মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কোহলির সেঞ্চুরিতে শোচনীয় হার পাকিস্তানের

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
কোহলির সেঞ্চুরিতে শোচনীয় হার পাকিস্তানের
  • চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৭৬ রানে পরাজয়

মিথুন আশরাফ ॥ যুগ যুগ ধরে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান লড়াই হচ্ছে। কিন্তু জয় পাচ্ছে একটি দলই, ভারত। এবারও যেমন ৭৬ রানের বড় জয়ই হলো মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারতেরই। ক্রিকেট ইতিহাসের খাঁচায় ভারতের কাছে যে হার লেখা হয়েছে, সেটিতেই বন্দী হলো ফের পাকিস্তান।

সেই ১৯৯২ সাল থেকে বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধ শুরু। প্রায় দুই যুগ হয়ে গেলেও বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান জয়ের মুখটি দেখতে পেল না। এক এক করে ১৯৯২, ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০১১ ও রবিবারও একাদশ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই এ্যাডিলেডে হারল পাকিস্তান। বিরাট কোহলির ১০৭ রানের পর মোহাম্মদ শামির (৪/৩৫) গতির সামনে দুমড়ে মুচড়ে গেল মিসবাহ উল হকের দল। ভারতের করা ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩০০ রানের জবাবে ৪৭ ওভারে ২২৪ রানেই গুটিয়ে গেল পাকিস্তান।

একইদিনে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে ২৫৬ রানের বিশ্বরেকর্ড করা জুটি গড়েন দুই সেঞ্চুরিয়ান ডেভিড মিলার (১৩৮*) ও ডুমিনি (১১৫*)। এ দুইজনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৬২ রানের জয় তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪ উইকেটে ৫০ ওভারে ৩৩৯ রান করে জিম্বাবুইয়েকে ৪৮.২ ওভারে ২৭৭ রানেই অলআউট করে দেয় প্রোটিয়ারা। তবে ম্যাচটিতে ভাল খেলে জিম্বাবুইয়েও। হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ৮০ ও চামু চিবাভার ৬৪ রানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে দলটি। সামনে প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে, সেই ইঙ্গিত দিয়ে দেয়।

বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধ অস্ট্রেলিয়া থেকেই শুরু হয়েছিল। ১৯৯২ সালে সিডনিতেই দুই দল প্রথমবার বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়। সেই থেকে যে পাকিস্তান হারতে শুরু করে, ছয়বার মুখোমুখি হয়ে প্রতিবারই হেরে যায়!

সিডনির (৪৩ রানে হার) পর ১৯৯৬ সালে ভারতের ব্যাঙ্গালোর (৩৯ রানে হার), ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের ওল্ডট্রাফোর্ড (৪৭ রানে হার), দক্ষিণ আফ্রিকার সেঞ্চুরিয়ান (৬ উইকেটে হার) ও ২০১১ সালে ভারতের মোহালিতে (২৯ রানে হার) হারে পাকিস্তান। এবারও নিয়তিতে সেই হারই লেখা থাকে।

কোহলির কাছ থেকে যে রকমটি আশা করা হয়েছে, ঠিক সেই রকম নৈপুণ্যই উপহার দিয়েছেন এ ব্যাটসম্যান। ৭৬ রানে অবশ্য নতুন জীবন পেয়েছেন। হারিশ সোহেলের বলে ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটরক্ষক আকমলের হাতে যায় বল। কিন্তু ম্যাচের সেরা এ ব্যাটসম্যানের ক্যাচটি ধরতে পারেননি আকমল। সুযোগটি পেয়ে সেঞ্চুরিই করে বসেন কোহলি। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই সঙ্গে ভারতের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরিয়ানও বনে যান। যে কাজটি শচীন টেন্ডুলকারও করতে পারেননি, তা করে দেখিয়ে দিলেন কোহলি। সঙ্গে ১২৬ বলে ৮ চারের মারে ১০৭ রান করে সোহেল খানের বলে আউট হন। দ্বিতীয় উইকেটে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে আবার শেখর ধাওয়ানের (৭৩) সঙ্গে ১২৯ রানের রেকর্ড জুটিও গড়েন কোহলি। একদিনে দুই রেকর্ড অর্জন করলেন এ ব্যাটসম্যান। তাও আবার পাকিস্তানের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিপক্ষে! তাইত ম্যাচ শেষে ম্যাচসেরা কোহলি বলেছেন, ‘সম্ভবত আমার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসগুলোর মধ্যে একটি। পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ম্যাচ। দেশের জন্য কিছু করতে হবে। এ তাগিদ থেকেই এগিয়ে চলা। এবং সাফল্যও পাওয়া।’ সুরেশ রায়নাও এদিন দুর্দান্ত খেলেছেন। ৭৪ রান করেছেন।

আশ্চর্য্য লেগেছে পাকিস্তানের ব্যাটিং দেখে। মিসবাহ উল হক (৭৬ রান) ও আহমেদ শেহজাদ (৪৭) ছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যানই নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বলেই কী এমন? স্নায়ু চাপ জয় করা যায় না? পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ উল হক বললেন, ‘৩০০ রান ভাল স্কোর। যদি সবাই নৈপুণ্য দেখাতে পারে তাহলে জয় সম্ভব। কিন্তু মাঝখানেই সব গরবর লেগে গেছে।’ ভারত অধিনায়ক ধোনি কিন্তু দারুণ খুশি, ‘আমি দারুণ খুশি। প্রথমে ব্যাটিং করে জয় পাওয়া সহজ নয়। কিন্তু শেখর ও কোহলি বড় জুটি গড়েছে। এরপর রায়না এসে সেই ধারাবাহিকতা ধরেছে। এমন ব্যাটিং দেখে ভালই লাগছে।’

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: