আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কাঠমান্ডুতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে নরেন্দ্র মোদির আশ্বাস

প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর ২০১৪

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ তিস্তার পানিবণ্টন ও স্থলসীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। বুধবার এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ কথা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ অঞ্চলের সন্ত্রাস দমনে দুই নেতা একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও ঐকমত্য পোষণ করেন।

বুধবার বিকেলে কাঠমান্ডুর হোটেল সলটিতে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ল্যান্ড বাউন্ডারি ও তিস্তা চুক্তির বিষয়ে কি অগ্রগতি হয়েছে তা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ঝুলে থাকা দুটি বিষয়ের সমাধানে তিনি জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে ভারতে ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে, উল্লেখ করে এ ইস্যুগুলোর সমাধানে তিনি তাঁর জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এ বিষয়ে মোদি আরও বলেন, এটা তাড়াতাড়ি সমাধানের জন্য তিনি জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে একটা ‘কনসেনসাস’ গড়ে উঠছে। শীঘ্রই সুরাহা হবে বলে আশাবাদী তিনি।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সীমান্ত সমস্যা ও তিস্তার পানিবণ্টন সংক্রান্ত সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বাস দিয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ল্যান্ড বাউন্ডারির ব্যাপারে রিপোর্ট এলে তা গৃহীত হবে। এ বিষয়ে ঐকমত্য হচ্ছে। তিস্তা চুক্তির বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

এটি ছিল মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার সঙ্গে মোদির প্রথম বৈঠকটি হয়েছিল।

বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষ হয় ৩টা ৪০ মিনিটে। কাঠমান্ডুর হোটেল ক্রাউন প্লাজায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যকার বৈঠকে বর্ধমানের জঙ্গী সমস্যা সমাধানেও দুই দেশের গোয়েন্দাদের তথ্য বিনিময় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাছাড়া জঙ্গীবাদ দমনে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই নেতা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একত্রে কাজ করার ব্যাপারে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

শুরুতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত সূচিতে ছিল না। তালিকায় ছিল প্রধানমন্ত্রী বিশ্রাম শেষে বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা, ৪টা ৪০ মিনিটে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এবং ৫টায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন আব্দুল গাইয়ুমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। পরে সূচি পরিবর্তন করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সময় নির্ধারিত হয়। শেখ হাসিনা তাঁর বিশ্রামের সময় কমিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।

এসব বৈঠক শেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার দেয়া নৈশভোজে অংশ নেন।

প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর ২০১৪

২৭/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: