আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রিয়াজের চব্বিশ ঘন্টার রেস্তোরার যাত্রা শুরু

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী ২০১৬, ০২:৪৯ পি. এম.
রিয়াজের চব্বিশ ঘন্টার রেস্তোরার যাত্রা শুরু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাজধানীর বসুন্ধরা আবাসীক এলাকায় ছোট্ট পরিসরের একটি রেস্তোরা। সিড়িতে লাল গালিচা পাতা। ভেতরের অর্ধেকেরও বেশি অংশ জুড়ে রান্নাঘর, বাকী অংশে বসার স্থান। প্রায় ৫০ জনেরও বেশি কর্মী নিরলস খাবার প্রস্তুতে ব্যাস্ত। চিত্রনায়ক রিয়াজ ব্যাস্ততার ফাকে রেস্তোরা ভর্তি সাংবাদিকদের সঙ্গে মাঝে মাঝে খোশ গল্প করছেন। অতি একান্ত হয়ে সবাইকে বলার চেষ্টা করছেন, কেন তিনি এই রেস্তোরা দেয়ার সিন্ধান্ত নিলেন। কোন কোন সময় বলছেন, আপনারা আমার সঙ্গে ২০ বছর ধরে আছেন। আপনাদের জন্যই আমি চিত্রনায়ক রিয়াজ হতে পেরেছি। আজ জীবনের আর একটি প্রয়োজনে আপনাদের স্মরণাপন্ন হয়েছি, আর সে হলো আমার এই রেস্তোরা। ভেবে দেখেছি, আমার অবর্তমানে, আমার পরিবারকে সাফোর্ট দেয়ার জন্য এই ব্যাবসা আমার জন্য জরুরী। আমার এ রেস্তোর কথা আপনারা দেশবাসীকে জানাবেন এটাই প্রত্যাসা। রিয়াজের কথার ফাকে ফাকে তৈরি বিভিন্ন খবারও আসছে টেবিলে। বসুন্ধরা আবাসীক এলাকায় ‘ফুড টোয়েন্টি ফোর সেভেন’ নামে রিয়াজের একটি চব্বিশ ঘন্টার রেস্তোরার যাত্রা শুরু হলো শনিবার সন্ধ্যায়। এতে তিনি পরিচালক বিপণন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ‘ফুড টোয়েন্টিফোর সেভেন’ নামের এই রেস্তোরাঁর মালিকানায় রিয়াজ ছাড়াও আছেন তাঁর চারজন বন্ধু। তার সঙ্গে সহযোগি হিসেব রয়েছেন বিশ্বখ্যাত রন্ধনশিল্পী টোনি খান। কেক কাটা এবং রকমারী খবার পরিবেশনের মধ্যদিয়ে চব্বিশ ঘন্টার এ রেস্তোরার যাত্রা শুরু হয়। রিয়াজ বলেন, মাস দুয়েক আগে আমার হার্ট এ্যাটাক হয়েছিল। সুস্থ হওয়ার পর মনে হয়েছে, তখন যদি আমি মরে যেতাম, তাহলে আমার বউ-বাচ্চার কী হতো! অভিনয় থেকে উপার্জিত অর্থ শেষ হয়ে গেলে, আমার পরিবার জীবনধারণ করত কীভাবে?’ আমার পরিবারকে এমন কিছু আমি দিইনি, যা দিয়ে তারা কোনো না-কোনোভাবে জীবনধারণ করতে পারবে। তিনি বলেন, সুস্থ হওয়ার পর বারবার অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হয়েছে। উপায় খোঁজার চেষ্টা করেছি, আমার সামনে নিয়মিত আয়ের কোনো পথ খোলা আছে কি না? এরপর বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আলাপ করে এই রেস্তোরাঁ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চব্বিশ ঘণ্টার এই খাবারের দোকান নিয়ে আমাদের অনেক বড় স্বপ্ন আছে। আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি। এরই মধ্যে দেশের বাইরে এর একটি শাখা খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছি। ঢাকার নানা প্রান্তেও থাকবে আমাদের আউটলেট। খাবারের মান প্রসঙ্গে রিয়াজ বলেন, আমি একজন হার্টের রোগী। চিকিৎসক আমাকে বেশ কিছু নিয়মের মধ্য দিয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। খাবারের বেলাতেও রয়েছে অনেক নিয়ম। তাই অনেক সুলভে খাবারের মান, মানুষের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আমি অনেক বেশি সচেতন। অন লাইনেও আমাদের খাবারের অর্ডার দিতে পারবেন। আমাদের হোম ডেলিভারির জন্য ০১৯৪৪২৪৭২৪৭ নম্বরে এবং িি.িভড়ড়ফ২৪ী৭নফ.পড়স যোগাযোগ করা যাবে। তাহলে চলচ্চিত্রে আপনাকে একেবারেই দেখা যাবে না? এমন প্রশ্নে রিয়াজ বলেন, চলচ্চিত্রের অবস্থা এমনিতেও খারাপ। আদৌ এ অবস্থার উন্নতি হবে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। তা ছাড়া, চলচ্চিত্রে আমি এখন নিয়মিত নই। অসাধারণ কোনো গল্প পেলে অবশ্যই রেস্তোরাঁর ব্যবসার ফাঁকে সিনেমায় কাজ করব। তবে এই মুহূর্তে আমার সব চিন্তাভাবনা ‘ফুড টোয়েন্টিফোর সেভেন’কে ঘিরেই।

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী ২০১৬, ০২:৪৯ পি. এম.

১০/০১/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: