মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

দায় কার?

প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৫

মানব পাচারকারীরা এ দেশে-ও দেশে সক্রিয় থাকার সুযোগ পেয়ে আসছে বহুদিন ধরেই প্রশাসনিক নির্বিকারত্ব ও আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্তির লোভে। অর্থের জন্য মানুষকে পণ্য করার চেয়ে ঘৃণ্য ও জঘন্য কাজ আর কিছু হতে পারে না। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দালালদের মাধ্যমে মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে আনা মানুষ পাচার করা হচ্ছে বেশ কিছুকাল ধরে। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী নারী-পুরুষ-শিশুদের এভাবে পাচার করা হচ্ছে। তারা অভিবাসনের জন্য যে কোন দেশে আশ্রয় নিতে চায়। নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে রোহিঙ্গারা গত সত্তর দশকের শেষদিক থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তাদের ফেরত নেয়ার জন্য চুক্তি হলেও নামমাত্র কয়েকজন ফিরে গেছে। কিন্তু তারা আবার ফিরে এসেছে কয়েকগুণ বেশি হয়ে। এদের নিজেদের নাগরিক বলে স্বীকার করতে চাইছে না মিয়ানমারের শাসকরা। তাদের ভাষ্য, রোহিঙ্গা বলে কোন সম্প্রদায় নেই তাদের। বরং এদের তারা ‘বাঙালী’ বলে অভিহিত করে থাকে। যে কারণে ইন্দোনেশিয়া অবলীলায় বলছে, সে দেশে আশ্রয়প্রাপ্তরা বাংলাদেশী। বাস্তবে কোন বাংলাদেশী শিশু ও মহিলা কাজের সন্ধানে এভাবে পাড়ি দেয় না। সত্য যে, কক্সবাজার উপকূলের মেরিন ড্রাইভ, টেকনাফ, কোটবাজার, সী-বিচ, সোনারপাড়া বাজার, ইনানী ও নিদানিয়া এলাকায় জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় গমনেচ্ছু মানুষের প্রকাশ্যে হাট বসত, যা গণমাধ্যমে প্রকাশও পেয়েছে। পাচারকারীদের টার্গেট হচ্ছে দারিদ্র্যপীড়িত, সুবিধাবঞ্চিত, পশ্চাৎপদ, অনগ্রসর এলাকার লোকজন। অসহায় এই দরিদ্র মানুষদের সংগ্রহ করে দালালচক্র।

অভিবাসী সমস্যা নিয়ে থাইল্যান্ড সরকার আগামীকাল ২৯ মে ১৫টি দেশকে নিয়ে বৈঠক ডেকেছে। কিন্তু মিয়ানমার সাফ বলে দিয়েছে, আমন্ত্রণপত্রে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করলে তারা বৈঠকে যোগ দেবে না। রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের চ-ালনীতি দক্ষিণ এশিয়ায় অভিবাসী সমস্যার সৃষ্টি করেছে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে হয় বাংলাদেশে আসছে অথবা সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছে। পশ্চিমা দেশগুলো রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি দেখালেও মিয়ানমার সরকারকে সোজাপথে আনতে পারেনি, অভিবাসী সমস্যার সমাধানে যার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। যারা এই মানুষগুলোকে পাচার করে মুনাফা লাভ করছে, তারা এদের ‘ওয়ানটাইম’ হিসেবে ব্যবহার করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিপদসঙ্কুল পথে পা না বাড়াতে নাগরিকদের সচেতন করার দায়িত্ব যাদের, তারা যদি নির্বাক থাকেন তবে অশিক্ষিত, দরিদ্র জনগণ ভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে অজানার পথে হারিয়ে যাবেই। যে এলাকা দিয়ে এরা পাচার হয় সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা নীরব কেন। অবশ্য প্রচার রয়েছে, প্রভাবশালী কেউ কেউ এর সঙ্গে জড়িত। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে, তাও বলা যাবে না। এভাবে রোহিঙ্গারা বাঙালী পরিচয়ে পরিচিত হয়ে দেশের সুনামহানি করছে, তাতে কারও ভ্রুক্ষেপ নেই যেন। কেউ কোন দায় নেয় না। তাহলে এসবের দায় কার? সে প্রশ্নের জবাব দেশবাসী জানতে চাইবেই।

প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৫

২৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: