রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চিরুনি তল্লাশি জরুরী

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী ২০১৫

সহ্যের সীমা লঙ্ঘন করে চলেছে সহিংসতাকারীরা। মানুষ যখন ঘুরে দাঁড়াবে তখন সব ধুলোয় মিশে যাবে। গণরোষে স্তব্ধ হবে সব জঙ্গীপনা। সীমাহীন নাশকতা। সন্ত্রাস ও জঙ্গীপনা এবং মানুষ হত্যা ও সম্পদ বিনষ্ট অব্যাহত রেখেছে যারা, তারা দেশ ও জাতির শত্রু। ওরা হানাদারদের উত্তরাধিকারী হয়ে বাংলার মানুষকে হত্যা করে চলেছে। মানুষকে রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের নির্বাক বা নীরব থাকার মানেই তা সমর্থন করা। মৃদুস্বরে যাঁরা প্রতিবাদ করছেন, তাঁরা পরোক্ষভাবে এই কাজকে যেন বৈধতাই দিয়ে যাচ্ছেন। অবরোধ-হরতাল ডেকে সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে মাঠে সন্ত্রাস, বোমাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে যারা, তাদের বিষদন্ত ও নখর উপড়ে ফেলার কাজটি যাদের, তারা শৈথিল্য দেখালে সংক্ষুব্ধ হওয়ার কথাই জনগণের। কিন্তু জনগণ এখনও ধৈর্য ধরে আছে। সেই বাঁধ ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম এখন। প্রতিদিনের অবরোধ ও সহিংসতার কারণে বিপর্যস্ত জনজীবন। ব্যবসাবাণিজ্য, পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সব খাতকে স্থবির করে দেয়ার যে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, তা স্তদ্ধ করে দেয়ার কাজটি এতই শ্লথ যে, প্রতিদিন পুড়ছে মানুষ, জ্বলছে গাড়ি, ধ্বংস হচ্ছে সম্পদ। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন। জনগণের জীবনে যে সব দাবি-দাওয়ার প্রতিফলন নেই, প্রয়োজন নেই, সেসব দাবি-দাওয়া নিয়ে সহিংস অরাজকতায় যারা নেমেছে, তারা সরকারের শত্রু হতে পারে, কিন্তু জনগণের সঙ্গে শত্রুতায় মানুষ হত্যায় কেন লিপ্ত হয়েছে? ওরা কি চায়? একাত্তরে পরাজিত শক্তি জামায়াত তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধে বিএনপি নামক সামরিক জান্তার ক্রোড়ে জন্ম নেয়া দলটিকে নিয়ে বাঙালী নিধনে নেমেছে।

এটা কোন সুস্থ রাজনীতি নয়। তারা যদি রাজনীতিই করত তবে সহিংসতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীপনার পথ বেছে নিত না। রাজনীতির নামে, আন্দোলনের নামে এমন মানুষ পোড়ানোর কর্মকা- কেউ কোনদিন গ্রহণ করবে না। জনগণকে জিম্মি করে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা কোন গণতান্ত্রিক এবং সুস্থ কাজ নয়। জনগণের জানমাল ধ্বংস করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করার একটিই অর্থ গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে পাশ কাটিয়ে ভিন্ন পথে ষড়যন্ত্রের খেলা চালানো।

দিনে অবরোধ আর রাতে নাশকতা চালিয়ে যারা বিপন্ন করে তুলছেন দেশবাসীর জীবন তাদের এসব হীন কর্মকা-ের পেছনে অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া আর কিছুই নেই। কিন্তু এভাবে মানুষ ও সম্পদ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বরদাশত যাঁরা করছেন, তাঁরা যদি জনগণের নিরাপত্তা বিধান করতে না পারেন তাহলে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। অভিযোগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শৈথিল্যের কারণেই এত প্রাণ ক্ষয় আর সম্পদহানি হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট ঘোষণা দিয়ে মানুষ হত্যায় নেমেছে অথচ তা প্রতিরোধে কোন উদ্যোগ নেই, বোমাবাজি যারা করছে তাদের ধরপাকড়ে নেই জোরালো উদ্যোগ। এদের ধরার জন্য সারাদেশে প্রয়োজন চিরুনি তল্লাশি। বিএনপি-জামায়াতের দেশ ধ্বংস কার্যক্রমে প্রশিক্ষিত জঙ্গীরা যে মাঠে নেমেছে তা বলাই বাহুল্য। এসব জঙ্গী, সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালাতে হবে। একটি সন্ত্রাসীও যেন রেহাই না পায়, আর যেন একটি মানুষকেও প্রাণ হারাতে না হয়- এটা নিশ্চিত হওয়া জরুরী।

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী ২০১৫

১৮/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: