আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ১৭.২ °C
 
১৭ জানুয়ারী ২০১৭, ৪ মাঘ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেন লতিফ সিদ্দিকী

প্রকাশিত : ২ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১২:২৮ এ. এম.

সংসদ রিপোর্টার ॥ মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ খোয়ানোর পর সবশেষে সংসদ সদস্য পদটি গেল আলোচিত-সমালোচিত রাজনীতিক আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর। মঙ্গলবার আকস্মিকভাবেই সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে ১৫ মিনিটের আবেগঘন এক বক্তৃতা শেষে স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ থেকে তার পদত্যাগপত্র স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে জমা দিয়েছেন।

৭৫ কার্যদিবস পর সংসদে যোগ দিয়েই নিজেকে মুসলমান, বাঙালী ও আওয়ামী লীগার দাবি করে বক্তৃতায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সবশেষে বলেন, আমার কোন আচরণে দেশবাসী দুঃখ পেয়ে থাকলে দেশবাসীর কাছে নতমস্তকে ক্ষমা চাচ্ছি। নেত্রীর ইচ্ছার প্রতি সম্মান রেখে আমি আমার আসন থেকে পদত্যাগ করছি। বক্তব্যে শেষে সংসদের কর্মীদের মাধ্যমে স্পীকারের কাছে তার পদত্যাগপত্রটি পাঠিয়ে দেন। পদত্যাগপত্রটি অধিবেশনে পড়বেন কিনা, লতিফ সিদ্দিকী তা জানতে চাইলে স্পীকার বলেন, তার কোন প্রয়োজন নেই। বক্তব্য শেষ হওয়ার পর সংসদ ভবন ত্যাগ করেন লতিফ সিদ্দিকী। যাওয়ার সময় কয়েক এমপির সঙ্গে করমর্দনও করেন তিনি। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, এর আগে এভাবে কোন এমপির পদত্যাগের নজির নেই।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সন্ধ্যা সাতটা ৭ মিনিটে হঠাৎ করেই অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। সংসদ অধিবেশন কক্ষে এসে ট্রেজারি বেঞ্চের সামনের সারির ১৪ নম্বর আসনে বসেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। আসনটি মন্ত্রী থাকার সময় থেকেই তার জন্য নির্ধারিত ছিল। আসনে বসেই নিজের অবস্থান জাতির সামনে পরিষ্কার করতে অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়ার জন্য স্পীকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এর আগে আসনে বসেই ইশারায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।

স্পীকারের অনুমতি নিয়ে ১৫ মিনিটব্যাপী লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তার সম্পর্কে হজ নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের বিষয়টি আবারও অস্বীকার করেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্পীকার শিরীন শারমিনের সঙ্গে তার অফিসে গিয়ে দেখা করেন লতিফ সিদ্দিকী। ওই সময়ই লতিফ সিদ্দিকী সংসদ সদস্যপদ থেকে তাঁর পদত্যাগের অভিপ্রায়টি স্পীকারকে অবহিত করেন। অধিবেশনে লতিফ সিদ্দিকী বক্তব্য রাখার সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন না সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের এই বহিষ্কৃৃত নেতা ও সাবেক টেলিযোগাযোগমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ জানাচ্ছি না, নত মস্তকে ক্ষমা চাচ্ছি সবার কাছে। আমি মানুষের ভালবাসায় বিশ্বাস করি। আমার নেত্রীর (শেখ হাসিনা) অভিপ্রায়, আমি সংসদ সদস্য না থাকি। তাঁর প্রতি সম্মান দেখিয়েই টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে পদত্যাগপত্রটি আমি উপস্থাপন করছি।

লিখিত বক্তব্যে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি মুসলমান, আমি বাঙালী, আমি আওয়ামী লীগার। এই পরিচয় মুখে দেয়ার মতো শক্তি পৃথিবীতে আর কার নেই। এই আমার চেতনা, আমার জীবনবে, চলার সুনির্দিষ্ট পথ।

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, অসাম্প্রদায়িক ইহজাতিক গণতন্ত্রিক মূল্যবোধ দ্বারা আমার মনন গঠিত বিকশিত প্রতিনিয়ত আমিও এর চর্চা ও অনুশীলন করি। অমানুষ নয়, প্রথম আমি মানুষ। মনুষ্যত্ব ও মানবতার চর্চা অনুশীলন করতে গিয়ে নিজের ভেতরে অনেক কুঠুরি নির্মাণ করেছি। যারা মনুষ্যত্বের অনুশীলনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কুঠুরি দিয়ে প্রবেশ করি, সেই কুঠুরি একটা আমার একটা ধর্ম কুঠুরি। তাই আমি সাচ্ছা মুসলমান। ধর্মীয় জীবন একান্ত আমার জীবন। এই জীবনধারা নিয়ে জনবাহবা বা নিন্দা কোনটায় কুণ্ঠিত, বিভ্রান্ত, ভীতসন্ত্রস্ত হই না। নিজের কাছে নিজের জবাবদিহী করে সন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমার ধর্ম জগৎ নিয়ে সমষ্টিতে আলোড়ন, আন্দোলন দেখা দিয়েছে। সমষ্টি আমাকে ত্যাজ্য করেছে। রাজনীতি সামষ্টিক কারণ রাজনীতি মানব কল্যাণের একটি প্রকৃষ্ট উপায় অন্যদিকে, ব্যক্তি জীবন একান্তই ব্যক্তির, এখানে সমষ্টির প্রবেশ নিষিদ্ধ আমাকে ষড়যন্ত্রকারী, প্রতিশোধ পরায়ণ, ধর্মদ্রোহী, গণদুশমন ও শয়তানের প্রতিনিধি এহেনসব বলা হয়েছে, ঘৃণার পাত্র সাজাতে সবশেষে ধর্মকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। আমি স্পষ্ট করে দৃঢ়চিত্তে বলতে চাই, আমি ধর্মবিরোধী নই, আমি ধর্ম অনুরাগী, একনিষ্ঠ ও সাচ্ছা মুসলমান।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে হাইকোর্ট ও সুপ্রীমকোর্টে আইনী লড়াইয়ে কোন ইতিবাচক ফল না আসায় নির্বাচন কমিশনে শুনানির সময়ই সংসদ সদস্যপদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। সেই ঘোষণার ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের সপ্তম অধিবেশন শুরুর দিন অধিবেশনে যোগ দিয়ে এই আবেগঘন বক্তৃতা দেন।

লতিফ সিদ্দিকীর পদত্যাগপত্র স্পীকারের কাছে গৃহীত হলে টাঙ্গাইল-৪ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে। পদত্যাগপত্রটি বিধিসম্মত হলে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৮ (৩) অনুযায়ী বিষয়টি চলতি অধিবেশনেই সংসদকে জানাবেন স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। আসন শূন্য ঘোষণা সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের পর বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা নেবে আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি। টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী সিদ্দিকী পরিবারের বড় সন্তান লতিফ সিদ্দিকী ওই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

প্রকাশিত : ২ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১২:২৮ এ. এম.

০২/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ:
যমুনায় নাব্য সঙ্কট ॥ বগুড়ার কালীতলা ঘাটের ১৭ রুট বন্ধ || আট হাজার বেসরকারী মাধ্যমিকে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নেই || সেবা সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্য পদক পাচ্ছেন ১৩২ পুলিশ সদস্য || দু’দফায় আড়াই লাখ টন লবণ আমদানি, সুফল পাননি ভোক্তারা || বাংলাদেশের আর্থিক খাত উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক রোডম্যাপ করছে || নিজেরাই পাঠ্যবই ছাপানোর চিন্তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের || গণপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে, প্রমাণ হয়েছে বিচার বিভাগ স্বাধীন || নিহতদের স্বজনদের সন্তোষ ॥ রায় দ্রুত কার্যকর দাবি || আওয়ামী লীগ আমলে যে ন্যায়বিচার হয় ৭ খুনের রায়ে তা প্রমাণিত হয়েছে || নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুন মামলার রায় ॥ ২৬ জনের ফাঁসি ||