ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমতেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধস

প্রকাশিত: ১৪:০৩, ২৭ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমতেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধস

জনকণ্ঠ রিপোর্ট :
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। সংঘাত আপাতত থেমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই সোমবার (২৭ জুলাই) এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশের বেশি কমে যায়।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনার পর দুই দেশই আপাতত সামরিক তৎপরতা কমিয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। এশিয়ার লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ব্যারেলপ্রতি নেমে আসে ৯১ দশমিক ৮৭ ডলারে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে কূটনৈতিক আলোচনা এগোচ্ছে—এমন খবর প্রকাশের পর বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরানে হামলার পর আর কোনো নতুন বিমান অভিযান চালানো হয়নি। অন্যদিকে শুক্রবারের পর থেকে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নতুন কোনো হামলা চালায়নি।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আলোচনার জন্য কিছুটা সময় দিতে চান।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম কমতে শুরু করলেও পরিস্থিতিকে পুরোপুরি স্বাভাবিক বলা যাবে না। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবকে ঘিরে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও জ্বালানি পরিবহনে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটস-এর বৈশ্বিক পণ্যকৌশল বিভাগের প্রধান হেলিমা ক্রফট বলেন, সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হবে—এমনটি মনে করার সুযোগ নেই। লোহিত সাগরের সংকটও এখন বাজারের জন্য বড় উদ্বেগ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু পেট্রলের বাজারেই নয়, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতেও পড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪ দশমিক ১১ ডলার, যা সংঘাত শুরুর আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ফেডারেল রিজার্ভের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণেরও বেশি। এ পরিস্থিতিতে আসন্ন বৈঠকে ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (এফওএমসি) সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে নাকি বাড়াবে—সেদিকে নজর রয়েছে বিনিয়োগকারীদের।
সিএমই গ্রুপ-এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী বুধবার সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কিছুটা কমে ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, জ্বালানির মূল্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আপাতত ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে।

×