ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা পার্থক্য ছিল বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিষয়টি বড় কোনো মতবিরোধ নয়। ইরানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলাকালে দুজনের অবস্থানে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা একই সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে শুরুতে ভ্যান্স কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। ওই খবর প্রকাশের পরই ট্রাম্প এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নীতিগত বা দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভ্যান্সের অবস্থান তার তুলনায় কিছুটা আলাদা ছিল। ট্রাম্পের মতে, হামলার বিষয়ে তিনি যতটা আগ্রহী ছিলেন, ভ্যান্স হয়তো ততটা ছিলেন না। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর তিনি সামরিক অভিযানের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, পরিস্থিতি এমন ছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কার্যত অন্য কোনো বিকল্প ছিল না; তারা পদক্ষেপ না নিলে ইরানই আগে হামলা চালাতে পারত।
ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে বোঝাপড়া ভালোই ছিল। নীতিগতভাবে কিছুটা ভিন্ন মত থাকলেও তা বড় ধরনের বিরোধে পরিণত হয়নি।
এর আগে এবিসি নিউজ জানায়, বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে সাধারণত সতর্ক অবস্থানে থাকা ভ্যান্স গত মাসের শেষ দিকে ইরানে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় নিজের সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি অবস্থান বদলে অভিযানের পক্ষে সমর্থন দেন।
বিদেশে সামরিক অভিযান নিয়ে ভ্যান্সের উদ্বেগ নতুন নয়। ইরাকে দায়িত্ব পালন করা সাবেক মেরিন কর্পস সদস্য হিসেবে অতীতেও তিনি এ ধরনের বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। গত বছর ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে আলোচনার সময় একটি সিগন্যাল গ্রুপ চ্যাটে তিনি ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরে জানা যায়, ওই চ্যাটে ভুলবশত একজন সাংবাদিক যুক্ত হয়ে পড়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তখন ভ্যান্স জানতে চেয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ খোলা রাখতে হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা হামলা ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যয় ভাগাভাগির বিষয়ে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কয়েক দিন আগে ভ্যান্স দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়ও, তা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেবে বলে তিনি মনে করেন না। একই মত তিনি পরে ফক্স নিউজকেও জানান। তবে তিনি স্বীকার করেন, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অভিযান কিছুটা দীর্ঘ সময় চলতে পারে।
ভ্যান্সের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন কোনো যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়াবেন না যার লক্ষ্য স্পষ্ট নয় বা যার শেষ কোথায় তা অনিশ্চিত। তার ভাষায়, ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য পরিষ্কার— ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে এবং ভবিষ্যতেও সেই সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা না করে। ভ্যান্স মনে করেন, লক্ষ্যটি স্পষ্ট থাকায় ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘ ও জটিল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম।
এ.এইচ








