আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শেষ হলো আট দিনের আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেষ হলো ১৩তম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব। রাজধানীর সিনেমাপ্রেমীদের জন্য বিশেষ এ আয়োজনে প্রদর্শিত হলো বাংলাদেশশসহ বিশ্বের চল্লিশ দেশের ২০০ ছবি। বাংলাদেশ শর্টফিল্ম ফেরাম আয়োজিত আট দিনের উৎসবের সমাপনী দিন ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন উৎসবে অংশ নেয়া ফিকশন, ডকুমেন্টারি ও নেটপ্যাক বিভাগের অংশগ্রহণকারী নির্মাতাদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের পুরোধা মোহাম্মদ খসরুকে দেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি বিকাশে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা হিসেবে প্রদান করা হয় হীরালাল সেন স্মারক।

বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকারদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান চলচ্চিত্র নির্মাতা ও নাট্যনির্দেশক নাসির উদ্দীন ইউসুফ। উপস্থিত ছিলেন শর্টফিল্ম ফেরামের সভাপতি মানজারে হাসীন মুরাদ। সঞ্চালনা করেন উৎসব পরিচালক তারেক আহমেদ।

ফিকশন বিভাগে জমা পড়া ৮টি চলচ্চিত্রের মধ্যে পুরস্কার জিতে নিয়েছে ডেনমার্কের নির্মাতা গাডমুন্ডুর আর্নার গাডমানসনের ছবি হ্যোয়াল ভ্যালি। এ বিভাগের বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছে প্রোকপি নোগোভিস্টাইন নির্মিত রাশিয়ান ছবি উডেন হর্স। ডকুমেন্টারি বিভাগে সেরা ছবি নির্বাচিত হয়েছে রাশিয়ার নির্মাতা ইরিনা ভ্যাসিলিয়েভার ছবি প্যারাবল অব এ ল্যাম্পশিপ। বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছে পোল্যান্ডের নির্মাতা সন্দীপ রামপাল বলহারা নির্মিত চলচ্চিত্র কটন ড্রিমস। ডকুমেন্টারি বিভাগে সেরা নেটপ্যাক চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে ভারতের স্বাগতা ভট্টাচার্যের ছবি কলকাতার গুপ্তকথা। নেটপ্যাক ফিকশন বিভাগের পুরস্কার পেয়েছে ইরাকের শাহিম ওমর খলিফা নির্মিত চলচ্চিত্র বাগদাদ মেসি।

কাল থেকে সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উৎসব ॥ চলছে বাঙালীর বীরত্বগাঁথা বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। তাই তো রাজধানীজুড়ে বিরাজ করছে বিজয় দিবস উদ্্যাপনের আবহ। আর সেই উদ্্যাপনের অংশ হিসেবে কাল শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উৎসব। এবারের সেøাগান ‘যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে ধার্য গণহত্যাকারী সংগঠনের বিচার অনিবার্য’। এ বছরের উৎসব উদ্বোধন করবেন মানবতাবিরোধী অপরাধের সাক্ষী ও কৌঁসুলিরা। রাজধানীর ১১টি মঞ্চে চলবে পাঁচ দিনের উৎসব। প্রতিটি মঞ্চ উৎসর্গ করা হয়েছে প্রয়াত বরেণ্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে সাংস্কৃতিক জোটের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান হয়। এতে উৎসবের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। বক্তব্য রাখেনÑ আইটিআই সভাপতি নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, জোটের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ, গণসঙ্গীতশিল্পী ফকির আলমগীর ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি লেখক মফিদুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উৎসবের উদ্বোধন হবে। উদ্বোধন করবেন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষী ও কৌঁসুলিরা। উৎসবের প্রথম দিন কেবলমাত্র শহীদ মিনারে অনুষ্ঠান হবে। পরের দিন রবিবার থেকে যথারীতি বিকেল ৪টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান, রায়েরবাজার বধ্যভূমি, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, রবীন্দ্র সরোবর, দনিয়া, মিরপুর, উত্তরা, পুরানা ঢাকার বাহাদুর শাহসহ বিভিন্ন মঞ্চে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এ সব মঞ্চে জোটভুক্ত দেড় শতাধিক সংগঠনের ৩ হাজার শিল্পী অংশগ্রহণ করবেন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়। শাণিত চেতনায় গানের সুরে, কবিতার ছন্দে ও নৃত্যের ঝঙ্কারে মুখরিত হবে উৎসব। প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এমন বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পাশাপাশি উৎসবের চলচ্চিত্র মঞ্চে এবং ভ্রাম্যমাণভাবে প্রদর্শিত হবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি। এছাড়া ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে সকাল ১০টায় নানা শ্রেণীপেশার মানুষের অংশগ্রহণে বের করা হবে শোভাযাত্রা। এটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু করে শাহবাগ হয়ে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হবে। এবারের শোভাযাত্রায় মূল মোটিভ হিসেবে উপস্থাপিত হবে সদ্যপ্রয়াত শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর আঁকা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি বিখ্যাত ছবি। এতে দেখা যাবে লুঙ্গি পরিহিত এক মুক্তিযোদ্ধার প্রতিচ্ছবি।

মফিদুল হক বলেন, এবারের উৎসবে মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচারের বিষয়টি। আর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য যাঁরা আত্মদান করেছেন সেসব শহীদরাই হবেন এ বিচার প্রক্রিয়ায় অনুপ্রেরণার উৎস। এছাড়া এ বিচার প্রক্রিয়ায় তরুণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আর সে কারণেই মানবতাবিরোধী অপরাধী সংগঠনের বিচারের দাবিও পরিণতি পাবে।

এবারের বিভিন্ন উৎসবস্থল সদ্য প্রয়াত খ্যাতিমান ব্যক্তিদের নামে নামকরণ করা হয়েছে। এঁরা হলেন শিক্ষাবিদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, অধ্যাপক সালাহউদ্দীন আহমেদ, লেখক ও গবেষক সরদার ফজলুল করিম, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, ভাষাসংগ্রামী আবদুল মতিন, স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন, চলচ্চিত্রশিল্পী খলিল উল্লাহ খান, সাংবাদিক জহুরুল হক কিশোর কুমার প্রমুখ।

জয়নুল আবেদিনের জন্মশতবর্ষ উৎসব উদযাপন শুরু ॥ স্মরণ ও চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর মাধ্যমে শুরু হলো শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মশতবর্ষ উৎসব উদযাপন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে মাসব্যাপী কর্মসূচীর সূচনা হলো বৃহস্পতিবার। শিল্পাচার্যের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সেমিনার, মেলা, স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান, দেশের গান, শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বাউল গান, ভক্তিসঙ্গীত, নজরুল-রবীন্দ্রসঙ্গীত, পুনর্মিলনী, সম্মাননা প্রদান, পুরস্কার বিতরণীসহ নানা আয়োজনে স্মরণ করা হবে জয়নুল আবেদিনকে।

বৃহস্পতিবার চারুকলা অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী উৎসব কর্মসূচী উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। উৎসবের সকল আয়োজন বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর স্মৃতির উদ্দেশে নিবেদন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চারুকলা অনুষদ প্রিন্ট মেকিং বিভাগের ছাত্রী ফারহানা ইয়াসমীন এবং ভাস্কর্য বিভাগের ছাত্র চন্দ্রনাথ পালকে পৃথকভাবে ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদক-২০১৪’ পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রথমবারের মতো এ দুইটি পুরস্কার প্রদান করা হলো। এছাড়াও আরও ৩৬টি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শিল্পকলার প্রাণপুরুষ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। শিল্পী ও চারুকলার শিক্ষার্থীদের তাঁর চিন্তা-চেতনা, তাঁর কর্ম ও সৃষ্টিকে অনুসরণ করতে হবে। অনুপ্রাণিত হওয়ার জন্য জয়নুলের জীবনের চেয়ে বড় উদাহরণ নেই। তিনি আরও বলেন, সমাজের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, অসঙ্গতি শিল্পীদের চিত্রকর্মে জীবন্তরূপে ফুটে ওঠে। তাই শিল্পীরা যত বেশি সৃষ্টিশীল এবং সমাজ-রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবেন, ততবেশি কালোত্তীর্ণ চিত্রকর্ম তৈরি হবে।

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেনÑ বিশ^বিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ কামাল উদ্দীন, প্রিন্ট মেকিং বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আবুল বারক্ আলভী।

জয়নুল আবেদিনের জন্মশতবর্ষ উৎসবের মাসব্যাপী অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে রয়েছেÑ ২৬ ডিসেম্বর সকালে জয়নুল মেলার উদ্বোধন এবং বিকেলে স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান ও দেশের গান, ২৭ ডিসেম্বর সকালে শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিকেলে স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান ও বাউল গান-ভক্তিসঙ্গীত, ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান এবং বিকেলে নজরুল-রবীন্দ্রসঙ্গীত, ২৯ ডিসেম্বর সকালে শিল্পাচার্যের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, পুনর্মিলনী ও সম্মাননা প্রদান এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া আগামী বছরের ৫ ও ৬ জানুয়ারি অনুষদ মিলনায়তনে এবং ১১ ও ১২ জানুয়ারি জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে পৃথক পৃথক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।

জাপানিজ সেতার-গিটারের সুর মূর্ছনা ॥ বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে সেতার ও গিটারের মেলবন্ধনে যন্ত্রসঙ্গীতের যুগলবন্দি সন্ধ্যা উপহার দিলেন জাপানি দুই শিল্পী হিরোআকি সাসাকি ও কুনিকো অবিনা। অ্যাকুয়াস্টিক গিটারের সঙ্গে কোতো (জাপানিজ সেতার) বাজিয়ে সুর-ঝঙ্কার তোলে ঢাকার দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে মুগ্ধতা ছড়ালেন এই দুই শিল্পী। বাংলাদেশের জাপান দূতাবাস ও জাপান ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে এই সুর মন্দ্রিত সন্ধ্যায় হিরোআকি সাসাকি এবং কুনিকো অবিনা তাঁদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় শুরুতেই শ্রোতাদের নিয়ে ফুলের বাগানে যন্ত্রের সুর দিয়ে।

‘মিউগি টেম্পল’ শিরোনামে বাজনার তালে তালে ফুল আর মৌমাছির প্রেমকাহিনী তুলে ধরেন। এরপর পরিবেশন করে মরুর বুকে এক আগুন্তকের কাহিনী। যেখানে হঠাৎই সামনে পেয়ে যায় এক বিশাল অট্টালিকা। তাকে ঘিরে আনন্দ-উল্লাসের সুর তোলা হয় এ পরিবেশনার মাধ্যমে। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই যন্ত্রসঙ্গীতের সুর মূর্ছনা শেষ হয় ‘ট্রাস্ট’ শিরোনামের পরিবেশনা দিয়ে।

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪

১২/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: