ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ বৈশাখ ১৪৩১

শিক্ষক নিয়োগে পিএসসির আদলে কমিশন গঠনের উদ্যোগ

প্রকাশিত: ১৮:২৪, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

শিক্ষক নিয়োগে পিএসসির আদলে কমিশন গঠনের উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় শিক্ষা নীতির আলোকে এবার নতুন করে বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ স্তরের শিক্ষক নিয়োগে সরকারি কর্ম কমিশনের আদলে একটি ‘স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা কমিশন’ গঠন করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষক নিয়োগে পৃথক কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া নতুন নয়। ১১ বছর আগে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় চুড়ান্ত হওয়ার পর ঝুলে প্রায় কাজ। এবার নতুন করে আবার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা গেছে, গঠিত এ কমিটিকে আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে কমিশনের আইনগত কাঠামো এবং একটি রূপরেখা দাঁড় করাতে বলা হয়েছে। কমিটি ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’র আলোকে আইনের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত সংবিধিবদ্ধ একটি স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠনের আইনগত কাঠামো তৈরি করবে। শিক্ষা মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নিরীক্ষা ও আইন) খালেদা আক্তারকে আহ্বায়ক করা এ কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন মন্ত্রণালয়ের একই বিভাগের উপ-সচিব (আইন)। সদস্য হিসেবে থাকছেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম-সচিব পদ মর্যাদার একজন প্রতিনিধি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম-সচিব পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক, কারিগরি ও মাদ্রাসা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একজন প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের একজন প্রতিনিধি।কমিটির আহ্বায়ক খালেদা আক্তার বলেছেন, শিঘ্রই কমিটির প্রথম সভা ডাকা হবে। আশা করছি বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে আইনি দিক বিবেচনা করে একটি রূপরেখা জমা দিতে পারব। বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে গত কয়েক বছর আগ পর্যন্তও ছিলো ব্যপক নৈরাজ্য। পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালীদের প্রভাবে নিয়োগে ছিলনা স্বচ্ছতা। তবে এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকারের গত মেয়াদেই বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) গঠন করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হলেও নিয়োগে আরো স্বচ্ছতা আনতে চায় সরকার। এ কমিশন গঠিত হলে ‘জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ’ (এনটিআরসিএ) বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তখন সব ধরনের শিক্ষক নিয়োগ দেবে জাতীয় শিক্ষা কমিশন। এদিকে শিক্ষা নীতি প্রণয়নের এক প্রায় যুগ পর কমিশন গঠনের উদ্যোগ আসলেও তা যে আবার ঝুলে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। জানা গেছে, শিক্ষানীতি অনুসারে কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো নীতি প্রণয়নের পরপরই। কিন্তু সেই শিক্ষা কর্মকমিশন আলোর মুখ দেখেনি দীর্ঘ ১১ বছরেও। জাতীয় শিক্ষানীতির সুপারিশ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকদের দাবি সত্যেও শেষ পর্যন্ত ঝুলেই যায় শিক্ষক নিয়োগে বহু প্রতীক্ষিত শিক্ষা কর্মকমিশন গঠনের প্রক্রিয়া। জাতীয় শিক্ষানীতি এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পরও বছরের পর বছর ধরে এ সংক্রান্ত সকল কাজ বন্ধ হয়ে আছে। এমনকি কমিশন গঠনের বিষয়ে সচিব কমিটির অনুমোদনের পরও চলে গেছে ৭ বছর। অথচ শিক্ষানীতিতেই বলা হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগে হবে আলাদা কর্মকমিশন। শিক্ষানীতির সুপারিশ অনুসারে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার পর ঝুলে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও শিক্ষাবিদরা। ক্ষুব্ধ শিক্ষক সংগঠনের নেতারাও। কমিশন গঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষাবিদদের সুপারিশ মেনেই দ্রুত কাজ শেষ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল সরকার। সে অনুসারে ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর শিক্ষক নিয়োগে পৃথক কর্মকমিশন গঠনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করে সরকারের সচিব কমিটি। কমিটি একই সঙ্গে সেদিন শিক্ষা কর্মকমিশন গঠনের সারসংক্ষেপ যাচাই-বাছাই করে মতামত দেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়েও পাঠিয়েছিল। কিন্তু সেই পর্যন্তই। কিছু আমলার ফাইল চালাচালির মধ্যেই এখন আটকে আছে বহু প্রতীক্ষিক শিক্ষা কর্মকমিশন গঠন প্রক্রিয়া। অথচ সব খাতের নিয়োগ সরকারী কর্মকমিশন (পিএসসি) দেখাশোনা করায় সঙ্কট বাধে নিয়োগে। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সচিবদের সভায় শিক্ষা খাতে পৃথক কর্মকমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। শিক্ষক, শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষা কমিশন গঠনের খবর শুনে সকলের মনে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু কার্যক্রম থমকে যাওয়ায় শিক্ষক সমাজ হতাশ। বিষয়টিতে হতাশ শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্যরা বলছেন, শিক্ষার উন্নয়নে সবার আগে দরকার দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক। দরকার স্বচ্ছ নিয়োগ। এ জন্য শিক্ষানীতিতেই বলা হয়েছিল, শিক্ষক নিয়োগে হবে আলাদা কর্মকমিশন। যে কমিশন গঠনের পরই এনটিআরসিএ বিলুপ্ত করতে হবে। কিন্তু কমিশনতো হয়নি।
×