রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক সমীপে

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪
  • চলনবিলের বৈচিত্র্য হুমকির মুখে

দেশের ‘মৎস্য ভাণ্ডার’ নামে খ্যাত বৃহত্তম চলন বিলের প্রকৃতি আজ হুমকির সম্মুখিন। চলন বিলে পূর্বে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছিল বর্তমানে সেই সৌন্দর্য আর নেই বললেই চলে। প্রকৃতির বৈচিত্র্য আজ অনেকাংশে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পাখিগুলোর মধ্যে পানকৌড়ি, ডাহুক, কানা সাদা বক, শকুন, মাছরাঙ্গা, শালিক ও চড়ুই পাখি। জলজ প্রাণীর মধ্যে কচ্ছপ, শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া। জলজ উদ্ভিদ কলমিলতা, কচুরিপানা, শাপলা শালুক। মাছের মধ্যে পবদা, ভেদা, গুজা, শিং, গজার, চিতল, মাগুর, টাকি মাছ ইত্যাদি।

চলন বিলের এসব জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাবার অন্যতম কারণ হলো- জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে সঠিক সময়ে বন্যা না হওয়া, ও বন্যার পানি দীর্ঘসময় ধরে না রাখা, কৃষিক্ষেত্রে অধিক পরিমাণে সার কীটনাশক প্রয়োগ। আষাঢ় শ্রাবণ মাস বন্যার সঠিক সময় হলেও জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে এখন বন্যা হয় ভাদ্র-আশ্বিনে। কিন্তু, তাও বেশি দিন স্থায়ী থাকে না। ফলে মাছ ও জলজ উদ্ভিদের বংশ বিস্তারে বাধাবিঘ্ন হয়। কৃষিক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে অনেক পাখি ও প্রাণীর জীবনবিন্যাস হয়ে যাচ্ছে। যার ফলেই চলন বিলে জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

তাই, চলন বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের সবার নিজ উদ্যোগসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

দিলরুবা রিজওয়ান দিনা

আয়েশ, সিংড়া-নাটোর।

চাকরিজীবী মুক্তিযোদ্ধার বয়সসীমা

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনকের আজীবন সংগ্রাম ও নেতৃত্বের ফসল বাংলাদেশ। শুধু বাংলাদেশই নয় পৃথিবীর সকল দেশের দূতাবাস, বিশ্ব মানচিত্রই নয় বিশ্বের বহু জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্মানের সাথে জড়িত বাংলাদেশ। দিকে সমুদ্র জয় সমাপ্ত, প্রতিবেশীদের সঙ্গে অসমাপ্ত সম্যসাগুলো প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ও সময় উপযোগী নেতৃত্বের ফলে অচিরেই দূর হয়ে যাবে বলে জাতি আশা করে। দেশ-বিদেশে এত সুনাম ও অর্জনের পরও কিছু কানাদলের উন্নয়ন অগ্রগতি চোখে পড়ে না। তারা রাতে দেখে, দিনে দেখে না। থাকুক তারা, ওদের চোখের চিকিৎসা পশ্চিম ছাড়া হবে না। দেশ সবক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। জনবান্ধব সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করতে সরকারী কর্মচারী মুক্তিযোদ্ধাদের এক বছর বৃদ্ধি করেন কিন্তু অন্যদের দাবির প্রেক্ষিতে সকলেরই দুই বছর বৃদ্ধি করেন। ফলে তাদের বয়সসীমা ৫৯ বছরে উন্নীত করা হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ৬০ বছর করেছেন। কিন্তু দেশের জন্য জীবনবাজি ধরা মুক্তিযোদ্ধারা আবেদন করে আসছে সরকারী চাকরিজীবী মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে ২ বছর বাড়িয়ে ৬১ বছর করা হোক।

এসএম আবদুর রাজ্জাক

বীর মুক্তিযোদ্ধা, রংপুর।

স্বাস্থ্য সহকারীদের সুখ-দুঃখ

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মচারীদের পদের নাম স্বাস্থ্য সহকারী। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতরের যত সাফল্য রয়েছে তার প্রতিটির অন্যতম নেপথ্য কুশীলব এই স্বাস্থ্য সহকারীগণ। এই আবহমান বাংলায় যখন শোনা যয় কোন পোলিও রোগী নাই, যক্ষèা রোগী, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু ক্রমহ্রাসমান তখন একজন স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে মনে অনাবিল সুখের সুবাতাস বয়ে যায়। আশির দশক থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত স্বাস্থ্য সহকারীগণ নিরলসভাবে সফলতার সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। টিকা দেয়া ও খাওয়ানো একজন দক্ষ টেকনিক্যাল লোকের পক্ষেই সম্ভব। আর এই টেকনিক্যাল কাজটিই শতভাগ দক্ষতা দিয়ে একজন স্বাস্থ্য সহকারী করে থাকেন। প্রতিটি স্বাস্থ্য সহকারীকে মাসব্যাপী প্রায় একত্রিশ প্রকারের কাজ শতভাগ সম্পূর্ণ করতে হয়। অথচ প্রতিটি স্বাস্থ্য সহকারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সপ্তাহে প্রতিদিন (ছুটির দিন বাদে) নিজস্ব ওয়ার্ড, ইউনিয়ন এমনকি উপজেলা সদরেও তাঁদের যাতায়াত করতে হয়। কি রোদ, বৃষ্টি কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে একজন স্বাস্থ্য সহকারীকে ছুটে চলতে হয় নিরন্তর। তাদের দাবি শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা সকল স্বাস্থ্য সহকারীগণকে টেকনিক্যাল মর্যাদা প্রদান করে বেতন কাঠামো গঠন এবং যাতায়াত ভাতা প্রতিদিন ন্যূনতম ১৫০ টাকা হারে প্রদান করা সংগত হয়ে পড়েছে। মানবকল্যাণের স্বাস্থ্যসেবা হোক সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতার এই প্রত্যাশা সকলের।

মোঃ কবীর হোসাইন

শ্রীপুর, গাজীপুর।

শকুনের শাপে গরু

মরে নাকি?

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ১৩-১২-১৪ নারায়ণগঞ্জ সভায় যে বক্তৃতা দিয়েছেন, এতে অনেকে হতবাক এবং বাকরুদ্ধ হয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য বিভিন্ন মিডিয়ায় পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। বেগম জিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে আমাদের মারার প্রয়োজন নাই। তবে তাঁর ওপর আল্লাহর গজব নেমে আসবে। আল্লাহর গজবেই তিনি শেষ হয়ে যাবেন।’ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই ধরনের বক্তব্য মোটেই শোভনীয় নয়। আড়াইবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মুখে এটি একেবারেই বেমানান। আমরা কেউ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কিংবা বেগম খালেদা জিয়ার শেষ কামনা করি না। আমরা কোন নেত্রীকে অকালে বা অস্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করি না। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আমার নিজ জেলার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় আমি খুব বেশি বেশি লজ্জা বোধ করি। বিএনপি এবং তার দল কখনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী নয়। শেখ হাসিনাকে মারার দরকার নেইÑ এমন বক্তব্য আসলে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন তা দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার নয়। একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তাই জানেন কখন কার ওপর গজব নাজিল করবেন কিংবা কখন কাকে গজব থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন?

রণজিত মুজমদার

সোনাগাজী, ফেনী।

কৃষির উন্নয়ন আরও

করতে হবে

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষি বলতে মানুষের জীবনের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য উদ্ভিদ ও প্রাণিজসম্পদ উৎপাদন করাকেই বোঝায়। তাই কৃষি হচ্ছে এক ধরনের কাজ যা শস্য উৎপাদন, পশু-পাখি পালন, মৎস্যচাষ, বনায়ন প্রভৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল। কৃষির উন্নয়ন মানে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন। জীবিকা নির্বাহের জন্য দেশের প্রায় ৭৫ ভাগ লোক এই কৃষির পেশায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। মোট জাতীয় উৎপাদনের শতকরা প্রায় ২৫ শতাংশ আসে এই কৃষি খাত থেকে। কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদিত বিভিন্ন খাদ্যশস্য, ফলমূল, শাক-সবজিসহ মাছ, ডিম, দুধ প্রভৃতি ধরনের খাদ্য জনগণের খাদ্যসহ যাবতীয় চাহিদা পূরণ করা করে। শিক্ষা ছাড়া মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোও এই কৃষির ওপর নির্ভরশীল।

দেশের বেশিরভাগ শিল্পে উৎপাদিত দ্রব্যর কাঁচামাল সিংহভাগই আসে কৃষি থেকে। বিশেষ করে বস্ত্রশিল্প, পাটশিল্প ও কুটির শিল্পের কাঁচামাল। অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন প্রকার কৃষিজাত দ্রব্য রফতানি করে আয় করে এই দেশ। সরকারের আয়ের বিরাট অংশও কৃষি খাত থেকে আসে। তাই এদেশের কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। আর এই কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি দেশের কৃষকরাই সম্পন্ন করে থাকে।

ধান, ডাল, গম, তেলবীজ, যব, যব, আলু, মশলা, ভুট্টা, তামাক, শাক-সবজি, ফলমূল, চা, আখ, পাট, তুলা, রেশম, রবারসহ সব ধরনের কৃষিজাত দ্রব্য কৃষকরা উৎপাদন করে। তারা যুগের পর যুগ আত্মপোষণ ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছে।

প্রাচীনকাল থেকেই এ দেশের অধিবাসীরা পশুপালন করে আসছে। কৃষিকাজ পরিচালনা, পরিবহন, মাংস ও দুধ সরবরাহ, পশমি বস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে আমাদের গ্রামাঞ্চলের লোকেরা গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া প্রভৃতি গবাদি পশুপালন করে থাকে। তবে বেশি শস্য উৎপাদনের জন্য জমি, শস্যাদির স্থানান্তর, দুধ ও মাংসের চাহিদা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে গবাদি পশুর চাহিদা বর্তমানে যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য পশুপালন একটি লাভজনক পেশা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে দেশের অনেক বেকার লোক পশুপালনসহ হাঁস-মুরগি ও কোয়েল পালনও স্বকর্মসংস্থানের অন্যতম উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

সম-সাময়িক সময়ে প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলে মাছ চাষ স্বকর্মসংস্থানের একটি অন্যতম উপায় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক এ পেশায় জড়িত হচ্ছে। তারা পুকুর, দীঘিতে মাছ চাষ করছে। বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে মাছ চাষের কলাকৌশল অনেক উন্নত হয়েছে। দ্রুত বর্ধনশীল নতুন নতুন প্রজাতির মাছ এদেশে আনা হচ্ছে। প্রকৃতির উপর নির্ভর না করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে পোনা উৎপাদন করা হচ্ছে। পোনা উৎপাদন বা হ্যাচারীর মাধ্যমেও অনেক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে।

এছাড়া বর্তমানে বনায়ন, নার্সারি, ফুলের বাগান করে আমাদের দেশের বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে। তাই এদেশের কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম।

মোঃ আউয়াল মিয়া

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।

বন্যেরা বনে সুন্দর তারেক পাগলা গারদে

দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ-বাণিজ্য ও বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের মাধ্যমে নিজ নেত্রী, দলও দেশের সুনামকে জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন তিনি। চার দলীয় জোট সরকারের আমলে হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক বিকল্প শাসন জারি করে অমিত পরাক্রমশীল হিসেবে নিজের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সমর্থ হয়েছিলেন। তারই পৌরহিত্যে ২০০১ সালে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। শুধু কি তাই! দুর্নীতির হ্যাট্রিক শিরোপা অর্জনের (২০০৩, ২০০৪ ও ২০০৫-এ) বিরল সাফল্য বাংলাদেশে ঝুলিতে জমা হয় তারই অসামান্য গুণপনায়।

দুর্নীতি ও অর্থপাচারের দায়ে লন্ডনে নির্বাসিত হয়ে বাংলাদেশের প্রথম হিজরতকারী নেতা হওয়ার গৌরবও তারই। ওয়ান ইলেভেনের পর বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে গা বাচাতে চিকিৎসার অজুহাতে নাকে খত দিয়ে (মুচলেকা) লন্ডনে পালিয়ে বেঁচেছেন। লন্ডনে গিয়ে তারেকের মস্তিস্কে সমস্যা দেখা দিয়েছে। হালে ‘ইতিহাসবিদ’ সেজেছেন।

বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে বিএনপি নামক দলটির অবস্থান ও প্রাসঙ্গিকতা যখন ম্রিয়মান ও পতনোন্মুখ, তখন তারেক রহমান ইতিহাসের সত্য ভেঙে দেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও জাতির পিতা সম্পর্কে একের পর এক মনগড়া, বির্তকিত ও অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করে যাচ্ছেন। লন্ডনে বসে সুপরিকল্পিতভাবে ইতিহাস বিকৃতি করে ‘ইতিহাসবিদ’ সেজে বসেছেন।

বেশ ক’দিন আগে তিনি বঙ্গবন্ধুকে ‘পাকবন্ধু’ বলার দুঃসাহস দেখাতেও কসুর করেন নি। একই বক্তৃতায় তিনি তার মরহুরম পিতা সামরিক শাসক জিয়াকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বলার মতো আষাড়ে গল্প ফেঁদেছেন যা হাস্য রসের সৃষ্টি করেছে সচেতন মানুষের মধ্যে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তিনি মানসিক বিকারে ভুগছেন। তিনি মানসিক রোগী তথা বদ্ধ উন্মাদে পরিণত হয়েছেন। না হলে বদ্ধ উন্মাদের প্রলাপ তার মুখ থেকে আমাদের শুনতে হবে কেন? শুনতে হবে কেন, যাঁর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে, সেই বঙ্গবন্ধু নাকি রাজাকার?

কবি বলেছেন, বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। সেই সূত্রে আমরা বলতেই পারি, বদ্ধ উন্মাদ কিংবা মানসিক ভারসাম্যহীনরা থাকবে মানসিক হাসপাতালে। খাঁটি বাংলায়, পাগলা গারদে। তাই ‘ইতিহাসবিদ’ তারেকের মতো বদ্ধ উন্মাদ ও বিকৃতমস্তিষ্কের লন্ডনে নয়, পাগলা গারদেই ঠাঁই হওয়া বাঞ্ছনীয়। এবং সে দায়িত্ব বিএনপিরই। নিজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বাথেই বিএনপির এই দায়িত্ব পালন করা উচিত।

শামসুজ্জামান খান

শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

জীবনরক্ষাকারী ওষুধেও ভেজাল

ভেজালের এই দুনিয়ায় এখন আসল ভেজালটাই ভেজাল হয়ে গেছে। মাছে বিষাক্ত ফরমালিন, ফলে মিশাচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, প্রোফাইল প্যারা টিটিনিয়াম পাউডার, বেকারি সামগ্রিতে রয়েছে বিষাক্ত রং, মুড়িতে মেশানো হচ্ছে ইউরিয়া সার। জীবনরক্ষাকারী ওষুধেও ভেজাল। ভেজাল খাদ্য খেয়ে অসুস্থ হয়ে ওষুধ খাবেন, রোগ সারছে না বরং আরও নতুন নতুন উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। কারণ ওষুধে ভেজালে সয়লাব। সামান্য কিছু মুনাফার জন্য লাখ জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে।

বিভিন্ন সময়ে দেখাগেছে, ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযানের উদ্যোগ নিলেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তারা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওষুধের দোকান বন্ধ করে দেয়। রোগীরা পড়ে যায় জীবনমৃত্যুর ঝুঁকিতে। অথচ এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের ভেজাল ওষুধের কারণে কত মানুষ যে অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে তার কোন হিসাব নেই।

অভিযানের সময় দেখা যায়, ম্যাজিস্ট্রেট আসার আগেই অধিকাংশ ওষুধের দোকান বন্ধ। খবর পেয়েই পালিয়ে যায় ভেজাল ওষুধ ব্যবসায়ীরা। তারপরও দিনভর অভিযানে পাওয়া যায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ। দায়ে বিভিন্নজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাসহ জরিমানা করা হয়। তবে শুধু সাজা দিয়ে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা যাবে না। ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কেনার সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনাবোধ আসতে হবে।

ভেজালবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলো কোন কথাই বলেন না। অথচ এটা একটা জাতীয় সমস্যা। মানুষের জীবনমরণ সমস্যা। ব্যবসায়ীরা চোখ-কান বন্ধ করে রেখেছেন। সুশীল সমাজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে যতটা সোচ্চার, ভেজালের বিরুদ্ধে ততটাই নির্বিকার। কৃষক, ছাত্র-শিক্ষক, ভোক্তা, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইন ও বিচার বিভাগসহ সর্বস্তরের প্রতিটি মানুষকে ভেজাল প্রতিরোধে সোচ্চার ও সচেতন হতে হবে।

নজরুল ইসলাম লিখন

ষরশযড়হধষরভব@মসধরষ.পড়স

ঝুলে আছে নিয়োগ

সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের রেজি. বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০১০ পদে গৃহীত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জেলাভিত্তিক তালিকায় উত্তীর্ণ করে রাখা হয় এবং কিছুসংখ্যক নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু যারা তালিকায় আছে তাদের কাউকে বিগত বছরগুলোতে নিয়োগ দেয়া হয় নাই। তাদের অনেকেরই এই সময়ে বয়সসীমা পার হয়ে গেছে। এখন শুধু এই আশাটুকু নিয়ে সরকারি সিন্ধানেরর অপেক্ষায় চেয়ে আছে। কতৃপক্ষের কাছে আবেদন যে, এই অপেক্ষমাণ তালিকায় উত্তীর্ণদের নিয়োগ দিয়ে এ পরিবারগুলোকে রক্ষার পদক্ষেপ নেয়া হয়।

আফরোজ বেগম

মোহনগঞ্জ,নেত্রকোনা।

বেতন বৈষম্য দূরসঙ্গত

শিক্ষকদের বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। বর্তমানে আমাদের দেশের প্রায় ৯০ ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারী তথা এমপিওভুক্ত। এই এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আজ সবচেয়ে অবহেলিত ও বেতনবৈষম্যের শিকার। উন্নতদেশগুলোতে শিক্ষকদের বেতন-ভাতাদি সবচেয়ে বেশি কিন্তু আমাদের দেশে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সরকারী অফিসের একজন পিয়নের চেয়েও কম। যা দিয়ে বর্তমান দুর্মুল্যের বাজারে চলা খুবই কঠিন। একজন উচ্চশিক্ষিত ননবি.এড শিক্ষকের বেতন স্কেল মাত্র ৬৪০০ টাকা। বি.এড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বেতন স্কেল ৮০০০ টাকা। সঙ্গে বাড়িভাড়া মাত্র ৫০০। টাকা যা দিয়ে বাড়িভাড়া তো দূরে থাক, বর্তমানে বাড়ির একটি বারান্দাও ভাড়া পাওয়া যায় না। চিকিৎসা ভাতা দেয়া হয় মাত্র ৩০০ টাকা অথচ বর্তমানে একজন ভাল ডাক্তার দেখানো ফিস জনপ্রতি ৪০০ টাকা এর সঙ্গে আছে বিভিন্ন ধরনের টেস্ট বিভিন্ন ধরনের ওষুধ কেনার সমাহার। উৎসবভাতা কর্মচারীরা পান বেসিকের ৫০ ভাগ আর শিক্ষকরা পায় মাত্র ২৫ ভাগ। একই দেশে দুই ধরনের নিয়ম। সেক্ষেত্রে একজন ননবিএড শিক্ষক পান মাত্র ১৬০০ টাকা। অপরদিকে বিএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক পান মাত্র ২০০০ টাকা। এই সামান্য উৎসবভাতার টাকা দিয়ে পরিবারের ৩-৪ জন সদস্যদের কি কেনা যায়? কুরবানির ঈদে সমস্যাটা হয় আরও বেশি কারণ এই সামান্য টাকা দিয়ে না কেনা যায় কুরবানির পশু, না যায় পরিবারের সদস্যদের অন্যভাবে খুশি করা।

সুতরাং পে-স্কেল বাস্তবায়নের আগে শিক্ষকদের জন্য আলাদা প্রস্তাবিত বেতনস্কেল চালু করে অবহেলিত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্দশা দূর করা হোক।

বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের পক্ষে-

মোঃ মোশতাক মেহেদী

সহকারী শিক্ষক

সোনার তরী, হাউজিং এস্টেট, কুষ্টিয়া।

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪

২৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: