মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আলোকসজ্জা ত্রিপিটক পাঠ কঠিন চীবরদানে বুদ্ধ পূর্ণিমা পালিত

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫
আলোকসজ্জা ত্রিপিটক পাঠ কঠিন চীবরদানে বুদ্ধ পূর্ণিমা পালিত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রবিবার পালিত হয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দিরে আলোকসজ্জা, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, পবিত্র গ্রন্থ ত্রিপিটক থেকে পাঠ, উপাসনা ভঙ্গ এবং কঠিন চীবর দান, প্রদীপ প্রজ্ব¡লন, শীল গ্রহণ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচী পালিত হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, হিংসা নয়, ভালবাসা দিয়ে জয় করতে হবে। প্রত্যাঘাত নয়, শান্তির পথে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ । বর্তমান সরকারের আমলে অসাম্প্রদায়িক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

রবিবার রাজধানীর কমলাপুর ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহারে শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি, সংঘনায়ক ধর্মাধিপতি শুদ্ধানন্দ মহাথেরোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, ভারত থেকে আগত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা হেমাঙ্ক বিশ্বাস চৌধুরী ও বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের মহাসচিব ও আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. প্রণব কুমার বড়ুয়া। এর আগে সকাল সাড়ে ৬টায় প্রভাতফেরি, ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ ও শান্তির শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় বুদ্ধপুজা, শীল গ্রহণ, সংঘদান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বের শান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনা এবং পূজনীয় ভিক্ষু সংঘকে পি-দান করা হয়।

আলোচনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে অসাম্প্রদায়িক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় মৌলবাদীরা এমন জায়গায় পৌঁছেছে কেবলমাত্র ভিন্ন ধর্ম নয়Ñ তাদের হাতে নিজের ধর্মের লোক নিহত ও নিগৃহীত হচ্ছে। মৌলবাদীদের হাত থেকে কোন ধর্মই রক্ষা পাচ্ছে না। তিনি বলেন, পৃথিবীতে বৌদ্ধধর্ম প্রচারের পর সব চেয়ে বেশি বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার হয়েছে বাংলাদেশে। বৌদ্ধ ধর্ম এ দেশে বেশি বিকশিত হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী অক্টোবর মাসে বৌদ্ধ ধর্ম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বৌদ্ধ ধর্মের নিদর্শনগুলো দেখানো হবে।

মেনন বলেন, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি ঠিক নয়। যারা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন তারা পশুতুল্য।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, এ দেশে এক ধর্মের মানুষের সঙ্গে অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষের কোন বিরোধ নেই। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আমরা এক সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতা এড়িয়ে এগিয়ে গেছি। যখন হোঁচট খাই তখন সামরিক জান্তা আমাদের সামনে এসে কাছে দাঁড়ায়। তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসাম্পদায়িক ছাতা খুলে দিয়েছেন। রামুর দুষ্কৃতকারীদের কঠোরহস্তে দমন করেছেন। আগুন সন্ত্রাসী বেগম খালেদা জিয়া ও গণতান্ত্রিক নেত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে এখানেই পার্থক্য। খালেদা জিয়া সরকার ও শেখ হাসিনা সরকারের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। যারা রাষ্ট্রের মধ্য থেকে অশান্তি সৃষ্টি করেন তাদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, বেগম জিয়া মাঝপথে সিটি নির্বাচন থেকে প্রার্থী প্রত্যাহার করলেন। নির্বাচনে এজেন্ট দিলেন না। খালেদা জিয়া লোক দেখানো প্রচার করলেন। তিনি রাজনীতির সঙ্গে মোনাফেকি করছেন।

এদিকে, রবিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সম্প্রীতি উৎসবে গিয়ে মিলিত হয়। রনি বিকাশ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এ সম্প্রীতি উৎসবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, জ্ঞানালোক ধর্মীয় চিন্তা পরিষদের সজীব বড়ুয়া, বৌদ্ধ যুব পরিষদের সভাপতি রূপায়ন বড়ুয়া প্রমুখ।

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫

০৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: