রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কৃষিজমির সুস্থতায়

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫

কৃষিজমির সুস্বাস্থ্য বজায় তথা উর্বরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের দেশে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত খামারজাত সার ছিল প্রধান উৎস। যদিও এর বহু আগে থেকেই রাসায়নিক সারের প্রচলন শুরু হয়েছিল। আজকাল চাষাবাদে জৈব ও রাসায়নিক উভয় প্রকার সারই ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু কয়েক শতাব্দী আগে এমন একটা সময় ছিল যখন রাসায়নিক সার সম্পর্কে মানুষের বিশেষ কোন জ্ঞানই ছিল না। এমনকি জৈব সারের উপকারিতা সম্পর্কেও ছিল না স্বচ্ছ ধারণা। পশু পালন যুগে মানুষ লক্ষ্য করে দেখতে পায়, যেসব স্থানে পশু মলত্যাগ করে সেখানে গাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। আরও লক্ষ্য করল যে, গাছের লতাপাতা ঝরে মাটিতে মিশে পচে যাওয়ার পর সে স্থানে গাছের চারা তরতর করে বেড়ে ওঠে। এভাবেই জৈব সার ব্যবহারের প্রচলন। চীনা কৃষি রেকর্ডে দেখা যায় যে, ৪ হাজার বছরেরও আগে মাটির উর্বরতা বজায় রাখার জন্য চীনারা গাছ ও জীবজন্তুর অংশবিশেষ এবং মানুষের মলমূত্র জমিতে ব্যবহার করত।

ফসল উৎপাদনে মাটির স্বাস্থ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক মাস আগে ‘বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মাটির সুস্থতা বজায় রাখার বিবেচনা থেকেই কৃষিজমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই জৈব সার তৈরি পদ্ধতি কিন্তু মোটেই জটিল কিছু নয়। দেশের বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রধানত নারীরা জৈব সার তৈরির মাধ্যমে নিজ সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। কম্পোস্ট জৈব সার উৎপাদনে তেমন একটা খরচও নেই। পরিশ্রমটাই আসল। ‘হিপ’ কম্পোস্ট তৈরি করতে মাটিতে ১০ ফুট দৈর্ঘ্য, ৪ ফুট প্রস্থ ও ৪ ফুট গভীর গর্ত করতে হয়। অন্যান্য কম্পোস্ট সার তৈরিতে রিং ব্যবহার করা হয়। কম্পোস্ট জৈব সার তৈরিতে বাড়ির ময়লা-আবর্জনা, খড়কুটো, গোবর, গরুর মূত্র, নরম ঘাস, কচুরিপানা, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, শাকসবজির উচ্ছিষ্ট, আলুর পাতা, ঝরে যাওয়া পচা পাতা প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়। সব কম্পোস্ট সারেই গোবর ও গরুর মূত্র থাকবে। বাঁধাকপির পাতা, আলুর পাতা, নরম ঘাসসহ সবজির ফেলে দেয়া উচ্ছিষ্ট দিয়ে হয় ‘সবুজ কম্পোস্ট’। মানুষের মলমূত্র, ছাই, কেরোসিন, ডলোচুন দিয়ে হয় ‘নাইট কম্পোস্ট’। এভাবে অন্তত ২২ প্রকার জৈব সার তৈরি হচ্ছে দেশে। তবে কৃষিজমিতে ব্যাপক হারে জৈব সার ব্যবহারের লক্ষ্যে কারখানা স্থাপনের বিকল্প নেই। অথচ দেশের প্রথম জৈবসার কারখানাটির উদ্বোধন হলো মাত্র সেদিন। শুক্রবার সরকারী অর্থায়নে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় নির্মিত চিনিকলের বর্জ্য থেকে তৈরি জৈবসার কারখানাটির উদ্বোধনকালে শিল্পমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, এর ফলে একদিকে পরিবেশ দূষণ যেমন বন্ধ হবে, অন্যদিকে জমির উর্বরতাও বৃদ্ধি পাবে।

আমরা মনে করি ভূমিদস্যুদের আগ্রাসনে দেশের কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাসের বাস্তবতায় জমির সুস্থতা তথা উর্বরতা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাপকভাবে জৈব সার উৎপাদন করা প্রয়োজন। সেজন্য রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় জেলাগুলোতে জৈব কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। সে লক্ষ্যে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনগুলোকেও বিশেষ কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫

২০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: