কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

খালেদা জিয়া এখন মিডিয়ায় আর নাশকতায়

প্রকাশিত : ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • মুহম্মদ শফিকুর রহমান

আমার জন্মস্থান চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থেকে এক ছোট ভাই রাজনৈতিক কর্র্মী প্রায়ই টেলিফোন করে জানতে চান দেশে কী হচ্ছে, কী হতে যাচ্ছে এবং আগামীতে কী হতে পারে? দেশ কোন্দিকে যাচ্ছে? আমাদের প্রধানমন্ত্রী তো বঙ্গবন্ধুকন্যা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে এখন তাঁর তুলনা কেবল তিনি নিজেই। তুলনা যদি করতেই হয় তবে কেবল শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গেই করতে হয়, অন্য কারও সঙ্গে নয়। আজ যখন দেশের ১৬ কোটি মানুষের ১৫ লাখ সন্তান এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারছে না খালেদা জিয়ার পেট্রোলবোমার কারণে, তখন প্রধানমন্ত্রী কেন কঠোর হচ্ছেন না? প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই জানেন, আমরাও জানি, ভাল কথা, দেশের কথা, দেশের ভবিষ্যত কর্ণধার আমাদের সন্তানদের কথা খালেদা জিয়ার কানে ঢুকবে না। যে ভদ্র মহিলার (তিনিও মা) প্রাণ কাঁদে না পেট্রোলবোমায় পুড়ে ছাই হওয়া বা শরীরে ঝলসে যাওয়া শিশু-কিশোর-কিশোরীর বা শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের পোড়ামুখ দেখে, তাঁকে তো প্রেমের বাণী শুনিয়ে লাভ নেই। তাঁকে শোনাতে হবে কোন কিছুই চ্যালেঞ্জ ছাড়া যেতে দেয়া যাবে না (ঘড়ঃযরহম রিষষ মড় ঁহপযধষষবহমবফ)। পেট্রোলবোমা মারলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাতে কড়া পরাবেই। এর কোন বিকল্প নেই। জনগণই শেখ হাসিনাকে এ দায়িত্ব দিয়েছে।

ছোট ভাইটির ধারণা, যেহেতু আমি ঢাকায় আছি, মিডিয়া এবং রাজনীতির কাছাকাছি থাকি, আমিই সঠিক তথ্য তাকে দিতে পারব। কিন্তু আমি তো জানি কী ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছেন খালেদা জিয়া। অবশ্য নেপথ্যে রয়েছে তাঁর দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ফেরারি আসামি লন্ডনপ্রবাসী তারেক রহমান। তারেক যা বলে খালেদা জিয়া তাই মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। যদিও তারেকের কারণে বিএনপির শিক্ষিত সিনিয়র নেতারা কেউ পেট্রোলবোমা সমর্থন করেন না। আছে কেবল সোহেল, রিজভী বা শিমুলÑতারেক তাদের কাছে পাঠায়, তারা মিডিয়াকে সরবরাহ করে। মিডিয়ার আলোচনা পরে করব। তার আগে বলতে চাই, ষাটের দশকে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটা কথা খুব প্রচার পেয়েছিল। কলা ভবনের একজন বিভাগীয় প্রধান নাকি বলতেনÑ যিরষব ও যধাবহ’ঃ মড়ঃ ১ংঃ পষধংং হড় ংঃঁফবহঃ ড়ভ সু ফবঢ়ধৎঃসবহঃ রিষষ নব ধনষব ঃড় মবঃ রঃ. সেই বিভাগীয় প্রধান শ্রদ্ধেয় স্যার একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান হানাদার সামরিক জান্তার সঙ্গে কোলাবরেশনের কারণে ‘রাজাকার’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন এবং পরবর্তী জীবন বড় অসম্মানের কাটিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার পরবর্তী জীবন কি জাতীয় সম্মানের সঙ্গে কাটবে এখনই বলা যাবে না। তবে আমাদের সন্তানদের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নে তাঁর মানসিকতাও আমাদের সেই কলা ভবনের বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে মিলে যায়। পার্থক্য শুধু বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর সাহেব ছিলেন পণ্ডিত ব্যক্তি আর খালেদা ‘আন্ডার ম্যাট্রিক গ্র্যাজুয়েট’। তবে একই মানসিকতা একইভাবে কাজ করছে। তিনি যখন ‘আন্ডার ম্যাট্রিক গ্র্যাজুয়েট’ তখন অন্য কারোর অধিকার নেই ‘ওভার ম্যাট্রিক গ্র্যাজুয়েট’ হওয়ার। তাঁর দুই ছেলে তারেক-কোকোও। কাজেই দেশের ১৫ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবক-শুভাকাক্সক্ষী মিলে কয়েক কোটি মানুষের জন্য তাঁর দরদ থাকবে কেন? ছোট ভাই রাজনৈতিক কর্মীকে বললাম, আমি অন্তত তাঁর কাছ থেকে কিছু আশা করি না। তবে এবার ভদ্রমহিলা ‘মোনাফেক’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি একদিকে আমাদের ১৫ লাখ সন্তানের এসএসসি পরীক্ষা ব্যাহত করানোর জন্য প্রথমে গত রবিবার সকাল থেকে ৭২ ঘণ্টা হরতাল ডাকলেন অবরোধের ওপর। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা পিছিয়ে দিল। খালেদা জিয়া তখন এই ৭২ ঘণ্টার সঙ্গে আরও ৩৬ ঘণ্টা যোগ করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০৮ ঘণ্টা হরতাল ডেকে দিলেন। অথচ এ সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় মৃত্যুবরণকারী তাঁর দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর দুই কন্যাকে তাদের মার সঙ্গে মালয়েশিয়া পাঠিয়ে দিয়েছেন পরীক্ষা দেয়ার জন্য। ওদের বিধবা মাও সঙ্গে গেছেন। এরই নাম খালেদা জিয়া (ঞযু হধসব রং কযধষবফধ)। পেট্রোলবোমায় এ পর্যন্ত ৭০ জন প্রাণ ত্যাগ করেছে, বোমার আগুনে কেউ সঙ্গে সঙ্গে অঙ্গার হয়েছে, কেউ আগুনে পোড়া ঝলসানো শরীর নিয়ে কাতরাতে কাতরাতে ইন্তেকাল করেছে। তাদের মধ্যে শিশু যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ২ বছরের শিশু বা কিশোর-কিশোরী। মিডিয়ার সুবাদে যেই দেখেছে তার প্রাণ কেঁদেছে, কাঁদেনি খালেদা জিয়ার প্রাণ। ‘অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী’ বলে একটা কথা আছে এবং এই অল্প বিদ্যা নিয়ে সোয়া দুইবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি এতটাই নিষ্ঠুর এবং বর্বরতার আশ্রয় নিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে একটি দেড়-দুই বছরের বাচ্চার মৃত্যু যন্ত্রণাও তাঁর কানে পৌঁছে না। কানে পৌঁছে না বিভিন্ন হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুপথযাত্রী শত শত পেট্রোলবোমায় ঝলসে যাওয়া মানুষের কাতরধ্বনি। অবশ্য তাঁর দলের কিছু নেতাও তাঁর মতোই। এক মেজর (অব.) হাফিজ বলেছেন, ‘পরীক্ষা দিয়ে কি হবে?’ তাঁর এ কথার অর্থ পরীক্ষা, মানুষের জীবন, সম্পদ সব গোল্লায় যাক, তাঁর ম্যাডামের ক্ষমতা চাই। ক্ষমতা না হলে যে এক ছেলে দুর্নীতির সাজা মাথায় নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে, আরেক ছেলেও ওয়ারেন্টের আসামি হিসেবে বিদেশে পলাতক, তাকেও দেশে আনতে পারছেন না। তবে পাঠক আপনাদের বলে রাখি, তাকে দেশে এনে শাস্তি দিতে না পারলে বিপদ। কেননা, এরই মধ্যে জানাজানি হয়ে গেছেÑ তারেক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, তারই ফলশ্রুতিতে দেশাভ্যন্তরে জামায়াত-শিবিরের জঙ্গীদের দিয়ে পেট্রোলবোমা কিংবা গানপাউডার দিয়ে ট্রেন, বাস, গাড়ি-ঘোড়া, রিকশা-অটোরিকশা পোড়ানো হচ্ছে, দুর্ঘটনা ঘটিয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। তাদের টার্গেট হলো বাংলাদেশকে আল কায়েদা, তালেবান, আইএস, বোকো হারামের মতো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের দিকে নিয়ে যাওয়া। কেন তারা এসব করছে? এর উত্তর বেশি জটিল ব্যাপার নয়। খালেদা জিয়ার টার্গেট হলো ক্ষমতায় যাওয়া। ক্ষমতা হাতের মুঠোয় এনে যেমন ছেলেকে নিরপরাধ প্রমাণ করে দেশে আনতে সক্ষম হবেন, অন্যদিকে জামায়াত-শিবির তাঁকে অর্থ দিয়ে, সশস্ত্র ক্যাডার দিয়ে সহযোগিতা দিচ্ছে তাদের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও কারাগারে আটক নেতাদের (নিজামী-মুজাহিদ-সাকা-সাঈদী-মীর কাশেম আলী...) সাজা বাতিল করে তাদের মুক্ত করতে পারবেন। তখন যুদ্ধাপরাধ বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালও ভেঙ্গে দিতে পারবেন, যেমন করেছেন তাঁর স্বামী জিয়া বঙ্গবন্ধু গঠিত ৭৪টি যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দিয়েছিলেন এবং ১১ হাজারের মতো সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। আরেকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। আজ হোক বা কাল হোক জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। খালেদা জিয়া, ক্ষমতায় যেতে পারলে তাও ঠেকানো যাবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াত-শিবিরকে রাজনীতি করতে দেন। খালেদা জিয়া তো বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী দুই আলবদর নিজামী-মুজাহিদের গাড়িতে শহীদের রক্তরাঙা পতাকা তুলে দেন, তাদের মন্ত্রী বানান। এভাবে জিয়া-খালেদারা সঙ্গিনের খোঁচায় সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানী আদর্শে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত করে চলেছে।

খালেদা এখন মিডিয়ায়

প্রথমদিকে আমি বলেছিলাম খালেদা জিয়া এখন আর রাজনীতির অঙ্গনে নেই। সেই যোগ্যতাও তাঁর নেই। তিনি এখন আছেন মিডিয়ায় এবং নাশকতায়। নাশকতার কথা তো এতক্ষণে কিছু কিছু বলেছি। এবার মিডিয়ার কথা কিছু বলতে চাই। বাংলাদেশে এখন প্রাইভেট টিভি ও বেতারের সংখ্যা অর্ধশতের কম হবে না বলে আমার ধারণা। পত্র-পত্রিকার সংখ্যাও হাজার ছাড়িয়েছে বলে শুনেছি। এখন যেখানে-সেখানে অনলাইন পত্রিকা এবং সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এসব বেসরকারী টেলিভিশন বা বেতার কেন্দ্রের অধিকাংশেরই অনুমতি বা লাইসেন্স দিয়েছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু এর প্রায় সবই এখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, দুই-একটা সরাসরি বিরুদ্ধে না গেলেও ব্যালান্সের নামে একই ভূমিকা পালন করছে। দেশে সর্বপ্রথম প্রাইভেট টিভি চ্যানেলটি লাইসেন্স পায় একুশে টিভি। কেবল লাইসেন্সই নয়, বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুহৃদ ব্রিটিশ নাগরিক সায়মন ড্রিংকে এনে চ্যানেলটি পরিচালনার দায়িত্বও দিয়েছিলেন।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতা দখল করলে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া হয় এবং সায়মন ড্রিংকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি ও সাংবাদিকদের আন্দোলনে চ্যানেলটি আবার সম্প্রচারের দায়িত্ব পেলে এবার সরাসরি শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে জামায়াত-বিএনপির পক্ষে অবস্থান নেয়। ২০০৮-এর নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট ক্ষমতায় এলেও এর চরিত্র পাল্টায়নি। এই চ্যানেলটি দেখলে মনে হবে আওয়ামী লীগের সমর্থন বলতে কিছু নেই। সব মানুষ খালেদার আঁচলে চলে গেছে। ২-৩টি বড় সংবাদপত্র তো আছেই, পারলে এখন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় বসায়। চ্যানেলগুলোর ব্যালান্সের ২-৪টি নমুনা তুলে ধরে আজকের রচনাটি শেষ করব।

এক. সাধারণ ইথিক্স হলো একটি মিডিয়ায় কর্মরত কোন সাংবাদিক বা সংবাদকর্মী অন্য কোন মিডিয়ায় কাজ করতে পারে না (গোপনে বা ছদ্মবেশে করার কথা বলছি না)। কেননা একটি আরেকটির প্রতিদ্বন্দ্বী। অথচ দেখা যাচ্ছে এক পত্রিকার সম্পাদক বা একটি চ্যানেলের প্রধান সম্পাদক/বার্তা সম্পাদক অন্য চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিচ্ছেন, সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

দুই. কিছু টকার আছেন যাঁরা প্রতিরাতেই একাধিক টকশোতে অংশ নিচ্ছেন। একাধিক টকশো সঞ্চালন করছেন।

তিন. টকশোগুলোতে তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবী বা বৃত্তিজীবী নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। দেশের প্রখ্যাত লেখক গবেষক ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুন এসব বুদ্ধিজীবীকে সংজ্ঞায়িত করেছেন ‘পদাধিকার বলে বুদ্ধিজীবী’ বলে। অর্থাৎ একজন লোক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেই বুদ্ধিজীবী (?) (যেভাবেই হোন না কেন); যেমন ফেরদৌস হোসেন, আসিফ নজরুল; পত্রিকার সম্পাদক হলেই বুদ্ধিজীবী (?) যেমন নাঈমুল ইসলাম খান; মতিউর রহমান চৌধুরী; পত্রিকায় কলাম লিখেই বুদ্ধিজীবী (?) যেমন মাহমুদুর রহমান মান্না, সৈয়দ আবুল মকসুদ; যেমন আমলা বুদ্ধিজীবী (?) ড. সা’দত হুসাইন; এনজিও বুদ্ধিজীবী (?) যেমন মাহফুজউল্লাহ, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান। এ ছাড়াও সাংবাদিক নেতা বা নামের পেছনে ব্যারিস্টার লাগানো আইন ব্যবসায়ী আছেন যাঁদের নাম আমি নিতে চাই না। কারণ তাঁরাও আন্ডার ম্যাট্রিক গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের বুদ্ধিজীবী (?)। কেন চ্যানেলগুলো রাতভর এত টকশো করে? বিষয়টি একেবারেই ব্যবসায়িক। একটি সিরিয়াস কিংবা নন সিরিয়াস টিভি প্রোগ্রাম নির্মাণ করতে যেমন সময়ের ব্যাপার, তেমনি লাখ লাখ টাকার খরচ। তারচেয়ে বরং একজন সঞ্চালক এবং ২ থেকে ৬ জন পর্যন্ত বুদ্ধিজীবী ভাড়া করা গেলে খরচ হবে মাত্র ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। সময় ও খরচ হবে কম। টেলিফোনেই কাজ সারা যাবে। ওইসব ভাড়াটে টকাররা যে কয়েকটি বিষয়ের ওপর কথা বলেন- প্রথমত গত ৫ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি-জামায়াত বা ২০ দলকে জনসভা করতে দিলে ঘটনা এ পর্যন্ত গড়াত না। তাঁরা ভুলে যান ৫ জানুয়ারি ২০১৫ ছিল বিগত নির্বাচনের বর্ষপূর্তি। ক্ষমতাসীন মহাজোট দিনটিকে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ আর বিএনপি-জামায়াত ২০ দলীয় জোট ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের উদ্দেশ্যে জনসভা করতে চেয়েছিল। এবার বলুন কোন্্ পাগলে নিজের পায়ে কুড়াল মারবে। শেখ হাসিনা অনেক দূরদর্শী, তাই গণতন্ত্র রক্ষা দিবসই পালন করতে দিয়েছেন। যাঁরা বলেন ওইদিন সমাবেশ করতে দিলে কিছুই হতো না, তাঁরা ভুলে যান হেফাজতে ইসলাম যখন প্রথমবার ঢাকায় সমাবেশ করতে চেয়েছিল, তখন সরকার ঢাকার প্রতিটি প্রবেশমুখে বাধা দিয়ে সমাবেশ করতে দেয়নি। সো-কল্ড্ বুদ্ধিজীবীরা এ জন্য সরকারের কত সমালোচনা করেছেন। কিন্তু পরে ৫ মে যখন তাদের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করতে দেয়া হলো তখন কি ঘটেছিলÑগোটা মতিঝিল-গুলিস্তান-বিজয়নগর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করেছিল, পবিত্র কোরআন-হাদিসও বাদ যায়নি। দ্বিতীয়ত, যখনই বর্তমান ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের কথা ওঠে, তখন অতীতের একটা-দু’টা ঘটনার কথা উল্লেখ করে এখনকার ধ্বংসযজ্ঞের বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করে। যেমন এক সময় শেরাটন হোটেলের সামনে বাসে গানপাউডার নিক্ষেপ করলে ১১টি প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু তারা ভুলে যায় বাংলাদেশে প্রথম গানপাউডার আমদানি করে শিবির, চট্টগ্রামের চকোরিয়ায় এক বাড়িতে নিক্ষেপ করে সেখানেও একই পরিবারের ১১ জনকে হত্যা করা হয়। তাহলে গানপাউডার, পেট্রোলবোমা, গ্রেনেড নিক্ষেপ কারা করে? এসব সো-কল্্ড্ বুদ্ধিজীবী বর্তমান জঙ্গী তৎপরতা ও নাশকতাকে (ঃবৎৎড়ৎরংস) কিছুতেই নাশকতা বলতে নারাজ। তাদের দৃষ্টিতে এসব কেবলই ‘অপরাধ’। নাশকতা বা জঙ্গী তৎপরতা চললে যে আইএস, বোকো হারাম, তালেবান, আল কায়েদার সঙ্গে লিঙ্ক-আপ হয়ে যায়? আমার এলাকার ‘রফিক মেম্বার’ জানতে চান ফেরদৌস হোসেন কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক? বললাম, শুনেছি তাই। তিনি বললেন, ‘ওর কাছে পড়লে তো ছাত্ররাও সন্ত্রাসী হয়ে যাবে।’

ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

লেখক : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

প্রকাশিত : ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: