কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

স্বীকৃতি হারাচ্ছে মাদ্রাসা

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫

ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা ধর্মকেন্দ্রিক হওয়ায় এগুলো ‘স্কুল হিসেবে গণ্য হবে না’। বিজেপি নিয়ন্ত্রিত মহারাষ্ট্র রাজ্যের সরকার মাদ্রাসার ওপর থেকে স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর আলজাজিরা অনলাইনের।

স্থানীয় গণমাধ্যমের সূত্রের বলা হয়েছে, ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার ওপর থেকে স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে নিতে যাচ্ছে। ইংরেজী, গণিত বা বিজ্ঞানের মতো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া যেসব মাদ্রাসা কেবল ধর্মীয় শিক্ষা দেয়, সেগুলোর ওপর থেকে সরকারী স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। রাজ্যের সংখ্যালঘুবিষয়কমন্ত্রী একনাথ খাদসে বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘যেসব মাদ্রাসা কেবল ধর্মীয় শিক্ষা দেয়, আনুষ্ঠানিক শিক্ষা দেয় না। আমাদের সংবিধানে প্রতিটি শিশুর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পাওয়ার অধিকারের কথা বলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কোন হিন্দু বা খ্রীস্টান চাইলেই মাদ্রাসায় পড়তে পারে না। মাদ্রাসা কোন স্কুল নয়, এটি একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ কারণেই আমরা তাদের অন্য বিষয়গুলো শিক্ষা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছি। অন্যথায় মাদ্রাসাকে ‘নন স্কুল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।’ তার এই বক্তব্যে মুসলিমদের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলো সমালোচনামুখর হয়েছে। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য কামাল ফারুকী বলেন, ‘এটি একটি অসময়োচিত ও ভুল কাজ, আমি জানি না, কেন তারা এ সময়ে এমন একটি কাজে হাত দিলেন।’ ফারুকী বলেন, মাদ্রাসা আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থারই অংশ। এখান থেকে প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। জমিয়ত-ই উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সম্পাদক মওলানা মাহমুদ মাদানি সরকারের পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। নয়াদিল্লীর জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছেন আভিয়া মিশ্র। তিনি বলেন, ‘বিজেপি সরকার মুসলিমদের কর্মক্ষেত্রে সুযোগ না পাওয়ার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সরকার বলতে চাচ্ছে যেহেতু মুসলিমরা আধুনিক শিক্ষা থেকে পিছিয়ে, তাই তারা চাকরির বাজারে জায়গা পাচ্ছে না।’

মিশ্র মনে করেন, ‘অ আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পাওয়ার পরও প্রতি বছর লাখ লাখ মুসলিম বেকার থেকে যাচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপ মুসলিমদের শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাংবিধানিকভাবে হেয় করার একটি চেষ্টা মাত্র।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিজিপি সরকার দাবি করে সংখ্যালঘুদের রক্ষা করছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো এ সরকার সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকারের অংশ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’ কংগ্রেস পার্টির মুখপাত্র সঞ্জয় নিরূপম বলেছেন, ‘ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে কোন শিশুকে বৈষম্যের শিকার হতে দেয়া যাবে না, রাজ্য বিধানসভায় কংগ্রেস বিষয়টি উত্থাপন করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে মন্ত্রী খাদসে বলেছেন, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা ও তাদের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।’ তিনি বলেন, ‘রাজ্যের ১ হাজার ৮৯০টি মাদ্রাসার মধ্যে ৫৫০টি ছাত্রছাত্রীদের চারটি বিষয়ে শিক্ষা দিতে রাজি হয়েছে। সরকার মাদ্রাসাগুলোকে আর্থিক ও কর্মী দিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে।’ মিশ্রর মতো মন্তব্যকারীরা বলছেন, ‘সরকার সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন চাইলে তাদের জন্য বেশি করে স্কুল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন করুক। মাদ্রাসাগুলো গঠনমূলক কাজ করছে। তারা লাখ লাখ দরিদ্র মুসলিমদের জন্য শিক্ষার বন্দোবস্ত করছে। যে কাজটি সরকার করতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার যদি এ ব্যাপারে সত্যিই আন্তরিক হয়ে থাকে তবে মুসলিমদের এলাকাগুলোতে বেশি করে আধুনিক স্কুল স্থাপন করছে না কেন।

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫

০৪/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: