কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আজ বসছে সংসদের বাজেট অধিবেশন

প্রকাশিত : ১ জুন ২০১৫

সংসদ রিপোর্টার ॥ আজ সোমবার পর্দা উঠছে দশম জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অর্থাৎ বাজেট অধিবেশনের। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হবে সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশন। আগামী ৪ জুন বিকেল তিনটায় ৯ম বারের মতো সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দীর্ঘ আলোচনার পর আগামী ৩০ জুন পাস হবে উত্থাপিত বাজেট।

বাজেট অধিবেশনের সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে রবিবার রাত বারোটা থেকে বাজেট অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের চতুর্দিকে প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে আজ বিকেল চারটায় স্পীকারের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের কার্যোপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কর্মসূচী চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে বাজেট অধিবেশনটি হবে দীর্ঘ। আগামী জুলাই পর্যন্ত অধিবেশনটি চলতে পারে বলে জানা গেছে। তবে ইতোমধ্যে আগামী ৪ জুন অর্থমন্ত্রীর বাজেট উপস্থাপনের সময়সূচী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ আশা প্রকাশ করে বলেন, সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতের পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন বিল পাস হওয়ায় এবার অধিবেশনে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সীমান্ত চুক্তি ভারতের পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় অধিবেশন চলবে। সে কারণে অধিবেশনে নতুন মাত্রা যোগ হবে। সংসদে এ প্রসঙ্গে আলোচনা হবে কি না জানতে চাইলে চীফ হুইপ বলেন, যদি কোন সদস্য নোটিস দেন তবে আলোচনা হতে পারে। কিংবা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

সূত্র মতে, তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে এটি হবে দ্বিতীয় বাজেট অধিবেশন। আগামী ৪ জুন এই অধিবেশনে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি ৯ম বারের মতো প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করবেন। এর আগে বিএনপি’র অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমান সর্বোচ্চ ১২ বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন। আওয়ামী লীগের আরেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এএমএস কিবরিয়া ৭টি বাজেট উত্থাপন করেন।

এদিকে বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সংসদ সচিবালয়। বিশেষ করে বাজেট ডকুমেন্টস ও বাজেট বক্তৃতার কপির নিরাপত্তা বিধান, তা সংসদে পাঠানো ও বিতরণ, বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন এবং কূটনীতিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য সংসদে এন্ট্রি পাস বিতরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাজেট উত্থাপনের পর জুন মাস জুড়ে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা হবে। আলোচনা শেষে ৩০ জুন বাজেট পাস হবে। তবে কত ঘণ্টা আলোচনা হবে সে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে। গত বছর প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর রেকর্ডসংখ্যক ৬৩ ঘণ্টা আলোচনা করেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা।

সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখা জানায়, এই অধিবেশনে বাজেট নিয়ে আলোচনা ও পাসের বাইরে নিয়মিত প্রশ্নোত্তর, মনোযোগ আকর্ষণীয় নোটিস নিয়ে আলোচনা এবং ক’টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন ও পাস হতে পারে। এই অধিবেশনে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং বিল-২০১৪, সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্ব বিল-২০১৫ ও খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০১৫ পাসের অপেক্ষায় আছে। আর সংসদে উত্থাপনের জন্য আরও ৪টি বিল জমা পড়েছে। বিলগুলো হচ্ছে- সুপ্রীমকোর্ট জাজেস (লিভ, পেনশন এ্যান্ড প্রিভিলেজেস) (এ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৫, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো বিল-২০১৫, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন বিল-২০১৫ এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক কল্যাণ তহবিল বিল-২০১৫।

সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ॥ অধিবেশনকে ঘিরে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের চতুর্দিকে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের ক্ষমতাবলে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান জারিকৃত আদেশে বলা হয়, বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে আজ ১ জুন থেকে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকার কয়েকটি সড়কে অস্ত্র-বিস্ফোরক বহন, সমাবেশ-মিছিল, বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবত থাকবে।

সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ হওয়া সড়কগুলো হচ্ছে- ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরনো বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর, বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোর্ডের সার্ক ফোয়ারা, পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রীনরোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট, শ্যামলী মোড় থেকে ধানম-ি-১৬ সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণির পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত এলাকা এবং এর আশপাশের রাস্তা ও গলিপথ।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া সংসদের পঞ্চম অধিবেশন গত ২ এপ্রিল শেষ হয়। এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দেয়া ভাষণের ওপর প্রায় ৬০ ঘণ্টা ৩০ মিনিট আলোচনা হয়। মোট ৩৯ কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ১১টি সরকারী বিলের মধ্যে ৮ বিল পাস হয়।

প্রকাশিত : ১ জুন ২০১৫

০১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: