আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আসিয়ানের হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল ২০১৫
  • দক্ষিণ চীন সাগরে বেজিংয়ের দ্বীপ নির্মাণে ক্ষোভ

বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের দ্বীপ নির্মাণের চেষ্টার ফলে ওই অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। সোমবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এক আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলনে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় নেতারা এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। খবর এএফপির।

ওই গুরুত্বপূর্ণ জলরাশির প্রায় সমগ্র অংশে চীনের শক্তি প্রদর্শন এর প্রতিবেশী দেখাসমূহ ও এদের বাইরেও উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। চীন ক্রমশ সাহসের সঙ্গে ওই জলরাশির মালিকানা দাবি করছে। এশিয়ার কয়েকটি দেশও ওই জলরাশির কোন কোন অংশ দাবি করে থাকে। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা দক্ষিণ চীন সাগরে জাতি, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং এর আকাশসীমা দিয়ে বিমান চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছি। একদিনের শীর্ষ সম্মেলনের সমাপ্তিতে প্রকাশিতব্য এক বিবৃতিতেও সেগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এমন প্রবাল প্রাচীরগুলোর ওপর ভূমি উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ ব্যক্ত করা হয়। এরূপ তৎপরতায় সমুদ্রপথের ওপর চীনা নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শীর্ষ সম্মেলনের চেয়ার মালয়েশিয়ার প্রস্তুত করা ওই বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা দক্ষিণ চীন সাগরে চলমান ভূমি উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে কোন কোন নেতার ব্যক্ত উদ্বেগের অংশীদার। এ তৎপরতা আস্থা ও অবিশ্বাসের অবক্ষয় ঘটিয়েছে এবং শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সমিতির (আসিয়ান) সদস্য রাষ্ট্র ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই ওই সাগরের কোন কোন অংশ দাবি করে থাকে। এ সাগর জ্বালানি ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ পথ। কিন্তু বেজিং বলছে, ওই সাগরের প্রায় সবটুুকুই প্রশ্নাতীতভাবেই চীনের সামুদ্রিক ভূখ-।

চলতি মাসের প্রথমদিকে প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিগুলোতে চীনা তৎপরতার ব্যাপকতার নতুন প্রমাণ পাওয়া যায়। এগুলোতে এক বহর চীন নৌযানকে ড্রেজিং করে স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সিমাচিফ রিফ নামে পরিচিত এক বড় প্রবাল প্রাচীরে বালু ফেলতে দেখা যায়। অন্যান্য ছবিতে স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জেরই ফায়ারি ক্রস নামের এক প্রবাল প্রাচীরে একটি রানওয়ে ও জাহাজের পোতাশ্রয় গড়ে তোলা হচ্ছে বলে দেখা যায়। গত বছর ওই কাজ শুরু হয়। আরও অন্য কয়েকটি স্থানে অনুরূপ কাজ চলছে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানান। তাঁরা বলেন, ওই নির্মাণ উদ্যোগ দূরবর্তী সাগরে চীনকে স্থায়ী অগ্রবর্তী ঘাঁটি গড়ে তোলার সুযোগ দেবে। এ থেকে দেশটি এর ক্রমবর্ধমান শক্তি প্রদর্শন করতে পারবে।

মালয়েশিয়ার তৈরি করা ওই বিবৃতিতে সেই অঞ্চলের পররাষ্ট্র্রমন্ত্রীদের আসিয়ান ও চীনের মধ্যে গঠিত সংলাপ কাঠামোর আওতায় এ বিষয়টির দিকে জরুরী ভিত্তিতে মনোযোগ দিতে নির্দেশ দেয়া হয। কিন্তু এতে ফিলিপিন্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবার্ট ডেল রোজারিওর আহ্বানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি রবিবার বেজিংয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং ভূমি উদ্ধার অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য চীনের প্রতি দাবি জানাতে আসিয়ানের প্রতি আহ্বান জানান। চীন সমুদ্রে কার্যত নিয়ন্ত্রণ সংহত করতে উদ্যত হয়েছে বলে রোজারিও তাঁর আঞ্চলিক সহকর্মীদের সতর্ক করে দেন।

কিন্তু মালয়েশিয়া চীনকে ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে এমন কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজির রাজাক সোমবারের শীর্ষ সম্মেলনে উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, আসিয়ানকে অবশ্যই এক ইতিবাচক ও গঠনমূলক উপায়ে ইস্যুটির নিরসন করতে হবে। চীন দক্ষিণ চীন সাগরের শতকরা ৯০ ভাগ দাবি করছে। ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানেরও ওই সাগরের কোন কোন অংশের ওপর দাবি রয়েছে।

আসিয়ান দেশগুলো নিজেদের ঐক্য নিয়ে বড় বড় কথা বললেও তাদের বিভিন্নমুখী এজেন্ডা রয়েছে। এ ব্লকের সদস্যদের পক্ষ থেকে চীনকে লক্ষ্য করে বিশেষভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। কারণ বেজিংয়ের বিশাল বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক প্রভাব রয়েছে এবং সব আসিয়ান রাষ্ট্রেরই যে নৌ-বিরোধে স্বার্থ রয়েছে, এমন নয়। চীন স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জে সামরিক ব্যবহারের উপযোগী এক বিমানঘাঁটি নির্মাণে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং আরেকটি ঘাঁটি নির্মাণেও সম্ভবত পরিকল্পনা করছে বলে সম্প্রতি স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়। চীনের সরকারী বার্তা সংস্থা সিনহুয়া আসিয়ান সম্মেলনে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের দ্বীপ নির্মাণের ইস্যুটি উত্থাপন করায় সোমবার ফিলিপিন্সের কড়া সমালোচনা করে।

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল ২০১৫

২৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: