কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সেরেনার হ্যাটট্রিক শিরোপা

প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল ২০১৫
সেরেনার হ্যাটট্রিক শিরোপা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নতুন বছরের তিনটা মাস কেটে গেছে। কিন্তু সেরেনা উইলিয়ামস অপ্রতিরোধ্যভাবে এগিয়ে চলেছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কোন পরাজয় দেখেননি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ টেনিস তারকা। বছরের আরেকটি শিরোপা জিতলেন। মিয়ামি ওপেনের ফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর সেরেনার কাছে একেবারে বিধ্বস্ত হলেন স্পেনের কার্লা সুয়ারেজ নাভারো। মাত্র ৫৬ মিনিটের লড়াইয়ে তাকে ৬-২, ৬-০ সেটে পর্যুদস্তু করে মিয়ামিতে হ্যাটট্রিক ট্রফি জয় করলেন। সবমিলিয়ে এখানে আট শিরোপা জিতলেন সেরেনা। এর আগে ক্র্যানডন পার্কে সর্বাধিক ৬ শিরোপা জিতেছিলেন জার্মানির স্টেফিগ্রাফ। যে কোন একটি আসরে আট শিরোপা জেতা তিন মহিলা টেনিস তারকা হচ্ছেন স্টেফি (বার্লিন), মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা ও ক্রিস এভার্ট (হিলটন হেড)। ক্যারিয়ারের ৬৬তম শিরোপা এটি সেরেনার। একটি বেশি জিতেছেন কিংবদন্তি বিলি জিন কিং। তবে এদিন হেরে গেলেও সুখবর আছে বিশ্বের ১২ নম্বর স্প্যানিশ তারকা নাভারোর। প্রথমবারের মতো ডব্লিউটিএ র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দলে উঠছেন তিনি।

৩৩ বছর বয়সী সেরেনা এখন বিশ্বের যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই জিতে চলেছেন। আর সেই জয়ের পরিমাণটা যেন মিয়ামিতে বেশি। গত তিনটা বছর এখানে তিনি কোন পরাজয় দেখেননি। আবার চলতি বছর গত ৩ মাসেও তার গায়ে পরাজয়ের আঁচ লাগেনি। যদিও ইন্ডিয়ান ওয়েলসের সেমি থেকে ইনজুরির কারণে সরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আর ক্র্যানডন পার্ক মানেই সেরেনার জয় জয়কার। আর এবার ফাইনালে পেলেন উদীয়মান স্প্যানিশ তারকা নাভারোকে। যদিও নাভারো এদিন শুরুটা দারুণভাবেই করেছিলেন। প্রথম সেটেই ২-২ সমতায় থাকার পাশাপাশি ব্রেক পয়েন্ট জেতার পর্যায়ে চলে গিয়েছিলেন ৫ নম্বর গেমে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা হয়নি। এরপর রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন বিশ্বের এক নম্বর তারকা। তার সার্ভিস কতটা পাওয়ারফুল এবং কোর্টে বিচরণ কতখানি দাপুটে ও ছন্দময় সেটার প্রমাণ পেলেন এরপরই নাভারো। টানা ১০ গেম জিতলেন সেরেনা, কোনভাবেই দাঁড়াতে পারলেন না নাভারো। টানা এ জয়ের পথে সাত এসেসও পেয়েছেন মার্কিন তারকা। সেরেনার টর্নেডো গতির কারণে ম্যাচটা শেষ হলো মাত্র ৫৬ মিনিটেই। তিনি জিতলেন সরাসরি ৬-২, ৬-০ সেটে। ক্র্যানডন পার্কে আসা দর্শকরা বুঝতেই পারেননি ফাইনাল খেলা হয়েছে। আমেজ কিংবা পরিবেশটাও তেমন ছিল না। মিয়ামিতে শিরোপা জয়ের হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। সবমিলিয়ে ক্যারিয়ারের শিরোপা সংখ্যা দাঁড়াল ৬৬! এর মধ্যে শুধু ক্র্যানডন পার্ক থেকেই জিতেছেন ৮টি।

টানা ১১ ফাইনাল হারেননি সেরেনা! এমন রেকর্ড নিয়ে নিজের জন্য দারুণ পয়মন্ত মিয়ামিতে এসেছিলেন। আর এখানেও শিরোপা জিতে টানা ১২ ফাইনাল না হারার রেকর্ড গড়লেন তিনি। গত বছর অক্টোবরে বছরের শেষ ইভেন্ট ডব্লিউটিএ ফাইনালস আসরে সিমোনা হ্যালেপের কাছে একটি ম্যাচ হেরেছিলেন সেরেনা। এরপর টানা ২১ ম্যাচ অপরাজিত থাকলেন। চলতি বছরেই জয়ের সংখ্যা ১৮! কেউ থামাতে পারছেন না তাকে। শিরোপা জয়ের পর সেরেনা তার সাবেক কোচ ও বাবা রিচার্ড উইলিয়ামসকে জয়টা উৎসর্গ করেন। এ সময় সেরেনা বলেন, ‘আমি খুব ভাল বোধ করছি এটা বাবাকে উৎসর্গ করতে পেরে। তিনি এখানে নেই, খুব মিস করছি তাকে। আশা করি তিনি আমাকে দেখছেন। আমি তোমাকে ভালবাসি বাবা, এটা শুধুই তোমার জন্য।’ বয়স ৩৩ হয়ে গেলে কি হবে শক্তিমত্তায় অন্য যে কারও চেয়ে এগিয়ে সেটা মিয়ামি ফাইনালে ২৬ বছর বয়সী নাভারোর বিরুদ্ধে আরেকবার প্রমাণ করেছেন। এ বিষয়ে সেরেনা বলেন, ‘আমি এটা বিশ্বাস করতে ভালবাসি যে যতই আমার বয়স বাড়বে, ততই আমি ভাল করতে পারব। কিন্তু জানি না আসলে কতদিন সেটা সম্ভব হবে। তবে টানা এখানে আট ম্যাচ জিততে পেরে খুবই ভাল লাগছে।’ নাভারোর জন্য ফাইনালের ভাগ্যটা বরাবরের মতো এবারও খারাপ হলো। আট ডব্লিউটিএ ফাইনাল খেলে সাতবারই হেরেছেন এ স্প্যানিশ টেনিস তারকা। তবে আজ নতুন করে র‌্যাঙ্কিং ঘোষণার পর ক্যারিয়ারে প্রথমবার নিজেকে ১০ নম্বরে দেখতে পাবেন তিনি।

প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল ২০১৫

০৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: