মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সোনার বাংলা গড়ার শপথ

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৫
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সোনার বাংলা গড়ার শপথ
  • ৩২ নম্বরে প্রতিকৃতি ও টুঙ্গিপাড়ায় মাজারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সন্ত্রাস-নাশকতা ও জঙ্গীবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ঐক্যবদ্ধ থেকে রুখে দেয়ার দীপ্ত শপথে মঙ্গলবার কৃতজ্ঞ বাঙালী জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে বাংলাদেশ নামক ভূ-খণ্ডের স্বাপ্নিক স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। নানা অনুষ্ঠানমালায় এবং বাঙালী জাতির হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা-ভালবাসায় দেশব্যাপী পালিত হয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধুর ৯৫তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস।

‘রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী মুক্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ গড়ব’- এ প্রতিপাদ্যকে আলোচনার নামে প্রহসনের অভিযোগ আনেন। তিনি স্বাধীনতার দাবিতে অটল থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করছিলেন।

একাত্তরের এই দিনেই বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত বাঙালী সৈনিকরা স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কর্মীরা বাংলাদেশে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে একাত্ম করতে বিভিন্ন স্থানে মতবিনিময় চালিয়ে যেতে থাকেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ সামরিক প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি নিতে থাকে। মহিলা পরিষদের মেয়েরাও পিছিয়ে ছিল না। তাদেরও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

এদিকে পাকিস্তানী বাহিনী সামরিক ঘাঁটি শক্তিশালী করতে গোপনে গোলাবারুদ আর সৈনিক জড়ো করতে শুরু করেছিল। পাকিস্তানী শাসকরা স্বাধীনতার আন্দোলন দমাতে এভাবে একটু একটু করে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছিল। এদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তেজগাঁও-মহাখালীতে শ্রমিকদের ট্রাকে হামলা চালায়। আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন. ‘এ ধরনের উস্কানি আর সহ্য করা হবে না।’

১৯৭১ সালের মার্চ মাস ছিল উত্তাল গণজাগরণের সময়। অসহযোগ আন্দোলনের সপ্তদশ দিবস ছিল ১৮ মার্চ। এদিনও সরকারী-বেসরকারী ভবনের শীর্ষে কালো পতাকা উড়িয়ে, অফিস-আদালতে অনুপস্থিত থেকে সর্বশ্রেণীর কর্মচারীরা বঙ্গবন্ধু ঘোষিত সংগ্রামের কর্মসূচী সফল করে তোলেন।

বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে জনতা সারাদিন মিছিলের পর মিছিল করে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ও একাত্মতা ব্যক্ত করে। জনগণের কণ্ঠে উচ্চারিত সেøাগান ছিল- ‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।’ মিছিলকারীদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘তোমরা ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। জনগণের রক্তের সঙ্গে আমি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না।’

স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এক বিবৃতিতে আমেরিকা, ব্রিটেন, রাশিয়া, চীন প্রভৃতি শক্তির প্রতি তাদের সরবরাহকৃত অস্ত্রের মাধ্যমে বাঙালী হত্যার অপচেষ্টা বন্ধ করার আবেদন জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ অপর এক বিবৃতিতে বিভিন্ন দেশের সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুদ্ধিজীবীদের কাছে তারবার্তা প্রেরণ করে আসন্ন গণহত্যা ও যুদ্ধ থেকে পশ্চিম পাকিস্তানীদের নিবৃত্ত করার অনুরোধ জানান।

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৫

১৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: