কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সুন্দরবনকে বাঁচান

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

সুন্দরবনে তেলবাহী জাহাজডুবির ফলে বনে তেল ছড়িয়ে পড়াকে ‘গুরুতর’ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত সমীক্ষা দল। তাদের মতে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তেল ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব সীমিত হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ক্ষতি ডেকে আনতে পারে বনের প্রাণিকুল ও প্রতিবেশের ওপর। সম্প্রতি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে ‘সুন্দরবনে তেল ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব’ শীর্ষক এ সমীক্ষা প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথাই বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ৯ ডিসেম্বর ২০১৪ সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের কাছে শ্যালা নদীতে একটি জাহাজের ধাক্কায় সাড়ে তিন লাখ লিটার তেল নিয়ে ডুবে যায় তেলবাহী জাহাজ সাউদার্ন-৭। এর ফলে সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়ে তেল। ঘটনার পর সরকার তাৎক্ষণিকভাবে শ্যালা নদীতে নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করে। কিন্তু পরিকল্পনার ঘাটতি ও সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান না থাকায় ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণ করতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। তবে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা ও দুর্ঘটনার পর নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় কমেছে ক্ষতির পরিমাণ। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয় ও তথ্য সংগ্রহে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল ২৩ থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সুন্দরবনে সমীক্ষা চালায়। এটি তত্ত্বাবধান করে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউএনডিপি)। বিশেষজ্ঞ দলে ছিলেন জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচীর (ইউএনইপি) সদস্য, তেল নিঃসরণে বিশেষজ্ঞসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের সদস্যরা। এছাড়াও এ দলে ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ঢাকা ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক।

বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ছয় হাজার বর্গকিলোমিটার হলেও বিশেষজ্ঞ দল দুর্ঘটনাস্থলের প্রায় ৪০ কিলোমিটার জুড়ে নদী ও তীরে সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, ছড়িয়ে পড়া সাড়ে তিন লাখ লিটার তেলের মাত্র ১৯ শতাংশ উত্তোলন করা হয়েছে। বাকি তেল রয়ে গেছে সুন্দরবনের প্রতিবেশ ব্যবস্থায়। তেলের কারণে সেখানকার মাছের পরিমাণ কমেছে এবং মাছ ধরার সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোন ধরনের নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি ছাড়া তেল উত্তোলন করার ফলে বেশির ভাগ মানুষই আক্রান্ত হয়েছে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায়। সমীক্ষা প্রতিবেদনে সুন্দরবনের জলজ প্রাণী এবং সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকায় কি ধরনের প্রভাব পড়েছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য সুপারিশও করা হয়।

সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌচলাচলের অনুমতি দেয়া এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনও কঠোর ব্যবস্থা না নেয়ায় সুন্দরবনকে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতির মুখে ফেলবে। এমন একটি দুর্ঘটনার পরও যদি আগের মতো জাহাজ চলাচল করে এবং দায়ী ব্যক্তিরা শাস্তির আওতায় না আসে তাহলে পরে অন্যরাও আইন না মেনে নৌযান চলাচলের সাহস পাবে। তাই সুন্দরবনকে বাঁচাতে অনতি বিলম্বে যথাযথ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। কোন অবস্থায়ই সুন্দরবন প্রশ্নে কোন অসাধু মহলের কাছে নতি স্বীকার নয়। উল্লেখিত সমীক্ষা প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হোক। সবার আগে শ্যালা নদী দিয়ে নৌচলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। ঘষিয়াখালী খাল চ্যানেলটি দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করা হোক। কোন কারণে সুন্দরবনের সর্বনাশ ঘটানো যাবে না।

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: