রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শরণার্থী সমস্যা

প্রকাশিত : ২২ জুন ২০১৫

নিজ দেশে বসবাস বিপজ্জনক হয়ে উঠলে জীবন রক্ষার তাগিদেই কোন দেশের জনগোষ্ঠী ভিন্নদেশে শরণ নিতে বাধ্য হয়। জাতিগত সহিংসতা, ধর্মীয় উগ্রতা, রাজনৈতিক আদর্শগত কারণে সমাজবদ্ধ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতাÑ এসবই শরণার্থী হওয়ার প্রধান কারণ। বর্তমান বিশ্বে যেসব দেশ থেকে মানুষ নিকটবর্তী কিংবা দূর কোন দেশে শরণ নিতে বাধ্য হচ্ছে তাদের সবার দেশত্যাগের প্রেক্ষাপট এক নয়। যেমন সিরিয়ার শরণার্থী আর মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমস্যার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ৩১ ডিসেম্বর, ২০০৫ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান, ইরাক, সিয়েরালিওন, মিয়ানমার, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান এবং ফিলিস্তিন বিশ্বের প্রধান শরণার্থী উৎসস্থল হিসেবে পরিচিতি পায়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শরণার্থী এসেছে দক্ষিণ সুদান থেকেÑ প্রায় ৫০ লাখ। জনসংখ্যা অনুপাতে সবচেয়ে বেশি শরণার্থী রয়েছে আজারবাইজানে।

শরণার্থীদের আশ্রয়দান অবশ্যই মানবিক বিষয়। তবে এটি যদি আশ্রয়দাতা দেশের জন্য বড় ধরনের সঙ্কট হয়ে ওঠে। তবে তার সমাধানের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। তখন সেটি আর কোন নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা থাকে না, হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক সমস্যা। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ, সংঘাত এবং নির্যাতনের কারণে ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ পৃথিবীজুড়ে শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ছয় কোটিতে পৌঁছেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সঙ্কট বাড়বে। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের শরণার্থী হওয়ার পেছনে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ১৫টি যুদ্ধ বা সংঘাতের অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে আমাদের দেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আসছে। নিবন্ধিত রোহিঙ্গার তুলনায় বহুগুণ বেশি রয়েছে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী। বেসরকারী হিসাবে এটি তিন থেকে চার লাখ। এমনিতেই বাংলাদেশ জনসংখ্যাবহুল দেশ। সেখানে এত বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর আশ্রয়দান নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গারা চোরাচালান, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারে জড়িত হয়ে পড়েছে। তাদেরই কোন কোন দল নৌকায় করে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি জমায়। রোহিঙ্গাদের কারণে আশ্রয়দাতা দেশ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে নয় হাজার শরণার্থীর একটি তালিকা মিয়ানমারে পাঠানো হয় দেড় দশক আগে। সেখান থেকে দেড় হাজার জনকে ফিরিয়ে নেয়ার আশ্বাসও দিয়েছিল মিয়ানমার। কিন্তু কাউকে ফিরিয়ে নেয়নি। আর কতকাল বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ভার বহন করবে? জলসীমায় মিয়ানমার সরকারই আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লংঘন করে বাংলাদেশ অভিমুখে ঠেলে দিয়েছে রোহিঙ্গাদের। এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের একজন সীমান্তরক্ষীকে অপহরণ করে আটকে রেখেছে তারা। আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এ আচরণ নিন্দনীয়। আমরা মনে করি, সময় এসেছে জাতিসংঘের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের। মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে মুসলিম রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সৌদি আবরসহ বিশ্বের ধনী মুসলিম দেশগুলো তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না।

প্রকাশিত : ২২ জুন ২০১৫

২২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: