মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রসঙ্গ ইসলাম ॥ মাতৃভাষা আল্লাহ্র সেরা দান

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম

আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর সেরা সৃষ্টি মানুষ। তিনি মানুষকে দান করেছেন বুদ্ধি-বিবেক-জ্ঞান, দান করেছেন সুন্দর অবয়ব, কথা বলার শক্তি, দান করেছেন উদ্ভাবনী শক্তি, কলাকুশলতা, মনের ভাব প্রকাশের জন্য ভাষা দান করেছেন। নানা জনের নানা ভাষা চেষ্টা করে আয়ত্ত করার মেধা ও যোগ্যতা দান করেছেন, সকল সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা দান করেছেন। দৈহিক ও মানসিক দিক দিয়ে মানুষকে তিনি বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন : লাকাদ খালাক্ নাল ইন্ সানা ফী আহ্ সানি তাক্ ভীম- আমি তো সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে (সূরা তীন : আয়াত ৪) । ওয়া লাকাদ কাররামনা বনী আদাম- আদম সন্তানকে আমি মর্যাদা দান করেছি। কুরআন মজীদে আরও ইরশাদ হয়েছে : খালাকাল ইন্ সানা আল্লামাহুল বাইয়্যান- তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তিনিই তাকে ভাব প্রকাশ করার শিক্ষা দিয়েছেন। (সূরা র্আ রহ্মান : আয়াত ৩-৪)

আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু শিশু ভূমিষ্ঠ হবার সঙ্গে সঙ্গে মাতৃস্তন থেকে যাতে সুষম খাদ্য হিসেবে দুগ্ধ পান করতে পারে সে জন্য সুবন্দোবস্ত করে দিয়েছেন। র্কুআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে : জননী সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে গর্ভে ধারণ করে এবং দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। সুতরাং আমার (আল্লাহর) প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। (সূরা লুকমান : আয়াত-১৪)

মাতৃদুগ্ধ যেমন আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর এক অনন্য নি’আমত, এক অপরিসীম মহাদান, তেমনি মাতৃভাষাও আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর মহাদান। পৃথিবীতে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু হযরত আদম (আ) থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী সরদারে দো আলম সাইয়্যিদুল র্মুসালীন নুরে মুজাস্সম পর্যন্ত এক লাখ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই লাখ চব্বিশ হাজার নবী- রসূল পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন মানুষকে সৎপথের দিশা দিবার জন্য, পথভ্রষ্ট মানুষকে হিদায়াতের আলোয় উদ্ভাসিত করে আলোকিত মানুষে পরিণত করার জন্য, ইন্সানে কামিল গড়ে তুলবার জন্য, শয়তানের ধোঁকা, প্রবঞ্চনা ও খপ্পর থেকে মানুষকে উদ্ধার করে সহজ, সরল, সত্য সুন্দরে পথে মানুষকে পরিচালিত করার জন্য। সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) ছাড়া অন্য সকল নবী-রসূল যুগে যুগে পৃথিবীতে প্রেরিত হয়ে এসেছন নিজ নিজ কওমকে পথভ্রষ্টতার হাত থেকে উদ্ধার করার জন্য কিংবা কোন নির্দিষ্ট জনপদ বা অঞ্চলের মানুষকে হিদায়াত দান করার জন্য। তাঁরা যে যুগ যে কওমের জন্য প্রেরিত হয়ে এসেছেন আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু তাঁদেরকে সেই কওমের ভাষাভাষী করে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন : ওয়ামা র্আসালনা কাওমিহী লিইউবায়ইনা লাহুম্- আমি (আল্লাহ) প্রত্যেক রসূলকে তাঁর নিজ কওমের ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য (সূরা ইব্রাহীম, আয়াত ৪)।

সর্বশেষ নবী হযরত মুহম্মদ (সা) সমগ্র পৃথিবীর মানুষের জন্য পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। তিন রহমাতুল্লিল আলামীন- বিশ্বজগতের জন্য রহমত। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু তাঁর মাতৃভাষা আরবীতে কুরআন মজীদ নাযিল করলেন। হযরত মুসা আলায়হিস্ সালামের নিকট তওরাত নাযিল হয়েছিল তাঁর মাতৃভাষাতে। আবার ঈসা (আ)-এর নিকট ইঞ্জিন নাযিল হয়েছিল, হযরত ঈসা (আ)-এর মাতৃভাষাতেই।

র্কুআন মজীদ প্রিয়নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লামের মাতৃভাষায় নাযিল হলো সে সম্পর্কে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন : ফাইন্নামা ইয়াস্ সারুনাহু বিলিসানিকা লিতুবাশ্ শিরা বিহিল্ মুত্তাকীনা ওয়া তুন্ যিরা বিহী কাওমাল্লুদ্্দা-আমি তো আপনার ভাষায় র্কুআনকে সহজ করে দিয়েছি যাতে আপিন এর দ্বারা মুত্তাকীদের সুসংবাদ দিতে পারেন এবং বিত-াপ্রবণ সম্প্রদায়কে এর দ্বারা সর্তক করে দিতে পারেন (সূরা মারইয়াম : আয়াত ৯৭)।

পৃথিবীতে কয়েক হাজার ভাষা রয়েছে। আমাদের বাংলাদেশেও কয়েকটি ভাষা রয়েছে আবার এখানে উচ্চারণের বিভিন্নতার কারণে বাংলাভাষাই আঞ্চলিক ভাষার রূপ পরিগ্রহ করেছে। নানান ভাষা এবং ভাষার বৈচিত্র্য আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর কুদ্রতের ও নি‘আমতের অপূর্ব নিদর্শন। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে : ওয়া মিন আয়াতিহী খাল্কুস্ সামাওয়াতি ওয়াল র্আদি ওয়াখ্তিলাফু আল্ সিনাতিকুম্ ওয়া আল্ওয়ানিকুম্, ইন্না ফী যালিকা লা আয়াতিল্লিল্ আলামীন- আর তাঁর নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে আকাশম-লী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে (সূরা রুম : আয়াত ২২)।

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক সময় এক ভাষণে বলেছিলেন : শিক্ষায় মাতৃভাষাই মাতৃদুগ্ধ। কবির এই কথার সঙ্গে আরও যোগ করা যায় যে, দীক্ষার ক্ষেত্রেও ঐ কথাটি প্রযোজ্য। যে কারণে ফুরফুরা শারীফের পীর মুজাদ্দিদে যামান মওলানা আবুবকর সিদ্দিকী (রহ) বয়আত, তালীম, তালকীন সব বাংলায় করতেন। তাঁর খলিফাগণ সেটাই অনুসরণ করেন। বাংলা ভাষায় প্রথম মৌলিক ও প্রামাণ্য এবং নির্ভরযোগ্য তাসাওউফ গ্রন্থ রচনা করেন যশোরের খড়কীর আলা হযরত পীর মওলানা শাহ্ আবদুল করিম (রহ)। গ্রন্থটির নাম এরশাদে খানেকীয়া বা খোদা প্রাপ্তিতত্ত্ব।

আমরা অন্যের মাতৃভাষা অনেক চেষ্টা করে যথাযথ তালীম নিয়ে হয়ত আয়ত্ত করতে পারি। কিন্তু সেই ভাষায় যত নির্বিঘেœই কথা বলি না কেন, কিংবা লিখিনা কেন ঐ বলার সময় কিংবা লেখার সময় নিজ মাতৃভাষা তখন মস্তিস্কতন্ত্রে সক্রিয় থেকে অনুবাদকের কাজ করে অর্থাৎ নিজ মাতৃভাষা দ্বারাই আমরা অন্য ভাষা বুঝি, বোধগম্যতায় আনয়ন করি।

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে এক দীর্ঘ অভিভাষণে বলেছিলেন,... আজ আমাদের প্রয়োজন হয়েছে সর্ব শাখায় সুসমৃদ্ধ এক সাহিত্য। এই সাহিত্য হবে আমাদের মাতৃভাষা বাংলায়। পৃথিবীর কোন জাতি জাতীয় সাহিত্য ছেড়ে বিদেশী ভাষায় সাহিত্য রচনা করে ষশস্বী হতে পারেনি। ইসলামের ইতিহাসের একেবারে গোড়ার দিকেই পারস্য আরব্য কর্তৃক বিজিত হয়েছিল, আরবী সাহিত্যের চর্চা করেছিল। কিন্তু তাঁর নিজের সাহিত্য ছাড়েনি। তাই ফিরদৌসী, নিজামী, সাদী, হাফিজ, খাকানী, বুআলী সীনা, গাজ্জালী, খায়্যাম প্রমুখ কবি, ভাবুক, সুফী ও দার্শনিক, লেখকগণের রচনায় পারস্য সাহিত্য গৌরবে সমুজ্জ্বল। বাংলাদেশ যখন দিল্লীর অধীনতা নিগড় থেকে মুক্ত হয়ে গৌড়ে এক স্বাধীন সুলতানাত প্রতিষ্ঠা করে তখন থেকে বাংলা সাহিত্য সৃষ্টির দিকে রাজার মনোযোগ পড়ে। ইউসুফ শাহ্, হোসেন শাহ, নসরত শাহ্, ফিরোজ শাহ্, নিজাম শাহ্ শূর, ছুটী খাঁ, পরাগল খাঁ প্রমুখ রাজা ও রাজপুরুষ বাংলা সাহিত্যের উৎসাহদাতা ছিলেন। এখানে উল্লেখ্য, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ফুরফুরা শরীফের পীর আবু বকর সিদ্দিকী (রহ)-এর খলীফা ছিলেন। এক সময় তিনি খড়কী শরীফের পীর আবদুল করিম (রহ)-এরও ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে গিয়েছিলেন।

প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সা) ৬১৫ খ্রিস্টাব্দে অর্থাৎ মদিনা মনওয়ারায় হিজরত করে যাবার ৭ বছর পূর্বে হযরত জাফর ইবনে আবু তালিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আবিসিনিয়ায় প্রেরণ করেন। তখন সেখানকার রাজা ছিলেন খ্রিস্টান, যাঁর নাম নাজ্জাসী। প্রিয় নবী (সা) হযরত জাফর রাদি আল্লাহু তা’আলা আনহুকে নির্দেশ দেন, আবিসিনিয়ায় যাবার আগে সেখানকার ভাষা শিখে নাও। তিনি অত্যন্ত বিজ্ঞ আলিম ছিলেন। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে তিনি আবিসিনীয়দের হাবসী ভাষা শিখে নিলেন। আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাসীর দরবারে উপস্থিত হয়ে হাবসী ভাষায় ইসলামের মর্মবাণী বুঝিয়ে বললে সম্রাট নাজ্জাসী অভিভূত হয়ে যান।

আমাদের বাংলাদেশে আরব, ইয়ামন, তুরস্ক (রুম), মিসর, পারস্য, খোরাসান প্রভৃতি অঞ্চলের ইসলাম প্রচারক দল সেই সপ্তম শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে এখানে যাঁরাই ইসলাম প্রচার করতে এসেছেন তারা ভিন্ন ভিন্ন ভাষার মানুষ ছিলেন। কিন্তু তাঁরা এ দেশে এসে এ দেশের মানুষের ভাষা আয়ত্ত করে এই দেশী ভাষায় ইসলাম প্রচার করেন। তাই বাংলা ভাষায় তাঁদের অনেক শব্দ সংযোজিত হওয়ার ফলে এই ভাষা নবরূপ লাভ করে এক অপরূপ সত্তা নিয়ে বিকশিত হতে থাকে। মাতৃভাষা আল্লাহ্র মহাদান। মাতৃভাষায় যত সহজে মনের ভাব প্রকাশ করা যায়, অন্যের মাতৃভাষায় তা তত সহজে করা যায় না। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু তাঁর প্রিয় হাবীব হযরত মুহম্মদ (সা)কে সম্বোধন করে ইরশাদ করেন- ফাইন্নামা ইয়াস্ র্সানাহু বিলিসানিকা লা আল্লাহুম ইয়াতাযাক্ কারূন- আমি তো আপনার কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি যাতে ওরা উপদেশ গ্রহণ করে। (সূরা দুখান- আয়াত ৫৮)

এখানে উল্লেখ্য যে, পৃথিবীতে একখানি মাত্রই গ্রন্থ রয়েছে যে গ্রন্থখানির গোটাটাই লাখ লাখ মানুষ হিফ্জ করে হাফিজ হয়েছে এবং হচ্ছে। এই বিশাল এবং বৃহত্তম আসমানী কিতাব প্রতিদিন পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত পঠিত হচ্ছে। সালাতে উচ্চারিত হচ্ছে। প্রিয় নবী (সা) মাতৃভাষা আরবীতে নাযিলকৃত আল-কুরআন সব ভাষাভাষীর মুসলিমদের অতি প্রিয় কিতাব, আরবী ভাষাও প্রিয় ভাষা।

ইসলাম মাতৃভাষার প্রতি খুবই গুরুত্ব আরোপ করায় ইসলাম যেখানেই গিয়েছে সেখানকার জনগণের মাতৃভাষাকে আপন করে নিয়েছে। সব ভাষাই তো আল্লাহর দান। বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চার দুয়ার উন্মোচিত করে দেন বাংলার সুলতানগণ। ডক্টর দীনেশ চন্দ্র সেন বলেন, বাংলা ভাষা মুসলমান প্রভাবের পূর্বে অতীব অনাদর ও উপেক্ষায় বঙ্গীয় চাষার গানে কতঞ্চিত আত্মপ্রকাশ করিতেছিল। প-িতেরা নস্যাধার হইতে নস্য গ্রহণ করিয়া শিখা দোলাইয়া সংস্কৃত শ্লোক আবৃত্তি করিতেছিলেন এবং তৈলাধার পাত্র কিংবা পাত্রাধার তৈল- এই লইয়া ঘোর বিচারে প্রবৃত্ত ছিলেন। সেখানে বঙ্গ ভাষার স্থান কোথায়? ইতরের ভাষা বঙ্গভাষাকে প-িতম-লী দূর দূর করিয়া তাড়াইয়া দিতেন। হাড়ি ডোমের স্পর্শ হইতে ব্রাহ্মণেরা যেরূপ দূরে থাকেন বঙ্গভাষাও তেমনই সুধী মহলে অপাঙক্তেয় ছিল তেমনই ঘৃণা, অনাদর ও উপেক্ষার পাত্র ছিল। কিন্তু হীরা কয়লার খনির মধ্যে যেমন জহুরীর আগমনের প্রতীক্ষা করে, শুক্তির ভেতর মুক্তা লুকাইয়া থাকিয়া যেরূপ ডুবুরির অপেক্ষা করিয়া থাকে, বঙ্গভাষা তেমনই শুভদিন শুভক্ষণের প্রতীক্ষা করিতেছিল। মুসলমান বিজয় বাংলাভাষার সেই শুভদিন, শুভক্ষণের আনয়ন করিল।

বাংলাদেশের মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। এই আল্লাহর মহাদানের ওপর যখনি কোনরূপ আঘাত এসেছে বাংলাদেশের মানুষ তা সহ্য করেনি এবং করবেও না। এই ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলার সুলতানগণ। এই ভাষার মান রক্ষার জন্য, এই ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য যারা ১৯৫২তে জান কুরবান করলেন তাঁরা মহান শহীদ। সেই বরকত, সালাম, আবদুল জব্বার প্রমুখ মহান শহীদানের নাম এখন বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। তাঁদের রক্তভেজা একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

এখানে উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী হচ্ছে প্রায় ২৪ কোটি, যার মধ্যে প্রায় ১৮ কোটিই হচ্ছে মুসলিম। যার যার মাতৃভাষা তাঁর তাঁর কাছে অবশ্যই প্রিয়। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। এই ভাষা আমার প্রিয় ভাষা। এই ভাষায় আমি আমার মনের কথা খুলে বলতে পারি। আল্লাহর মহাদান মাতৃভাষাকে সঠিক মর্যাদা দেয়ার শিক্ষা আমরা কুরআন মজীদ থেকে পাই। হাদিস শরীফ থেকেও পাই।

পরিশেষে সপ্তদশ শতাব্দীর কবি আবদুল হাকিম রচিত নুরনামা পুঁথির কয়েকটি পঙ্ক্তি প্রণিধানযোগ্য। কবি বলেন, যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।

লেখক : পীর সাহেব দ্বারিয়াপুর শরীফ, উপদেষ্টা

ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহম্মদ (সা.),

সাবেক পরিচালক ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২০/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: