আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নওগাঁয় প্রভাবশালীর গুলিতে আদিবাসী বালক নিহত

প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০১৫
নওগাঁয় প্রভাবশালীর গুলিতে আদিবাসী বালক নিহত
  • খাস জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা ॥ হামলা, ভাংচুর অগ্নিসংযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, নওগাঁ, ২২ জুন ॥ পতœীতলায় খাসজমি থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করতে গিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে এক আদিবাসী বালককে গুলি করে হত্যা করেছে উচ্ছেদকারীরা। এ সময় আদিবাসীপল্লীতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ভূমিহীন পরিবারের সদস্য গুলিবিদ্ধ হাফিজুল (২৬) ও বেলালকে (২৮) মুমূর্ষু অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকাল সোয়া আটটার দিকে আকবরপুর গ্রামের বুধুয়া পুকুরপাড়ে আদিবাসী ও ভূমিহীনদের বসতবাড়িতে এ হামলা, ভাংচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে ৫০-৬০ জন ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে প্রভাবশালী আব্দুল মতিন আকবরপুরের আদিবাসী পল্লীতে উপস্থিত হয়ে তাদের বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ওই পল্লীতে বসবাসকারী ভূমিহীনরা তাদের আশ্রয়স্থল বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলে প্রভাবশালী আব্দুল মতিন লাইসেন্স করা বন্দুক দিয়ে আদিবাসীদের ওপর চার রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে ওই পল্লীর সুনু ওঁরাওয়ের ছেলে মিথুন ওঁরাও (১৩) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এছাড়া মাহতাব আলীর ছেলে হাফিজুল হক (২৬), জয়নালের ছেলে বেলাল (২৮), সুভান ওঁরাওয়ের ছেলে উকিল ওঁরাও (২৭), মৃত নজিমুদ্দীনের ছেলে নূর ইসলাম (৩৫) ও শহিদুল ইসলামের স্ত্রী সায়েদা খাতুন (৩০) গুরুতর আহত হয়। আহতদের পতœীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাফিজুল ও বেলালের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাৎক্ষণিক তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে পতœীতলা ফায়ার সার্ভিস সেখানে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পতœীতলা সার্কেল) মোঃ ইয়াছিন আলীর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রভাবশালী আব্দুল মতিনের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। পুলিশ ওই বাড়ি থেকে ঘাতক আব্দুল মতিন, তার ভাই আব্দুল মজিদ, মোজাম ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত লাঠিয়াল বাহিনীর কয়েক জনসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করে।

আকবরপুর গ্রামে সরকারী খাসজমি বুধুয়া পুকুরপাড়ে এলাকার বেশকিছু ভূমিহীন আদিবাসী পরিবার ও কিছু মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ি তৈরি করে সেখানে বসবাস করে আসছিল। একই সম্পত্তি ওই গ্রামের প্রভাবশালী আব্দুল মতিন নিজের দাবি করে পুকুরপাড়ে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের জন্য এর আগেও বেশ কয়েকবার সেখানে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। তবে প্রভাবশালীরা সেখানে বসবাসরত আদিবাসী ও ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয়।

সূত্র জানায়, মাসখানেক আগেও প্রভাবশালী মতিন আদিবাসীপল্লীতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটালেও পুলিশ আদিবাসীদের দেয়া মামলাটি অজ্ঞাত কারণে নেয়নি। ঘটনার খবর পেয়েই নওগাঁর পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে প্রভাবশালী আব্দুল মতিনের বাড়িটি রক্ষা করতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০১৫

২৩/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: