মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

দলকে সর্বস্তরে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫
দলকে সর্বস্তরে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
  • সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতিকালে মতবিনিময়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব স্তরে দলকে শক্তিশালী করতে এবং জনগণের সামনে সরকারের ব্যাপক সাফল্য তুলে ধরতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। খব্র বাসসর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি স্তরে দলকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আমরা টিম গঠন করেছি। এ জন্য আমি আপনাদের যথাযথ মনোযোগ দিতে বলব যাতে দল সাংগঠনিকভাবে ও সুন্দরভাবে গড়ে ওঠে। তিনি বৃহস্পতিবার এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রা বিরতিকালে সিলেট শাখা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করেন। সিলেট আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদরুদ্দিন আহমাদ কামরানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে দলের সিলেট জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমেদ বক্তৃতা করেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সভা পরিচালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী দলকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, এবার অব্যাহত দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে চলছি। কারণ, আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বিচার সম্পন্ন করেছি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য হচ্ছেÑ ১৯৭১ সালে গণহত্যা সংঘটনকারীদের বিচার সম্পন্ন করে জাতিকে কলঙ্ক থেকে মুক্ত করা।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশ দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিপুল অবদান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে মোটরযান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে নেপাল ও ভুটান এখন সড়কপথে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কানেকটিভিটি এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা ও বাণিজ্যের সম্প্রসারণে অবদান রাখবে।

বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের সমন্বয়ে বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডর প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে এবং আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবেশীগুলোর সঙ্গে সকল সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তি (এলবিএ) ও গঙ্গার পানি চুক্তি এবং ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিজয়ের কথা উল্লেখ করেন।

ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এলবিএ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে এই চুক্তি স্বাক্ষর এবং অনুসমর্থন করেন পাশাপাশি সমুদ্রসীমা চিহ্নিতকরণ এ্যাক্টের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মর্মান্তিক হত্যাকা-ের পর জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসব সমস্যার সমাধানে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি অনেক আগেই হতো।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কেবল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্যই লড়াই করেননি, স্বাধীনতার পর দেশ ও সরকার সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য তিনি সবকিছুই করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু সরকারের অনেক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করে।

এলবিএ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য সিলেট আওয়ামী লীগ নেতাদের এক প্রস্তাবের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনে হাউস অব কমন্সে নির্বাচিত তিন ‘বাংলাদেশী কন্যাকে’ সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তাব দেন।

গত মাসে ব্রিটিশ সাধারণ নির্বাচনে তিন ‘বাংলাদেশী কন্যা’ সিলেটের রুশনারা আলী, রূপা হক এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন।

ব্রিটেনে বসবাসকারী সিলেটিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ফুলের তোড়া দিয়ে টিউলিপকে সংবর্ধনা দিয়েছি এবং তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট পরিদর্শনে গিয়েছি, এটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’

আবেগাক্রান্ত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি টিউলিপের জন্য গর্ব অনুভব করেন। ‘আপনারা টিউলিপের পক্ষে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং এ জন্য আপনাদের আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানি বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নয়ন, সিলেট রেলস্টেশনের আধুনিকায়ন, ক্যান্টনমেন্ট প্রতিষ্ঠা এবং ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এক সময় সিলেট ছিল অত্যন্ত অবহেলিত এলাকা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এখানে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।’

সিলেট অঞ্চলের কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যার কথা তুলে ধরেন যা তিনি আজ বিমান থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি আশ্বাস দেন যে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দুর্ভোগ লাঘবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। দলকে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের সমন্বয়ে বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডর প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে এবং আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবেশীগুলোর সঙ্গে সকল সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তি (এলবিএ) ও গঙ্গার পানি চুক্তি এবং ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিজয়ের কথা উল্লেখ করেন।

ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্থল সীমান্ত চুক্তি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে এই চুক্তি স্বাক্ষর এবং অনুসমর্থন করেন পাশাপাশি সমুদ্রসীমা চিহ্নিতকরণ এ্যাক্টের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মর্মান্তিক হত্যাকা-ের পর জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসব সমস্যার সমাধানে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি অনেক আগেই হতো।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কেবল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্যই লড়াই করেননি, স্বাধীনতার পর দেশ ও সরকার সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য তিনি সবকিছুই করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু সরকারের অনেক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করে।

স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য সিলেট আওয়ামী লীগ নেতাদের এক প্রস্তাবের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনে হাউস অব কমন্সে নির্বাচিত তিন ‘বাংলাদেশী কন্যাকে’ সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তাব দেন।

গত মাসে ব্রিটিশ সাধারণ নির্বাচনে তিন ‘বাংলাদেশী কন্যা’ সিলেটের রুশনারা আলী, রূপা হক এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন।

ব্রিটেনে বসবাসকারী সিলেটিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি ফুলের তোড়া দিয়ে টিউলিপকে সংবর্ধনা দিয়েছি এবং তার বক্তব্য শোনার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট পরিদর্শনে গিয়েছি, এটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫

১৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: