মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বিষাক্ত পোল্ট্রি ফিড

প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪

মাছ ও মুরগির খাবার হিসেবে খামারিরা যে খাদ্যদ্রব্য ব্যবহার করছেন তার মধ্যে রয়েছে মানুষের জীবননাশকারী উপাদান ক্রোমিয়াম। বিষাক্ত এসব ক্রোমিয়াম মেশানোর ফলে দেশের জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। একইসঙ্গে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম তথা শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক দৈহিক, মানসিক ও মেধা বৃদ্ধির বিষয়টিও শঙ্কার মধ্যে পড়ছে। এতে করে মাছ ও মুরগিকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে। সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে মাছ ও মুরগির খাদ্যে মাত্রাতিরিক্ত ক্রোমিয়াম মেশানোর তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, প্রাত্যহিক জীবনে আমরা কি খাদ্যদ্রব্যের বদলে বিষ খাচ্ছি?

জানা যায়, ট্যানারির ক্ষতিকর ও মনুষ্য দেহের জন্য বিষ হিসেবে পরিচিত বর্জ্য মিশিয়ে মাছ ও মুরগির খাবার তৈরি করে আসছে কিছু অনুমোদনহীন কারখানা। দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র এসব খাবারে মাত্রাতিরিক্ত ক্রোমিয়াম ব্যবহার করে তা বাজারজাত করছেÑ তাদের উদ্দেশ্য অধিক মুনাফা। অধিক মুনাফার লোভে চক্রটি জনস্বাস্থ্যকে এক ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে।

পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্রোমিয়ামসমৃদ্ধ এসব মাছ ও মুরগি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করার ফলে মানুষকে নানারকম ভয়াবহ ঘাতকব্যাধি যেমন ক্যান্সার, টিউমার, নারীর অকালপ্রসব, আলসার, শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগ। মানবদেহের জন্য সহনীয় মাত্রা যেখানে মাত্র ৩০ পিপিএম ক্রোমিয়াম সেখানে মাছ ও মুরগির খাবারে ক্রোমিয়ামের পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার পিপিএম ক্রোমিয়াম।

হাজারীবাগ ট্যানারি এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কিছু অনুমোদনহীন কারখানা। এসব কারখানায় কোনরকম রাখ-ঢাক না করে অনেকটা প্রকাশ্যেই প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে এই বিষাক্ত খাবার। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র না নিয়েই কারখানার মালিকরা এসব বিষাক্ত খাদ্যদ্রব্য রাজধানীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিক্রি করছে। ফলে বিষাক্ত ক্রোমিয়াম দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একাধিকবার অভিযান চালালেও রহস্যজনক কারণে এদের উৎপাদন বন্ধ হয়নি। র‌্যাবের পক্ষ থেকেও কয়েকবার অভিযান চালিয়ে এগুলো সিলগালা করে দেয়া হলেও বন্ধ হয়নি এসব কারখানার অপতৎপরতা। ক্রোমিয়াম মিশ্রিত এসব খাবারের কারণে প্রোটিন ও আমিষের উৎস মাছ ও পোল্ট্রি ফিডের লাভজনক ব্যবসা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে উৎপাদিত এসব খাবার তৈরির ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। এটা নিশ্চিত হলে সম্ভাবনাময় ফিশ ও পোল্ট্রি সেক্টর তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে। দেশের জনস্বাস্থ্যও থাকবে নিরাপদ।

প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪

১৫/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: