ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০

মোংলা ইপিজেডের কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, ক্ষতি ৩০০ কোটি টাকা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাগেরহাট

প্রকাশিত: ২২:৫৪, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩

মোংলা ইপিজেডের কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, ক্ষতি ৩০০ কোটি টাকা

আগুনে পুড়ছে মোংলা ইপিজেডের কারখানা

বাগেরহাটের মোংলা ইপিজেডের ভিআইপি-১ লাগেজ কারখানার আগুন সাড়ে ৬ ঘণ্টায়ও নেভেনি। তবে রাত ১০ টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ না নিভলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ করেছে। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

আগুন লাগার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ। মোংলা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, এ অগ্নিকাণ্ডে কেউ দগ্ধ বা হতাহত হয়নি। আগুন এখনও নেভেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। তবে আগুন শুধু একতলা বিশিষ্ট ওই কারখানায় সীমাবদ্ধ। এ ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী (হিসাব) আবুল হাসান মুন্সীকে। ধারণা, শটসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। 

লাগেজ কারখানার প্রধান এইচআর (অ্যাডমিন) মো. মিজান বলেন, বিকেল ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত। সেই থেকে এখনও আগুন জ্বলছে। খবর পেয়ে মোংলা ইপিজেড, মোংলা নৌবাহিনী, মোংলা বন্দর ও বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যৌথভাবে চেষ্টা করছেন। রাত ১০ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে শর্টসার্কিট কিংবা ওয়েল্ডিং থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করছি। আগুনে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইপিজেডে ভিআইপির আটটি কারখানা আছে। যেটিতে আগুন লেগেছে সেটির শ্রমিকদের দুদিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। দুদিন পর তাদের দিয়ে আমাদের অন্য কারখানায় কাজ করানো হবে।

খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মামুন মাহমুদ বলেন, আগুন নেভাতে আরও দুই ঘণ্টার মতো লাগতে পারে। তবে আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। 

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক গোলাম সরোয়ার জনকণ্ঠকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট। দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা করছি। তবে কারখানার মধ্যে কাপড় থাকায় আগুন নেভাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানার উপরে ওয়েল্ডিংয়ের ফুলকি নিচে রাখা প্লাস্টিকের ঝুটের ওপর পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানে ঝুট ছাড়াও ক্যামিকেল থাকায় আগুন ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ে কারখানাটিতে। এতে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই সময় কারখানাটিতে কর্মরত কয়েক’শ শ্রমিক হুড়াহুড়ো করে বাইতে আসার সময় কয়েকজন আহত হয়েছেন। 

এমএইচ

×