মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা

প্রকাশিত : ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি শুধু ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মাসই নয়, মাসটি মাতৃভাষার প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধের বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসে। বাঙালীর অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সেজন্য আমাদের গৌরব করার কারণ নিশ্চয়ই রয়েছে। কিন্তু যে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বাহান্নতে মাতৃভূমির অকুতোভয় সন্তানেরা জীবন দিয়েছিলেন, সে ভাষার শুদ্ধতা রক্ষায় ব্যর্থ হলে পরম গৌরবময় সেই আত্মদান বৃথা যাবে। তাই ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর সবচেয়ে বড় উপায় হলো বাংলা ভাষার স্বাতন্ত্র্য ও শুদ্ধতা মান এবং সৌন্দর্য যাতে অক্ষুণœ থাকে সে লক্ষ্যে সক্রিয় থাকা। মাতৃভাষা সহজাতভাবেই মানুষ আয়ত্ত করে থাকে বটে, যদিও তার চর্চা বা প্রয়োগে সচেতন না হলে সে ভাষার শুদ্ধতা ও বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে না। ভাষা ব্যবহারে হেলাফেলা ও অসতর্কতার কারণে শুদ্ধতা হারাতে পারে প্রাণের ভাষাÑ এটা মনে রাখা কর্তব্য। ভাষার মাস তাই ভাষার প্রতি ভালবাসা প্রকাশের পাশাপাশি দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতনতার মাসও। ভাষার মাসে মাতৃভাষার প্রতি মানুষের ভালবাসা জাগিয়ে তোলা এবং ভাষা-সচেতনতা গড়ে তোলার কাজটি তাৎপর্যপূর্ণভাবে শুরু করা ও তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। নবীন-তরুণ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, আকাক্সক্ষা আর স্বপ্নের আদান-প্রদান মাতৃভাষার মাধ্যমেই সবচেয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হতে পারে। আর এটাও অনস্বীকার্য যে, ভাষার প্রতি ভালবাসা লালনের মধ্য দিয়ে নিজস্ব ভাষাভাষী মানুষের প্রতি ভালবাসা ও মমতা তৈরি হয়, যা সুখে-দুঃখে দুর্যোগে-সুযোগে একে অন্যকে পাশে রাখে। আশঙ্কার বিষয় হলো, বাংলা ভাষায় ইংরেজীর প্রবল অনুপ্রবেশ ঘটছে। এ বিষয়ে সতর্কতা জরুরী। লক্ষ্য রাখতে হবে পরিচর্যার অভাবে যেন বাংলা ভাষার বিশুদ্ধতা না হারায়।

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন দেশের প্রধান সাংস্কৃতিক ঘটনা। ভাষার মাসজুড়ে জাতীয় মননের প্রতীক বাংলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে একাডেমি প্রাঙ্গণ ও অধুনা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত হয়ে থাকে প্রাণের বইমেলা। লেখক-পাঠকদের প্রকৃত মিলনমেলায় পরিণত হয় মেলাটি। উদযাপিত হয় নতুন বইয়ের মহোৎসব হিসেবে। বছরের আর কোন সময় বাংলা ভাষায় এত বিপুলসংখ্যক বই প্রকাশিত হয় না। সেদিক দিয়ে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিকে হাজারো বইয়ের জন্ম মাস হিসেবেও অভিহিত করা চলে। এবারের বইমেলা চলাকালীন আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, যেটিতে অংশগ্রহণ করছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারতসহ ১১টি দেশ ও ভাষার প্রায় পঞ্চাশজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সৃষ্টিশীল ও মননশীল লেখক।

এবার ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকেই টানা তিন দিনের হরতাল আহ্বান করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। প্রশ্ন হচ্ছে, ভাষার মাসের সূচনাতেই যারা দেশবাসীর ওপর এমন অপরিণামদর্শী কর্মসূচী চাপিয়ে দেয় তাদের ভেতর কি ভাষাপ্রেম-দেশপ্রেম অনুপস্থিত? বছরের এই একটি মাসের জন্য লেখক-পাঠক-পুস্তক ব্যবসায়ীরা আগ্রহভরে প্রতীক্ষায় থাকেন। ভাষার প্রতি ভালবাসা ও দায়বদ্ধতার প্রকাশ এবং ভাষাকেন্দ্রিক সৃষ্টিশীল কর্মকা-ের প্রাণোচ্ছলতা ঝুঁকি, শঙ্কা বা কোন ধরনের নাশকতায় যেন স্তিমিত না হয়ে পড়ে। সারাদেশ থেকেই মানুষ আসে বইমেলায়। সেক্ষেত্রে এবার অবরোধ বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সহিংস অবরোধ সংস্কৃতির শ্বাসরোধকারী হোক এটা কারও কাম্য হতে পারে কি? মানুষ বাধাহীনভাবেই সমবেতকণ্ঠে গেয়ে উঠতে চায়Ñ

‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি’, কিংবা ‘মোদের গরব মোদের আশা/ আমরি বাংলা ভাষা।’

প্রকাশিত : ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০২/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: