আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

স্বাধীনতা দিবস ও বিশ্ব নাট্য দিবসে টিআইসির আয়োজন

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০১৫
স্বাধীনতা দিবস ও বিশ্ব নাট্য দিবসে টিআইসির আয়োজন
  • মুক্তিযুদ্ধের নাটক ‘বীরাঙ্গনার বয়ান’ মঞ্চস্থ

সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ মহান স্বাধীনতা দিবস এবং বিশ্ব নাট্য দিবস উপলক্ষে থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুই দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর মধ্যে মহান স্বাধীনতা দিবসে সকালে টিআইসির লেকচার থিয়েটার মিলনায়তনে ফ্রান্স প্রবাসী বাঙালী যুবক প্রকাশ রায় নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র ‘বার্থ অব এ ফ্ল্যাগ’ প্রদর্শন করা হয়। ১৯৭১ সালে ফরাসী সাংবাদিক ফিলিস আলফনসঁ যুদ্ধরত বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চলে প্রবেশ করে ফরাসী টেলিভিশনের জন্য মুজিবনগর সরকারের রিপোর্ট করেছিলেন। এই ফরাসী সাংবাদিকের পাসপোর্টে মুক্তাঞ্চলে প্রবেশের জন্য মুজিবনগর সরকারের বৈধ-কর্তৃপক্ষের সিল-স্বাক্ষরও রয়েছে। সাংবাদিক ফিলিস আলফনসঁ-এর সাক্ষাতকারসহ বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ নিয়ে এই প্রামাণ্যচিত্র তৈরি হয়। সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধের নাটক ‘কোর্ট মার্শাল’ মঞ্চস্থ হয়। নান্দিকার পরিবেশিত এস এম সোলায়মান রচিত ‘কোর্ট মার্শাল’ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন অলক ঘোষ।

বিশ্ব নাট্য দিবস উপলক্ষে বিকেল চারটা থেকে দর্শক ও নাট্যকর্মীদের জন্য ছিল নানা আয়োজন। এর মধ্যে ছিল বিশ্ব নাটকের ভিডিও প্রদর্শনী এবং আলোচনা, নাটক, গান, আবৃত্তি ও নৃত্যানুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নাট্যসংগঠন, নাট্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ অংশ নেয় স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ডান্স, স্বরনন্দন প্রমিত বাংলা চর্চা কেন্দ্র এবং ওডিসি এ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার। সন্ধ্যা সাতটায় শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্রের ১৯তম প্রযোজনা রওশন জান্নাত রুশনী রচিত ও দেবাশীষ ঘোষ নির্দেশিত ‘বীরাঙ্গনার বয়ান’ নাটকের মঞ্চায়ন হয়। নাটকে একক অভিনয় করেন রওশন জান্নাত রুশনী।

‘বীরাঙ্গনার বয়ান’ নাটকের গল্পে দেখা যায় একাত্তরের পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের নারী নির্যাতন ছিল ব্যাপকভিত্তিক ও গভীরতর। মুক্তিযুদ্ধের বিবরণে নির্যাতিত নারীর সংখ্যা কিংবা নির্যাতনকে মুখ্য বিষয় হিসেবে উপস্থাপিত হয়ে থাকে। কিন্তু এর মাত্রা ও প্রভাব স্বাধীন বাংলাদেশে কিভাবে পড়েছে সে দিকটি এখন পর্যন্ত উপেক্ষিত রয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নয়। এ কারণে নির্যাতন এতটা প্রবল হওয়ার পরও একটি গ-ির মধ্যে আবর্তিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিম-লেও একে প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি। ১৯৭১ সালের পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার নারীগণকে স্বাধীনতার অব্যহতি পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘বীরাঙ্গনা’ উপাধিতে ভূষিত করে সম্মানিত করেন।

একাত্তরে পাকিস্তানী নারী নির্যাতনের একটি দিক ছিল আতঙ্ক সৃষ্টি করা, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়া, নির্যাতনের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত বাঙালীর পরিচিতিতে কালিমা লেপন করা। এ কার্যক্রমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিস্তৃত করতে পাকিস্তানী সৈন্যদের সর্বাতœক সহায়তা করে মিলিশিয়া, শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামসের সদস্যরা। তারা নিজেরাও ব্যাপকভাবে নারী নির্যাতনের সুযোগ নেয়। বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার, লাঞ্ছিত ও স্বজনহারা নারীদের জীবনে সংঘঠিত ভয়ানক অত্যাচারের কাহিনী নিয়েই রচিত ‘বীরাঙ্গনার বয়ান’। যশোর জেলার বীরঙ্গনা বীরমাতা হালিমার জবানীতে ওঠে এসেছে সেই নির্মম সত্য ঘটনা। হালিমা কোন একক নাম নয়; নাটকের কাহিনী বিন্যাসের প্রয়োজনে হালিমার জবানীতে আরও কয়েকজন বীরঙ্গনা বীরমাতার কাহিনীকে একসূত্রে গেঁেথ বর্বরতার চিত্রটি ফুটিয়ে তোলার প্রানন্তকর চেষ্টা করা হয়েছে ‘বীরাঙ্গনা বয়ান’ নাটকে ।

‘বীরাঙ্গনার বয়ান’ নাটকের নির্দেশক দেবাশীষ ঘোষ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, উত্তাল শাহবাগ চত্তর; একাত্তরের যুদ্দপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে লাখ জনতা সোচ্চার হয়েছে। এমনই একটি সময়ে ‘বীরঙ্গনার বয়ান’ নাটকটি রচিত হয়। শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্রের দল প্রধান খোরশেদুল আলম এবং নাটকটির নাট্যকার রওশন জান্নাত রুশনীর অনুরোধে নাটকটি নির্দেশনার দায়িত্ব নিয়ে নিজের বিবেকের কাছে কিছুটা দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র। স্বাধীনতার চার দশক পর শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র প্রযোজিত ‘বীরঙ্গনার বয়ান’ নাটকটি মঞ্চে আনার সাহসী পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে; মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধর্রা প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা।

আজকের বাংলাদেশের আকাশ বাতাস যখন আবার আল বদর রাজাকারদের গলার আওয়াজে ভারি হয়ে উঠে, একটি গোষ্ঠী যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করছে, যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবিতে সভা সমাবেশ মিছিল করছে তখন তরুন প্রজন্মের কাছে সেই সময়কে তুলে ধরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার চেতনাকে জাগ্রত করতে । নাটকের পাত্র-পাত্রী থেকে শুরু করে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে নির্দেশনার জটিল কাজটি করার চেষ্টা করেছি।

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০১৫

২৯/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: