মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রকাশ্যে ধূমপান

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪

প্রকাশ্যে ধূমপান অন্যদেরও ধূমপায়ীদের মতো সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে প্রকাশ্যে ধূমপান করার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে বাংলাদেশেও প্রকাশ্যে ধূমপানের ব্যাপারে আইন করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ হলেও এ আইনটি সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না। আর এই আইন কার্যকর না হওয়ায় ধূমপায়ীদের পাশাপাশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে সাধারণ অধূমপায়ী মানুষ। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা ও আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ার ফলে বিষয়টি দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। প্রকাশ্যে ধূমপান রাজধানীসহ সারাদেশে আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে যা উদ্বেগের সৃষ্টি করছে সচেতন মহলে।

শনিবার জনকণ্ঠের শেষ পাতায় ‘প্রকাশ্যে ধূমপান’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রকাশ্যে ধূমপানের বিষয়টি সচিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকাশ্যে ধূমপান বিষয়টি শাস্তিযোগ্য হলেও কেউ তা পরোয়া করে না। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় এই আইন মেনে চলা উচিত সবার। প্রতিবেদনে দেখা যায়, কম বয়সী কিশোর ও যুবকদের মধ্যে প্রকাশ্যে ধূমপানের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। মূলত এ বয়সী ছেলেরা নিজেদের ‘হিরোইজম’কে জাহির করতে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

জানা যায়, ২০০৫ সালে প্রকাশ্যে ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করে তৎকালীন সরকার আইন পাস করে। ওই বছরের ১৩ মার্চ পাবলিক প্লেসে ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান এবং গণমাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার বিধান সম্বলিত একটি আইন সংসদে পাস করা হয়। আইন পাসের ১৩ বছর অতিক্রম করলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা শূন্যের কোঠায়। এর কারণ কী? অভিজ্ঞজনরা মনে করছেন কাগজে-কলমে আইনটি পাস হলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতার কারণে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে যেসব স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয় সেসব স্থানের মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী-আধা সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস, গ্রন্থাগার, লিফট, হাসপাতাল, আদালত ভবন, বিমানবন্দর, নৌবন্দর, বাস টার্মিনাল, ফেরি, থিয়েটার হল, প্রেক্ষাগ্রহ, পাবলিক টয়লেট, শিশুপার্ক এবং সরকারী গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে ঘোষিত যে কোন স্থাপনা ও কেন্দ্র।

প্রতিবেদনটির অনুসন্ধানে জানা যায়, পাবলিক পরিবহনের মধ্যে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও জাহাজে ধূমপানের প্রবণতা বেশি। বাসের যাত্রীদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা কম হলেও বাসচালক, কন্ডাক্টর ও হেলপাররা যাত্রীদের সামনে প্রকাশ্যে ধূমপান করে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ছাত্রদের মধ্যে প্রকাশ্যে ধূমপানের প্রবণতা চোখে পড়ার মতো।

প্রকাশ্যে ধূমপান যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আরোপ করলে অন্যদের মধ্যে তা প্রভাব ফেলবে। প্রকাশ্য ধূমপানকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে আমলে এনে এই প্রবণতাকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে যাতে এই ক্ষতিকর প্রভাব দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ যুবকদের একই ধারায় উৎসাহিত করতে না পারে সেদিকে সবার দৃষ্টি দিতে হবে।

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪

২৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: