মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নির্যাতনের আরেক চিত্র

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী ২০১৫

কন্যাসন্তান জন্ম দেয়া কিংবা পরিবারের প্রত্যাশামাফিক সন্তান জন্মদানে ব্যর্থ হলে শ্বশুরবাড়িসহ আপনজনদের নির্যাতন, এ কারণে কখনও কখনও মা বা সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের করুণ মৃত্যুর খবর মাঝেমধ্যে পত্রপত্রিকায় দেখা যায়। পুরো বিষয়টি যে কারও ইচ্ছার বা অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে না তা সবাই জানেন। তারপরও এসব কারণে নারীরা নির্যাতিত হন, কেউ কেউ ঘরছাড়া, সংসারছাড়া হন। গত চার দশকে বাংলাদেশে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি হওয়া সত্ত্বেও নারীকে নানাভাবে নির্যাতনের খবর এখনও শোনা যায়। সম্প্রতি জানা গেল এমনই একটি খবর। এটি নারী নির্যাতনের ঘটনা হলেও কারণটি ভিন্ন। রবিবার জনকণ্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, স্বামীর ভয়ে এক মা তার নবজাতক সন্তানকে বাঁশঝাড়ে ফেলে আসে। মেয়েটি গর্ভধারণের পর থেকেই স্বামী তার ওপর নির্যাতন চালাত। ঘটনাটি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার। বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি।

জানা যায়, ধনবাড়ী পৌর শহরের এক কাঠমিস্ত্রির প্রথম স্ত্রী সন্তান ভূমিষ্ঠের সময় মারা যান। দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন তিনি। সেই ঘরে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে জন্ম নেয়। সে স্ত্রীও মারা গেলে তৃতীয়বারের মতো আবার বিয়ে করে তিনি। সে ঘরেও এক ছেলে। ছেলের বয়স এক বছর হতে না হতেই স্ত্রী আবারও সন্তানসম্ভবা হন। মূলত ঘটনাটির কারণ এটি। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া-বিবাদ হতো। স্বামী বাচ্চাটাকে মায়ের পেটেই নষ্ট করার চেষ্টা চালায়। সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে প্রসব ব্যথা শুরু হলে পাশের বাড়ির বাঁশঝাড়ে গিয়ে এক কন্যাসন্তান জন্ম দেন মা। স্বামীর হুমকি ও নির্যাতনের কথা মনে করে সন্তানটিকে বাঁশঝাড়ে গাছের লতা-পাতা দিয়ে ঢেকে রেখে চলে আসেন। বিকেলে বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনে পাশের বাড়ির লোকজন ওই নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

একবিংশ শতকে এসে এই তথ্যপ্রযুক্তির সফল যুগেও নারীর প্রতি এ আচরণ প্রমাণ করে সমাজে নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ এখনও পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। এখনও নারীকে নানাভাবে বঞ্চনা-লাঞ্ছনা সইতে হয়। এখনও নারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। লোকলজ্জার ভয়ে অনেক নারীই এ ধরনের অপমান ও নির্যাতনের কথা প্রকাশ করেন না। এখনও যে কুসংস্কার, অপসংস্কৃতি সমাজকে ছেয়ে আছে এ ঘটনাটি তার বড় উদাহরণ। সমাজে শিক্ষার প্রসার ঘটেছে এটা সত্যি তবে এখনও সংস্কারমুক্ত, আলোকপ্রাপ্ত মানুষের অভাব রয়েছে। যার কারণে এখনও নারীর সমধিকার সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অবস্থা দেখে মনে হয়, যতদিন এই আধিপত্য থাকবে ততদিন নারীদের দুর্ভোগ পুরোপুরি বন্ধ হবে না। সর্বস্তরে নারী ও পুরুষের সমান দৃষ্টিতে দেখা উচিত। তা না হলে নারীর প্রতি এই ধরনের আচরণ বন্ধ হবে না।

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী ২০১৫

২২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: