য, অকুতোভয়, আপোসহীন, অপরাজেয়, কোনদিন হার না মানা, মাথা নত না করা এক অক্লান্ত পথিক। তবে জনকণ্ঠের এই ক্লান্তিহীন নিরন্তর পথচলা কখনই ঠিক মসৃণ ও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর থেকেই দৈনিক জনকণ্ঠ এর সংবিধান, জাতীয় চার মূলনীতি- গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালী জাতীয়তাবাদের প্রতি আস্থা রেখেছে অবিচল ও অঙ্গীকারবদ্ধ। সুমহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি পাকিস্তান, সে দেশের সেনাবাহিনী, কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই, প্রতিক্রিয়াশীল আমলাতন্ত্র এবং তাদের এদেশীয় দোসর জামায়াতে ইসলামী, আলবদর, আলশামস, রাজাকারসহ পাকিস্তানপন্থীদের বিরুদ্ধে দৈনিক জনকণ্ঠ সর্বদাই ছিল সোচ্চার ও উচ্চকণ্ঠ। একইসঙ্গে মানবতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। ধর্র্মীয় সংস্কার, কূপম-ূকতা, ধর্ম-বর্ণ-জাতিবিদ্বেষসহ সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে জনকণ্ঠের লেখনী ছিল ক্ষুরধার ও আপোসহীন। ধর্ম-বর্ণ-জাতি সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলের সৌদার্হ্যপূর্ণ শান্তিপূর্ণ অবস্থানে উন্নত ও সুসমৃদ্ধ এক চির আকাক্সিক্ষত বাংলাদেশ জনকণ্ঠের কাক্সিক্ষত আদর্শ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরিপুষ্ট অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় জনকণ্ঠে সংগ্রাম থাকবে অব্যাহত। যাবতীয় ধর্মীয় মৌলবাদ, গোঁড়ামি, কূপম-ুকতা সর্বোপরি জঙ্গী ও সন্ত্রাসী তৎপরতা ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দৈনিক জনকণ্ঠ সবসময় তীব্র নিন্দা ও অসন্তোষ জানিয়ে আসছে, যা অব্যাহত থাকবে অদূর ভবিষ্যতেও। আমরা বাংলাদেশে ভয়ঙ্কর হলি আর্টিজানের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনই দেখতে চাই না। জনকণ্ঠের এই অদম্য ও অকুতোভয় সাহস ও দায়বদ্ধতার মূলে আছে এর অগণিত পাঠক, শুভানুধ্যায়ী এজেন্ট, বিজ্ঞাপনদাতা সর্বোপরি সর্বস্তরের জনগণ, যাদের অন্তহীন ভালবাসা ও অনুপ্রেরণায় জনকণ্ঠ সর্বদাই সামনে এগিয়ে চলার জন্য অনুপ্রাণিত।

দৈনিক জনকণ্ঠের প্রথম প্রকাশ ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩ ইংরেজী; বাংলা ৯ ফাল্গুন ১৩৯৯। দিনটি ছিল রবিবার। বাংলাদেশে বাংলা পত্রিকার ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল দিন। কেননা, এই প্রথম আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কল্যাণে একযোগে জনকণ্ঠ প্রকাশিত হতে শুরু করে যথাক্রমে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, সিলেট ও খুলনা থেকে। এর আগে দেশের কোন দৈনিক পত্রিকা এইভাবে প্রকাশিত হয়নি। ফলে রাজধানীর বাইরে অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে যখন ঢাকাকেন্দ্রিক দৈনিক পত্রিকাগুলো যেত রেল, বাস, লঞ্চ-স্টিমার ও ডাকযোগে দুপুরের পরে অথবা সন্ধ্যায়, সেই সময় সাত-সকালেই সেসব শহর-নগরের বাসিন্দারা দৈনিক জনকণ্ঠ হাতে পেতেন একেবারে তরতাজা টাটকা সর্বশেষ খবরাখবরসহ। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে এটি একটি বৈপ্লবিক ঘটনা। ফলে স্বভাবতই দৈনিক জনকণ্ঠের পাঠক সংখ্যাও রাতারাতি বেড়ে যায় হু হু করে এবং খুব শীঘ্রই পত্রিকাটি হয়ে ওঠে পাঠকধন্য। এ যেন অনেকটা সেই ভিনি ভিডি ভিসিÑ এলাম দেখলাম জয় করলাম আর কী!

শুধুই কী তাই? না, তা নয়। একযোগে পাঁচটি বা সাতটি শহর-নগর থেকে প্রকাশিত হলেই কোন একটি পত্রিকা পাঠকধন্য হয়ে বেঁচে থাকে না জনগণের হৃদয়ে, যদি না তার কমিটমেন্ট থাকে। বাস্তবে ও আদর্শে অনুসৃত জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাই পত্রিকাটিকে এতদিন পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছে দেশের অগণিত পাঠকের হৃদয়-মন ও মননে। কী সেই কমিটমেন্ট বা দায়বদ্ধতা জনগণের প্রতি? দেশ ও জাতির প্রতি? সর্বোপরি আধুনিক রাষ্ট্রযন্ত্র ও বিশ্বের প্রতি?

এই কথাই স্বল্প পরিসরে চুম্বকার্থে বলার চেষ্টা করব। প্রথমত বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ। সবাই জানেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ প্রেক্ষাপটে ত্রিশ লাখ শহীদান ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও আত্মপ্রকাশ। ১৯৭২ সালে জনগণ কর্তৃক প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে বিরচিত ও গৃহীত জাতীয় সংবিধান তারই পবিত্র আমানত। সংবিধানে অনুসৃত জাতীয় চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতিÑ গণতন্ত্র, বাঙালী জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র তথা সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতা বিধান। জনকণ্ঠ এর প্রতি তার দায়বদ্ধতা সমুন্নত রেখেছে সর্বদাই। এর পাশাপাশি সবরকম ধর্মীয় মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদী কার্যক্রম, ধর্মান্ধতা, সামাজিক কুসংস্কার ও কূপম-ূকতার বিরুদ্ধে জনকণ্ঠ অবিচল থেকেছে সারাক্ষণ।

সত্যি বটে, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পরপরই স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামসহ আলবদর, আলশামস, রাজাকার, মুসলিম লীগ ও পাকিস্তানপন্থী কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র শুরু করে এদেশের বিরুদ্ধে। একাত্তরে পরাজিত শক্তি পাকিস্তানও থেমে থাকেনি। পঁচাত্তরপরবর্তী সামরিক তথা সেনা শাসনের ছত্রছায়ায় বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সহযোগিতায় সংগঠিত হতে থাকে এরা। ‘সাহাবা-ই-সিপাহী’ নামের অন্তরালে এসব দেশবিরোধী ব্যক্তি এসে উঠত রাজধানীর ফকিরাপুলের বিভিন্ন হোটেলে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তথ্যবহুল খবরাখবর প্রকাশিত হতে থাকে দৈনিক জনকণ্ঠে। একই সময়ে দেশবিরোধী চক্র উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত ব্র্যাক পরিচালিত উপানুষ্ঠানিক স্কুলগুলো হামলা চালিয়ে পুড়িয়ে দিতে থাকে। উল্লেখ্য, এসব স্কুলে লেখাপড়া করত একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের ছোট শিশুরা, দরিদ্র ও ছিন্নমূল বলতে যা বোঝায় তাই। তথাকথিত ভুঁইফোঁড় মোল্লাদের অভিযোগ ছিল, এসব স্কুলে লেখাপড়া করলে ছেলেমেয়েরা খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করবে, যা ছিল সর্বৈব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে তারা রাস্তার দু’পাশের গাছ-গাছালি নির্বিচারে কেটে সাফসুতরো করে ব্র্যাকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী বানচাল করে দেয়। তারা এমনকি ব্র্যাক পরিচালিত বিনামূল্যের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোও বন্ধ করে দেয়। জনকণ্ঠ মোল্লাদের এহেন অপকর্র্ম নিয়ে সচিত্র সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা পরবর্তীতে সাড়া জাগায় দেশব্যাপী। সমসময়ে ঘটে সিলেটের বহুল আলোচিত নূরজাহানকে ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগ এনে ফতোয়ার মাধ্যমে পাথর ছুড়ে মারার ঘটনা। নূরজাহান হত্যাকা- দেশব্যাপী আলোড়ন তোলে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে সাড়া জাগানো এই ঘটনা অবলম্বনে কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন তিন খ-ের একটি ট্রিলজি লেখেন, যা হয় বহু প্রশংসিত একটি প্রামাণ্য দলিল। অন্য অনেক কিছুর মতোই জনকণ্ঠ জাতির সামনে নূরজাহান ইস্যুটিকে অকুতোভয়ে মেলে ধরে প্রতিকার ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।

তথাকথিত একশ্রেণীর মোল্লা-মৌলভীর ফতোয়ার বিরুদ্ধে জনকণ্ঠ সর্বদাই যেমন সোচ্চার ছিল, তেমনি সরব ও সোচ্চার ছিল দেশব্যাপী অপচিকিৎসা-ঝাড়-ফুঁক, পানিপড়া, তেলপড়া, টোটকা ও হাতুড়ে চিকিৎসার বিরুদ্ধে। এতে যে আদৌ কোন কাজ হয় না; বরং গরিব ও সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়, তা সবসময় পাঠকের কাছে তুলে ধরেছে জনকণ্ঠ। তাবিজ-কবজ, দোয়া-কালাম, মন্ত্র-তন্ত্রÑ এসবই যে বুজরুকি এবং পবিত্র ধর্মের নামে ধোঁকাবাজি তথা কুসংস্কার, তা জনসমক্ষে তুলে ধরা দায়িত্ব মনে করেছে পত্রিকাটি।

জনকণ্ঠের আদর্শ, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে হলে ১৯৯৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সম্পাদকীয় নিবন্ধের অংশবিশেষ তুলে ধরা জরুরী।

জনকণ্ঠের অঙ্গীকার

‘দৈনিক জনকণ্ঠ’ হবে প্রকৃত অর্থেই জনগণের কণ্ঠÑ দুর্নীতি-অন্যায়-অবিচার, নির্যাতন-নিপীড়ন, অসত্য ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সংগ্রামে জনগণের ঝলসে ওঠার শাণিত হাতিয়ার। সকল শ্রেণী, পেশা, গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, সমস্যা-সঙ্কট, চাহিদা-ফরিয়াদ সততার সঙ্গে প্রতিফলিত হবে ‘দৈনিক জনকণ্ঠে’। কোন দল বা মতের অন্ধ অনুসারী না হয়ে বিভিন্ন দল ও মতের খবর প্রকাশে নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করবে এ পত্রিকা। জাতীয় ইস্যুতে, জাতীয় সঙ্কট ও সমস্যা মোকাবেলার প্রশ্নে যাঁরা দলীয় সঙ্কীর্ণতার উর্ধে অবস্থান নিতে পারবেন, দলীয় ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের পরিবর্তে দেশ ও জাতির স্বার্থকে প্রাধান্য দেবেন, তাঁদের মুক্ত চিন্তা-চেতনার বাহন হবে এ পত্রিকা। কঠোর নিরপেক্ষতার সঙ্গে এর নীতি হবে বস্তুনিষ্ঠ, তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। অর্থাৎ দৈনিক জনকণ্ঠের মূল উদ্দেশ্য হবে দেশ ও জাতির সর্বাঙ্গীণ উন্নতি ও সমৃদ্ধি।

আমাদের মতো অনগ্রসর অনুন্নত দেশে একটি পত্রিকার ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকবে ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’। সরকারের ভাল কাজের প্রশংসার পাশাপাশি এতে থাকবে যে কোন মন্দ কাজের সমালোচনা। একই নীতি অনুসৃত হবে বিরোধী দল সম্পর্কেও। বিরোধী দলসমূহ সংসদের ভেতরে-বাইরে জনস্বার্থে সোচ্চার থাকছে কি না, গণতান্ত্রিক আচরণ করছে কি না, সেদিকেও তীক্ষè দৃষ্টি রাখা হবে। সকলের প্রতি ‘দৈনিক জনকণ্ঠে’র পরামর্শ হবে গঠনমূলক। বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে দেশ ও জাতির সামনে সঠিক দিক-নির্দেশনা তুলে ধরার প্রয়াসী হবে ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের সুমহান ঐতিহ্যই হবে সেসব দিক-নির্দেশনার ভিত্তি।

দুর্নীতি-অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে, সামাজিক কুসংস্কার-সঙ্কীর্ণতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে আপোসহীন সংগ্রামের পতাকা তুলে ধরবে ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’। সরকার বা কোন দল কোন নেতা-নেত্রী কিংবা গোষ্ঠীর আনুকূল্য লাভ অথবা কারও তল্পী বহনের পরিবর্তে গণমানুষের স্বার্থরক্ষা ও জনমতের সঠিক প্রতিফলনে ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’ থাকবে সদা সচেষ্ট ও যতœবান। অশিক্ষার অন্ধকার দূরীকরণ ও শিক্ষা বিস্তারেও ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’ রাখবে বিশেষ অবদান।

বিশ্বের দেশে দেশে আজও চলছে শোষণ আর নানা ধরনের নিপীড়ন, জাতিগত ও ধর্মীয় সংঘাত, মানবতা হচ্ছে লাঞ্ছিত, লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার। বিশ্বব্যাপী শোষণ-নিপীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’ হবে সোচ্চার।

নববর্ষে বোমা হামলা ও টেলিগ্রাম

পয়লা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল, ২০০১) রমনা বটমূলে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণের মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রকাশিত জনকণ্ঠের টেলিগ্রাম সারাদেশের অগণিত পাঠকের অভিনন্দন ও প্রশংসা অর্জনে সক্ষম হয়। এদিন ছুটির দিন ছিল বিধায় জনকণ্ঠসহ সব পত্রিকা অফিস স্বভাবতই বন্ধ ছিল। সেই হিসেবে দ্রুত মুদ্রণ বিভাগসহ সব স্টাফের সঙ্গে যোগাযোগ করে টেলিগ্রাম প্রকাশ ছিল অত্যন্ত দুরূহ কাজ। তবে জনকণ্ঠ তা খুব দ্রুতই করতে সক্ষম হয় এবং বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে টেলিগ্রামটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বগুড়া থেকে প্রকাশিত হয় একযোগে। টেলিগ্রামটি চিরাচরিত দু’ পাতার না হয়ে চার পাতার হওয়ায় তা কার্যত একটি দৈনিকে রূপ নেয়। সর্বোপরি ব্যাপক পাঠকনন্দিত হওয়ায় পরদিনও টেলিগ্রামটি পুনর্মুদ্রিত হয়। ঐতিহ্যবাহী বাংলা নববর্ষ পালন উপলক্ষে রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানস্থলে বোমা বিস্ফোরণের মর্মান্তিক ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে জনকণ্ঠ দেশের দু’জন বিশিষ্ট ব্যক্তি কবি শামসুর রাহমান ও শিক্ষাবিদ কবির চৌধুরীর বক্তব্য প্রকাশ করে।

১৯৯৯ সালের ৮ আগস্ট জনকণ্ঠ ভবনে রাখা ভয়ঙ্কর একটি এ্যান্টি ট্যাঙ্ক মাইন শনাক্ত হয়। ৩ কেজি ওজনের ৯২ মি. মি. উচ্চতা, ২ দশমিক ২২ ডায়ামিটারের সেই এ্যান্টি ট্যাঙ্ক মাইনটি পরে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল তাদের প্রশিক্ষণ এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিনষ্ট করে। সিআইডি ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করলেও পরে অজ্ঞাত কারনে তা আর এগোয়নি। অথচ মাইনটি বিস্ফোরিত হলে জনকণ্ঠ ভবন সেদিন ধূলিসাত হয়ে যেত। ২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালিপাড়ায় হেলিপ্যাডের কাছে পুঁতে রাখা দুটি বোমা শনাক্ত করে নিষ্ক্রিয় করা হয়। তার কিছু আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল।

মৌলবাদী জঙ্গী কার্যক্রম

দীর্ঘ দিন যাবত জনকণ্ঠ দেশের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর খবরাখবর প্রকাশ করেছে। তখন কুচক্রী মহল বলেছে, এসব তথ্য মনগড়া, বানোয়াট। অস্ত্রের চোরাচালানের খবরও যখন গুরুত্বসহ প্রকাশ করা হয়, তখনও অনেক কথা বলা হয়েছে। অথচ দেশবাসী দেখেছে অস্ত্রবাজি, বোমাবাজি আর মৌলবাদী ধর্মীয় গ্রুপগুলোর দানবীয় ছোবল। এসব অপশক্তির তৎপরতাই দেশব্যাপী এখন আলোচনার বিষয়। অথচ জনকণ্ঠ এসব বিষয় নিয়ে অনেক আগে থেকেই লেখালেখি করেছে, রিপোর্ট ছেপেছে। আর এখানেই জনকণ্ঠের কৃতিত্ব ও সার্থকতা।

জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা

ধর্মীয় কূপম-ূকতা, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, মৌলবাদী-জঙ্গীবাদী কার্যক্রম, ভূমিদস্যুদের দখলবাজি, ফতোয়াবাজির পাশাপাশি দুর্নীতি ও ঋণখেলাপী নিয়ে জনকণ্ঠে বহু রিপোর্ট, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, সম্পাদকীয় নিবন্ধ ও উপসম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। জনকণ্ঠের ওপর নাখোশ হয়ে ৪ দলীয় জোট সরকার সরকারী বিজ্ঞাপন পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল কয়েক বছর। ১২ মে ১৯৯৪ তারিখে প্রকাশিত একটি উপসম্পাদকীয়কে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে পবিত্র কোরআনের অপব্যাখ্যা এবং মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে ২৯৫(ক) ধারায় ৮ জুন, ১৯৯৪ বুধবার সিএমএম আদালতে মামলা দায়ের করা হয় একটি পত্রিকার পক্ষ থেকে। তৎকালীন সিএমএম আদালত সেদিনই জনকণ্ঠের সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ (এম এ খান মাসুদ), উপদেষ্টা সম্পাদক তোয়াব খান, নির্বাহী সম্পাদক বোরহান আহমেদ এবং সহকারী সম্পাদক এটিএম শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে জারি করেন গ্রেফতারী পরোয়ানা। এ দিন দুপুরে মতিঝিলের জনকণ্ঠ অফিস থেকে উপদেষ্টা সম্পাদক তোয়াব খান ও নির্বাহী সম্পাদককে এবং পরে কলাম লেখককে পুলিশ গ্রেফতার করে। বিকেলে সিএমএম আদালতে হাজির করার পর জামিনের জন্য অর্ধশতাধিক আইনজীবী দাঁড়ালেও তা নাকচ করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। পরে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ জনকণ্ঠ সম্পাদক ও প্রকাশকের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন।

প্রকৃতপক্ষে ওই উপসম্পাদকীয়তে তুলে ধরা হয়েছিল গ্রামাঞ্চলে একশ্রেণীর ফতোয়াবাজ পবিত্র কোরআনের অপব্যাখ্যা দিয়ে কিভাবে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। দুর্ভাগ্য হলো, একটি দৈনিক উপসম্পাদকীয়টির উল্টো অর্থ করে সেটিকেই কোরআনের অপব্যাখ্যা হিসেবে অভিযুক্ত করে দেশব্যাপী ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। তারই ধারাবাহিকতায় সরকারের অনুমোদনক্রমে এই মামলা দায়েরের ঘটনা। এর আগের শুক্রবার একটি মিছিল থেকে জনকণ্ঠ অফিসে হামলাও চালানো হয়। এ নিয়ে তখন দেশব্যাপী তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয় এবং শেষ পর্যন্ত মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। ১/১১ ॥ জরুরী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রোষানলে জনকণ্ঠ সম্পাদক

দেশে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ১/১১-এর সেনাসমর্থিত জরুরী তত্ত্বাবধায়ক আমলেও সরকারের রোষানলে পড়েন জনকণ্ঠ সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ (এম এ খান মাসুদ)। যৌথ বাহিনীর একটি দল ২০০৭ সালের ৭ মার্চ বুধবার রাতে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় জনকণ্ঠ অফিস থেকে কর্র্মরত অবস্থায়। উপরের নির্দেশে তারা তা করেছে বলে জানায়। কোন পত্রিকা অফিস থেকে সম্পাদককে গ্রেফতারের ঘটনা দেশে এটাই প্রথম। এতে দেশব্যাপী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয় জনকণ্ঠ সম্পাদকের গ্রেফতারের বিষয়টি। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়ের করা সম্পদ সংক্রান্ত ছয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিলের পর দীর্ঘ ২২ মাস ১২ দিন পর বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিকউল্লাহ খান মাসুদ কারাগারের বাইরে বেরিয়ে এলে বীরোচিত সংবর্ধনা লাভ করেন। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘মাত্র ছয় মামলায় আমাকে ৪৮ বছর জেল দেয়া হয়েছে এবং হাস্যকর অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে ৪২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জীবনে কোন সরকারী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, কোন রকম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। দেশের ১৫ কোটি মানুষ এই অভিযোগ বিশ্বাস করে না।’

দেশবাসী ভাল করেই জানেন যে, জনকণ্ঠ প্রকাশের পর থেকেই সব রকম দুর্নীতি, অনিয়ম, অন্যায় ও সকল রকম কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে। প্রায় সব সরকারের আমলেই যে অন্যায়, দুর্নীতি ও গডফাদার কালচারের সৃষ্টি হয়, তার বিরুদ্ধেও কিন্তু প্রথম ও একমাত্র বলিষ্ঠ কণ্ঠ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ (এম এ খান মাসুদ) সম্পাদিত জনকণ্ঠ। দেশবাসী ভালভাবেই জানেন, ২০০১-এর বহু বিতর্কিত নির্বাচনের পর সারাদেশে একরকম হাবিয়া দোজখ নেমে আসে। জামায়াত-বিএনপির ভিন্ন মতাবলম্বী ও সংখ্যালঘু শ্রেণীর ওপর নেমে আসে ভয়াবহ নির্মম নির্যাতন। এহেন মধ্যযুগীয় বর্বরতা, হত্যা-নির্যাতন-লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে এ সময় কেবল একটি কণ্ঠই যাবতীয় ভয়ভীতির উর্ধে উঠে, সকল চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে উচ্চকণ্ঠে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আর সেটি জনকণ্ঠ। দেশে জঙ্গীবাদী কার্যক্রম ও বোমাবাজির বিরুদ্ধে সর্বদাই জীবনবাজি রেখে সংগ্রাম চালিয়েছে জনকণ্ঠ ও তার সম্পাদক। আর ভাগ্যের পরিহাস এই যে, তার বিরুদ্ধেই কিনা আনা হলো দুর্নীতি ও সম্পদ সংক্রান্ত মিথ্যা এবং বানোয়াট অভিযোগ! তবে শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে সত্যের। জয় হয়েছে জনগণের।

ক্ষমা চায়নি জনকণ্ঠ

‘সাকার পরিবারের তৎপরতা ॥ পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে দৈনিক জনকণ্ঠে ১৬ জুলাই, ২০১৫ একটি উপসম্পাদকীয় প্রকাশ করার প্রেক্ষিতে দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ (এম এ খান মাসুদ) এবং নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল মোতাবেক নোটিস ইস্যু করেন আপীল বিভাগ। ৩ আগস্ট সকালে তাদের সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট আপীল বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।

কী ছিল ওই নিবন্ধে? ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা ॥ পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় লেখেন : ’৭১-এর অন্যতম খুনী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। নিষ্পাপ বাঙালীর রক্তে যে গাদ্দারগুলো সব থেকে বেশি হোলি খেলেছিল, এই সাকা তাদের একজন। এই যুদ্ধাপরাধীর আপীল বিভাগের রায় ২৯ জুলাই। পিতা মুজিব তোমার কন্যাকে এখানেও ক্রুশে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই যদি না হয়, তাহলে কিভাবে যারা বিচার করছেন সেই বিচারকদের একজনের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে সালাউদ্দিন কাদেরের পরিবারের লোকরা? তারা কোন পথে বিচারকদের কক্ষে ঢোকে? আইএসআই ও উলফার পথে না অন্য পথে? ভিকটিমের পরিবারের লোকদের কী কখনও কোন বিচারপতি সাক্ষাত দেয়। বিচারকদের এথিকসে পড়ে।’...

এসব বিষয় আমলে নিয়েই ২৯ জুলাই সাকা চৌধুরীর আপীলেও মৃত্যুদ- বহাল রাখার পর পরই জনকণ্ঠের সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদককে তলব করে আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে রুলও জারি করেন আপীল বিভাগ।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৩ আগস্ট জনকণ্ঠের সম্পাদক, মুদ্রাকর ও প্রকাশক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ (এমএ খান মাসুদ) এবং নিবন্ধের লেখক স্বদেশ রায় আদালতে উপস্থিত হন এবং তিন মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত এক সপ্তাহের সময় দেন। পরে রবি ও সোমবার শুনানি শেষে ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার আদালত আদেশ প্রদান করেন। আদেশে আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন এজলাসে জনকণ্ঠের সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদককে বসে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। তাঁরা তা পালন করেন। একই সঙ্গে আদালত তাদের দশ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা যে কোন দাতব্য সংস্থায় দান করতে বলা হয়। জরিমানা অনাদায়ে জনকণ্ঠের সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদককে সাত দিন কারাভোগ করতে হবে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপীল বেঞ্চ এই রায় দেন।

দৈনিক জনকণ্ঠের আদালত অবমাননা মামলায় ক্ষমা না চেয়ে মামলা মোকাবেলা করাটা দেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে একটি ইতিবাচক দিক। সত্য লিখেও এর আগে সবাই ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু জনকণ্ঠ আইনী লড়াই করার মাধ্যমে সাংবাদিকতার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। এদিক থেকে জনকণ্ঠের আইনী লড়াইটা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য একটি মাইলফলক।

সুপ্রীমকোর্টের ইতিহাসে এই প্রথম কোন মানহানি মোকদ্দমা কনটেস্ট হলো। এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা। সকল প্রকার ঝুঁকিকে সামনে রেখে জনকণ্ঠ অবিচল থেকেছে সত্য প্রকাশে। বস্তুনিষ্ঠ ওই নিবন্ধটি আদালতের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল শুধুমাত্র প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে। আদালতে তথ্য প্রমাণ উপস্থাপিত হলে প্রধান বিচারপতি স্বীকার করে নেন যে তাঁর সঙ্গে সাকা চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা দেখা করেছি?। সেসব তথ্য টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকায় ব্যাপক প্রচার পেয়েছে। এই লড়াইয়ে একটি পত্রিকা হিসেবে জনকণ্ঠ সামগ্রিক পেশার মর্যাদা রক্ষার জন্যই নৈতিক দায়িত্ব পালন করেছে।

ভয়ঙ্কর হলি আর্টিজান ’১৬ ॥ শোক ও প্রতিরোধ

জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতসহ আনুষ্ঠানিক শিষ্টাচারের মাধ্যমে পালিত হয়েছে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় শোক। সমগ্র দেশ ও জাতি শোকে মুহ্যমান। রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তরাঁয় শুক্রবার রাতের (১ জুলাই, ২০১৬) শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সঙ্কটের করুণ সমাপ্তি ঘটেছে শনিবার প্রত্যুষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সম্মিলিত বাহিনীর সফল কমান্ডো অভিযানের মাধ্যমে। ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ শেষে সেনা সদর সূত্রে জানা যায়, তিন বিদেশীসহ ১৩ জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। রেস্তরাঁর ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২০ জনের মৃতদেহ, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইতালীয় ৯ জন, জাপানী ৭ জন, ভারতীয় ১ জন, দু’জন বাংলাদেশী এবং একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আমেরিকান। নিহতদের তলোয়ার দিয়ে জবাই করে ও খুঁচিয়ে নির্মম-নৃশংসভাবে হত্যা করে জঙ্গীরা, যাদের মধ্যে আছেন নারীও। ঘটনার শুরুতেই ওই রেস্তরাঁয় খোঁজ-খবর নিতে গেলে জঙ্গীদের অতর্কিত বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণে নিহত হন পুলিশের দু’জন উর্ধতন কর্মকর্তা। সব মিলিয়ে দুই পুলিশসহ নিহত ২৮, আহত প্রায় ৫০ জন। যারা সিএমএইচসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সম্মিলিত বাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় ছয় জঙ্গী। সন্দেহভাজন এক জঙ্গীকে আটক করা হয় জীবিত অবস্থায়। এসবই সম্ভব হয়েছে সরকার প্রধানের সময়োচিত, দৃঢ়, সাহসী সিদ্ধান্ত ও সঠিক দিকনির্দেশনার জন্য। অভিযানের সফল সমাপ্তির পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত এক ভাষণে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা করেন দু’দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক।

বর্তমান সরকার সব সময়ই ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদসহ যাবতীয় জঙ্গী তৎপরতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। দেশে বেশ কিছুদিন ধরে কয়েকজন ব্লগার, প্রকাশক-লেখক, ভিন্ন মতের অনুসারীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সাধু-পুরোহিত-সেবায়েত হত্যাকা-ের পর সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বসে থাকেনি। বরং ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গী তৎপরতা প্রতিরোধ করতে যৌথ বাহিনীর নেতৃত্বে সারাদেশে পরিচালিত করেছে চিরুনি অভিযান। তাতে বেশকিছু সংখ্যক জঙ্গী, সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী ধরাও পড়েছে। তবে এর বাইরেও যে সন্ত্রাসী ও জঙ্গী রয়ে গেছে, গুলশানের ঘটনা তারই প্রমাণ। পুলিশের আইজিপি বলেছেন, গুলশানের ঘটনায় নিহত ছয় জঙ্গী তালিকাভুক্ত পলাতক আসামি এবং তাদের গডফাদারও আছে। সুতরাং ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গী তৎপরতা নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবেই অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন, ‘আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। ত্রিশ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আমরা যে কোন মূল্যে রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ বরাবরই ধর্মীয় উদারতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক সহমর্মিতা, পরমতসহিষ্ণুতার দেশ হিসেবে সুপরিচিত। মূলত এসব মানবিক মৌলনীতির ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। তবে দুঃখজনক হলো ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পরই সামরিক স্বৈরাচার হিসেবে ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনীতিতে তথাকথিত ধর্মের নামে শুরু হয় অপতৎপরতা। এ সময়ে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মীয় পুঁজিসর্বস্ব কতিপয় দল ও ব্যক্তি পুনর্বাসিত হয়। একাত্তরে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানের আইএসআইও অর্থ ও শক্তি যোগাতে থাকে তাদের। সর্বশেষ স্বাধীনতাবিরোধী মানবতাবিরোধী একাত্তরের ঘৃণ্য ঘাতকদের বিচার ও মৃত্যুদ- কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হলে তারা হয়ে ওঠে বেপরোয়া। দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াসহ নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টায় বাসে বোমা হামলা, পেট্রোল বোমায় দেড় শতাধিক নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মারাসহ বিভিন্ন সময়ে ভিন্নমত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কুপিয়ে হত্যায় মেতে ওঠে তারা। ইতোপূর্বে শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলাসহ সর্বশেষ গুলশানে জঙ্গী হামলা- এসবই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ মাত্র। জেএমবি, আনসার উল-ইসলাম, হরকাতুল মুজাহিদীন, হিজবুত তাহরীর প্রকারান্তরে শিবির-জামায়াতের সম্প্রসারিত অংশ এবং আইএসআইয়ের মদদপুষ্ট। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, এরা বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করতে চায়।

ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গী দমনে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। গুলশান ঘটনার পরপরই ভারত, জাপান, ইতালী ও অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। এখন দেশের ষোলো কোটি মানুষের অবশ্য কর্তব্য হবে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে বর্তমান সরকারের পাশে দাঁড়ানো। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি ও কমিউনিটি পুলিশ গঠন করে যাবতীয় সন্ত্রাসের মোকাবেলা করতে হবে। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এর বিকল্প নেই।

অস্ত্র ও অর্থের উৎস বন্ধ করতে হবে

জল্পনা-কল্পনা ছিল প্রায় শুরু থেকেই। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক তদন্তে আভাসও মিলেছে। এবার মিলেছে প্রমাণ। ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান এবং কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ভয়াবহ জঙ্গী সন্ত্রাসী হামলার অস্ত্র এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মালদহ থেকে। আর অর্থ এসেছে দুবাই থেকে হুন্ডির মাধ্যমে। প্রেরক এক পাকিস্তানী নাগরিক। গোটা প্রক্রিয়াটির তদারকি ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছে কুখ্যাত পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএর বরাতে চাঞ্চল্যকর ও আন্তঃদেশীয় এসব তথ্য উপাত্ত জানা গেছে। তার আগে পশ্চিবঙ্গ পুলিশ খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর পালিয়ে যাওয়া ৬ জঙ্গীকে গ্রেফতার করে। ধৃত জঙ্গীদের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশী। একজন ত্রিশালে প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে তিন জেএমবি সদস্যকে ছিনিয়ে নেয়ার মূল পা-া। ২০১৪ সালের পর থেকেই এসব জঙ্গী পলাতক ছিল পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও অন্যত্র। অতঃপর আটক ছয় জঙ্গীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গী হামলার অস্ত্র ও অর্থ সংক্রান্ত প্রাপ্ত তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করে দেখছেন এনআইএর কর্মকর্তারা। ঢাকার গোয়েন্দা সংস্থাও তাদের সঙ্গে সর্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সন্ত্রাসী জঙ্গী গোষ্ঠীরা আন্তঃদেশীয় যোগাযোগটি বিশাল ও সমৃদ্ধ। তারা খুব সহজেই সীমান্ত পেরিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত করতে সক্ষম। দীর্ঘদিন একে অন্যের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পালিয়ে বেঁচে থাকতে পারে। জঙ্গীদের নেটওয়ার্ক এতই শক্তিশালী যে, তারা ভিন্নœ দেশ, ভিন্ন ভাষী লোকজনের সহায়তা নিয়ে সঙ্গোপনে সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ, বোমা বানাতেও পারঙ্গম। সর্বোপরি তাদের অর্থেরও আদৌ কোন অভাব নেই। এখানে মনে রাখতে হবে যে, গোটা কার্যক্রমই পরিচালিত হচ্ছে একেবারে অবৈধ প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে। নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নাকের ডগায়। সর্বোপরি বিজিবি-বিএসএফ সমৃদ্ধ দুর্ভেদ্য কাঁটাতার ও কঠোর সীমান্ত নজরদারি এড়িয়ে। খুব ক্ষমতাশালী এবং প্রভাব বিস্তারকারী মহল থেকে সরাসরি অর্থ সহায়তাসহ পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এই ধরনের জঙ্গী কার্যক্রমের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং হামলা চালানো এক কথায় দুরূহ ও অসম্ভব। আর এ কারণেই এসব ক্ষেত্রে বার বার উচ্চারিত হয়ে থাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের নাম।

আটককৃত জঙ্গীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গুলশান হামলায় ব্যবহৃত একে-২২ রাইফেল তৈরি হয় মালদহের একটি কারখানায়। সেখানে বিহারের মুঙ্গের থেকে আগত অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের প্রশিক্ষণ দিতে আসেন পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পশতুভাষী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী আদম খেলের অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা। এই গোষ্ঠীর কাছ থেকে তালেবান, দাওয়াতুল ইসলাম, জামা’আতুল ইসলামসহ সন্ত্রাসী জঙ্গী সংগঠনগুলো চোরাই অস্ত্র ও গোলাবারুদ পেয়ে থাকে নিয়মিত। মালদহে জেএমবির একটি ঘাঁটিতে এসব অস্ত্র তৈরির পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তপথে প্রবেশ করে বাংলাদেশে।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান বিভিন্ন সময়ে হীন প্রচেষ্টা চালিয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তৎকালীন সরকারের ছত্রছায়ায় গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এ দেশে ঘাঁটি গেড়ে বসে এবং বিভিন্ন জঙ্গী গোষ্ঠীকে মদদ দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও হামলা চালাতে উৎসাহিত করে। এরই চূড়ান্ত বহির্প্রকাশ ঘটে গুলশানে হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ায় হামলার মাধ্যমে। এর পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধী মানবতাবিরোধীদের বিচার ও দ- কার্যকরের প্রক্রিয়ায়ও তারা অহেতুক নাক গলাতে থাকে। ফলে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে শুরু হয় টানাপোড়েন। সর্বশেষ, বাংলাদেশ ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বয়কট করে। একই সময়ে ভারতও কাশ্মীরে উরি হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদদ দানের ঘটনায় বর্জন করে সার্ক সম্মেলন। জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দানের অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তান সরকারের ভেতর থেকেই। সম্প্রতি সে দেশের মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে সরাসরি সেনাবাহিনীর দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলে বলা হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই পাকিস্তান ‘একঘরে’ হয়ে পড়বে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। গণমাধ্যমে এগুলো ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বরখাস্ত করা হয়েছে সে দেশের তথ্যমন্ত্রীকে। এক টিভি সাক্ষাতকারে পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খারও বলেছেন, ‘সেনা শিবির হয়ে উঠেছে জঙ্গীদের আঁতুড়ঘর।’ এ অবস্থায় পাকিস্তান যদি অবিলম্বে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা বন্ধ না করে তাহলে আগামীতে আরও বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে। সার্কের সদস্য হিসেবে পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশগুলোতে জঙ্গী গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দেয়া বন্ধ করবে বলেই প্রত্যাশা। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আরও সতর্ক ও তৎপর হতে হবে। তা না হলে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ করা যাবে না। হুমকির মুখে পড়বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব।

করোনাভাইরাস আপডেট
বিশ্বব্যাপী
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
৩৩৮৭৫৯৯৩
আক্রান্ত
৩৬৩৪৭৯
সুস্থ
২৫১৭২৯৭১
সুস্থ
২৭৫৪৮৭
শীর্ষ সংবাদ:
মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসি ॥ বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যা মামলা         ট্রাম্প-বাইডেন প্রথম নির্বাচনী বিতর্কে তিক্ততা, বিশৃঙ্খলা         সরকার দেশের স্বার্থে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিচ্ছে ॥ অর্থমন্ত্রী         শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও বাড়ছে         কোমল পানীয়ের নামে আমরা কী খাচ্ছি?         আলোচনার শীর্ষে টিলাগড় ॥ দুই আসামি রিমান্ডে         বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বিমান চলাচল চুক্তি সই         জাপানী বড় বিনিয়োগের হাতছানি         ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আজ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন         ১৬ কোটি মানুষের একমাত্র আশা ভরসা শেখ হাসিনা         চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারক গ্রেফতার         জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ         একাদশ সংসদের ৬১ শতাংশ সদস্যই ব্যবসায়ী         বিকাশের টাকা ডাকাতির ঘটনায় গাড়িসহ ৪ জন গ্রেফতার         বাংলাদেশ কখনো জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         ৪ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালন করবে ডিএনসিসি’         দেশের স্বার্থে সরকার ব্যবসায়ীদের পক্ষে সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে : অর্থমন্ত্রী         জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে ব্র্যাক ব্যাংক         ফাঁসির রায় ॥ পুলিশ হেফাজতে মিন্নি         ‘বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামের লক্ষ্য নির্ধারণেই ব্যর্থ, আন্দোলন তো সুদূর পরাহত’