ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত অভিযোগকারী

ডিবির সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে বিয়ের নাটক ও ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ২ মার্চ ২০২৬

ডিবির সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে বিয়ের নাটক ও ধর্ষণের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) কর্মরত সহকারী কমিশনার খান মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে বিয়ের নাটক সাজিয়ে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এক নারী। ভুক্তভোগীর দাবি, ফেসবুকের মাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে কক্সবাজার নিয়ে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে রাজধানীর চকবাজারে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকলেও বিয়ের কথা বললে মাহমুদুল তালবাহানা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই মাসে ধর্ষণের মামলা থেকে বাঁচতে এবং চাকরি রক্ষায় ওই নারীকে কাজি অফিসে নিয়ে নামমাত্র বিয়ে করলেও বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হতে না হতেই স্ত্রীকে ফেলে পালিয়ে যান মাহমুদুল।

ভুক্তভোগী নারী জানান, ডিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা না পেয়ে তিনি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মাহমুদুল হাসান প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাঁকে তালাক দিয়েছেন এবং বর্তমানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ডিবি কর্মকর্তা এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। মাহমুদুলের আইনজীবী ইমরান হোসেন পাল্টা অভিযোগ করে জানিয়েছেন যে, ওই নারী নিজের আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে প্রতারণা করেছেন এবং এর প্রেক্ষিতে মাহমুদুল হাসান সিএমএম কোর্টে মামলা করেছেন। বর্তমানে উভয় পক্ষের আইনি লড়াই চললেও নিজের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।

২০২০ সালে ডিবির সহকারী কমিশনার মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয় যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। ২০২৩ সালে ওই নারী মাহমুদুলের সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় আসেন।

২০২৫ সালের ২ মার্চ বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ওই নারীকে কক্সবাজার নিয়ে যান মাহমুদুল। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

রাজধানীর চকবাজারে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তিন মাস বসবাসের পর চাপের মুখে গত ২৭ জুলাই কাজি অফিসে বিয়ে করেন মাহমুদুল। কিন্তু স্ত্রীকে রেখেই তিনি পালিয়ে যান এবং পরবর্তীতে তালাক দেন।

ডিএমপি কমিশনারের কাছে প্রতিকার না পেয়ে আদালতে মামলা করেন ওই নারী। বিপরীতে মাহমুদুল হাসানের পক্ষ থেকে ওই নারীর বিরুদ্ধে প্রতারণার পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করায় ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে প্রাণনাশের হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।

সূত্র: https://www.facebook.com/reel/1244700484292187

https://www.asia-post.com/bangladesh/5246

এফএ

×