রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

জামায়াত-শিবির সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ করুন

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫
  • মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে দাবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জামায়াত-শিবিরকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে তাদের নেতাকর্মীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পক্ষে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জঙ্গীবাদ ঠেকানোর লক্ষ্যে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য বাংলাদেশের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ দেয়া উচিত বলেও মতামত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক উপ-কমিটিতে বাংলাদেশ বিষয়ক শুনানিতে এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের ক্যাপিটাল হিলের রেবার্ন ভবনে গত শুক্রবার এই শুনানিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের উত্থান ত্বরান্বিত হবে। এছাড়া বাংলাদেশে ধর্মকে যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, তারা আরও জঙ্গীরূপ ধারণ করতে পারে।

‘বাংলাদেশের ক্ষত : রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উগ্রবাদ’ শীর্ষক এ শুনানিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, ডেভিস ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি এ্যান্ড ফরেন পলিসি এবং এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লিসা কার্টিস, ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রধান ড. আলী রিয়াজ, হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনের সরকার সম্পর্ক বিভাগের পরিচালক জে কানসারা মতামত দেন। শুনানিতে আরও বক্তব্য রাখেন হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান দলীয় কংগ্রেস সদস্য ম্যাট স্যালমন ও কমিটির সদস্য গ্রেস মেং।

শুনানিতে জঙ্গীবাদের বিস্তার ঠেকানোর স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ দেয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন জে কানসারা। সেইসঙ্গে জামায়াত-শিবিরকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে তাদের নেতাকর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দেন তিনি।

হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান দলীয় কংগ্রেস সদস্য ম্যাট স্যালমন বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, এ অবস্থায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এর প্রধান শিকার হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তাই পরিস্থিতি উপলব্ধি করে গণতন্ত্রের স্বার্থে বাংলাদেশের প্রধান দুই দলের সংলাপে বসা উচিত।

লিসা কার্টিস বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ইসলামী জঙ্গীরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে উল্টে দিতে পারে। তাছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতা ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অচলাবস্থা ২০০৭ সালের মতো আবারও বাংলাদেশকে সামরিক হস্তক্ষেপের পথে নিয়ে যেতে পারে। বিরোধী দলের যে হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী কারাগারে আছে, তাদের ছেড়ে দিতে অথবা সুষ্ঠু আইনী প্রক্রিয়ায় তাদের বিচার শুরু করতে বাংলাদেশ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ দেয়া উচিত বলেও মত প্রকাশ করেন কার্টিস। তিনি আরও বলেন, নিরপরাধ পথচারীদের হত্যার ঘটনায় যারা দায়ী, বিশেষ করে পেট্রোলবোমা ছুড়ে যেসব হত্যার ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন।

অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার জন্য বেশকিছু বিষয় জরুরী। এ প্রসঙ্গে জনমতের সঠিক প্রতিফলনের জন্য একটি ব্যবস্থা তৈরি, অধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করা, সব দলের জন্য রাজনৈতিক মত প্রকাশ ও কর্মকা-ের সমান অধিকার নিশ্চিত করা, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ রাষ্ট্রের অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অবসান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে বিরোধীসহ সব দলের সহিংসতা বন্ধ করার কথা বলেন তিনি।

বিগত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গ শুনানিতে একাধিকবার এসেছে জানিয়ে অধ্যাপক রিয়াজ বলেন, আবার যদি অনির্বাচিত কোন সরকার ক্ষমতায় আসে তাহলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বেন দুই দলের শীর্ষ নেতারা। তাই নিজেদের স্বার্থে হলেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে তারা যেন আলোচনায় বসেন, সে বিষয়ে জোর দিয়েছেন সকলে।

সাব কমিটির এ শুনানিতে কমিটির প্রভাবশালী সদস্য গ্রেস মেং বলেন, গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী আইনের শাসন অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। পোশাক খাতের সার্বিক উন্নয়নে গত দু’বছরে বাংলাদেশ বেশকিছু কাজ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের সংগঠনের অধিকার এবং কর্মপরিবেশের সামগ্রিক উন্নয়নে পুরোপুরি সফলতা প্রদর্শনে সক্ষম হয়নি। এ কারণে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার পথে চলতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থার অবসানে আমরা কীভাবে কাজ করতে পারিÑ সে বিষয়ে সবার পরামর্শ প্রয়োজন।

এছাড়া শুনানিতে অভিজিত রায়সহ মুক্তচিন্তার লেখকদের হত্যায় যারা জড়িত, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের আরও সক্রিয় হওয়া, শ্রম খাতের সামগ্রিক অস্থিরতার অবসান না ঘটা পর্যন্ত জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল না করা, গণতান্ত্রিক আচরণ এবং সুশাসনের ক্ষেত্রে সত্যিকারের অগ্রগতি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ রাখার সুপারিশও করেন বক্তারা।

শুনানির সময় যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ, মেরিল্যান্ড স্টেট আওয়ামী লীগ, ভার্জিনিয়া স্টেট আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিস্টার সংগঠন মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকার (মুনা) শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫

০৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: