মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

শিক্ষাবিদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী

প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর ২০১৪

চলে গেলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও কবি অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী। মঙ্গলবার নিজ বাসভবানে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়ছিল ৮৬ বছর। দীর্ঘ ৪৮ বছর তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন তাতে আলোকিত হয়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে কোথাও কোন ছেদ ছিল না। তিনি অনেক বই লিখেছেন এবং অনুবাদ গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই শিক্ষাবিদ ১৯৯০-৯১ সালে দেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর চলে যাওয়াতে জাতি একজন মেধাবী ব্যক্তিকে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জিলুøর রহমান সিদ্দিকী একটি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। প্রয়াত এই অধ্যাপক স্ত্রী, তিন ছেলে, এক মেয়ে সহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ১৯২৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৫ সালে যশোর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে। পরে ইংরেজী সাহিত্যে বিএ ও এমএ ডিগ্রী নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এ সময় তাঁর সহপাঠী ছিলেন কবি শামসুর রাহমান সহ অনেকে। ১৯৫২ সালে তিনি সরকারী বৃত্তি নিয়ে অক্সফোর্ডে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করে দুই বছর পর দেশে ফিরেন। ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকা কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সেখানে তিনি দীর্ঘ আঠারো বছর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬১ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত মুস্তাফা নূরউল ইসলামের সঙ্গে মিলে প্রকাশ করেন ত্রৈমাসিক ‘পূর্বমেঘ’। ১৯৬৭ সালে তিনি মিল্টনের বিখ্যাত গদ্যরচনা এ্যারিওপ্যাজিটিকার অনুবাদ করেন। ১৯৭৩ সালে ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে কবি মিল্টনের স্মরণে এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে গিয়েছিলেন লেখক/কবিদের সম্মেলনে অংশ নিতে। ১৯৭৪-৭৫ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের খ-কালীন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন। পর পর দুই মেয়াদে তিনি উপাচার্য থাকার পর ১৯৮৪ সালে উপাচার্য পদ থেকে অবসর নিয়ে একই প্রতিষ্ঠানে ইংরেজীর অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালের কিছু সময় তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে, ২০০০ সালে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০৩ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। যখন যে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি তাঁর মেধা ও মনন দিয়ে একাগ্র চিত্তে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। শিক্ষাদানের পাশাপাশি তিনি বহু বই রচনা করেন। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ করেছেন তিনি। লিখেছেন প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী, কবিতা; অনুবাদ গ্রন্থসহ নিয়মিত পত্রপত্রিকায় ফিচার ও কলাম লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে বাঙালীর আত্মপরিচয়, শব্দের সীমানা, কোয়েস্ট ফর আ সিভিল সোসাইটি, দ্য কোয়েস্ট ফর ট্রুথ, সেক্যুলার ফিলোসফি বাই আরজ আলী মাতুব্বর, যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ছিলাম ইত্যাদি। এছাড়া বাংলা একাডেমির ইংরেজী থেকে বাংলা অভিধানের সম্পাদক তিনি। অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ১৯৭৭ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। ২০১০ সালে পান স্বাধীনতা পুরস্কার। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী দেশের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে মূল্যবান অবদান রেখেছেন। তিনি বাংলা একাডেমি, ঢাকার ফেলো, এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলাদেশ-এর ফেলো, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সভাপতি, নাগরিক নাট্যচক্রের সভাপতিসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। গুণী, প্রাজ্ঞজন, মুক্তবুদ্ধি এই শিক্ষাবিদের রেখে যাওয়া সব সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ করা ও সেগুলো চর্চার মাধ্যমে আমরা তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে পারি। একজন সংস্কৃতিবান, রুচিশীল পন্ডিত এবং বিশিষ্ট কবি হিসেবে মানুষ মনে রাখবে তাঁর কথা। তাঁর স্মৃতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা।

প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর ২০১৪

১৪/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: