ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

ইমরুল কায়েস

‘প্রতিটি সিরিজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং’

প্রকাশিত: ০৬:৪৯, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

‘প্রতিটি সিরিজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং’

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ওপেনিংয়ে দুর্দান্ত খেলছিলেন। ইমরুল কায়েসকে তিন নম্বর পজিশনে নিয়ে যাওয়া হলো। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে ব্যাট হাতে ভাল করতে পারলেন না। দুই টেস্টে সবমিলিয়ে করলেন ২১ রান (০,২, ৪, ১৫)। মনে করা হচ্ছিল, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে দলে থাকছেন না ইমরুল। কিন্তু অভিজ্ঞতা ইমরুলকে আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে দলে জায়গা করে দিয়েছে। এখন এ সিরিজে ভাল করতেই হবে। নাহলে যে টেস্ট দল থেকে বিদায় ঘণ্টা বেজে যেতে পারে। ইমরুল সেটি ভাল করেই জানেন। আর তাইতো বলছেনও, ‘প্রতিটি সিরিজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং।’ চ্যালেঞ্জ হওয়ার কথা। খারাপ করলেই যে বিপদ ঘনিয়ে আসবে। ইমরুল বলেছেন, ‘অবশ্যই আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। আমি নিজেও সেটা ভালভাবে জানি। যেহেতু শেষ সিরিজটি ভাল খেলিনি। আসলে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ না, প্রতিটি সিরিজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়। আমি চেষ্টা করব। এটাও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়া। বাকিটা উপর আল্লাহর ইচ্ছে। চেষ্টা করব মানিয়ে নিয়ে ভাল খেলতে। চেষ্টা করছি, কষ্ট করছি।’ সবারই জানা দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে ভাল খেলা খুবই কঠিন। বাউন্সি উইকেট হয়। পেসারদের জন্য সব সুবিধা থাকে। ইমরুল কী পারবেন ভাল করতে? জানান, ‘ওখানে বাউন্সি ট্র্যাক সবাই জানে। ব্যাক আপ লেন্থে বল বেশি করবে সবাই। আমাদের ছুটির যে সময়টা ছিল, আমরা ইনডোরে এসে অনুশীলন করলাম। এখানেই একমাত্র জায়গা অনুশীলন করার। এছাড়া তো আর নেই। ওখানে গিয়ে তিনদিন অনুশীলন করতে পারব। অনুশীলন ম্যাচও আছে। ওভাবেই এ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করব ম্যাচের আগে।’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পর অনুশীলন নেই। নিজেদের তাগিদেই ক্রিকেটাররা অনুশীলন করছেন। ইমরুলও অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ৯ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশে অনুশীলন ছাড়াই। অবশ্য দেশে অনুশীলনের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে অনুশীলন করাটাই বেশি জরুরী। আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ খেলায় ম্যাচ খেলার অনুশীলনটা আছেই। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে সিরিজ শুরুর আগে তিনদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও আছে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় ৯ বছর পর খেলার বিষয়টা ক্রিকেটারদের ভাবাচ্ছে। ইমরুল বললেন, ‘এ রকম জায়গায় যারাই খেলবে তারাই এটা ফিল করবে। এ জিনিসটা হ্যান্ডেল করা এতটাও সহজ না। শেষ দুটি টেস্ট আমার জন্য খারাপ হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ইনজুরি (আসলে নিউজিল্যান্ডে) হয়ে এসেও শ্রীলঙ্কায় ওভাবে পারফর্ম করতে পারিনি। ওভার অল একটু আনলাকি বলব নিজেকে। ইনজুরি না হলে যে রিদমে যাচ্ছিলাম সেই পারফর্মেন্স আরেকটু বেটার হতো। ইনজুরি থেকেও একটু সমস্যা হয়েছে। আমি যেভাবে খেলছি এভাবে খেলা অবশ্যই একটু কঠিন। আমি নিজেও জানি একটা সিরিজ খারাপ খেললে আমার জন্য পরের সিরিজে প্রেসার। আমি চেষ্টা করি প্রতিটি সিরিজে রান করার। কখনও সফল হই, কখনও হই না। যে কয়দিন খেলব সে কয়দিন চেষ্টা করব ভাল খেলার। অন্যথায় কাজটা কঠিন।’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগেও নিজের তিন নম্বর পজিশন নিয়ে মুখ খুলেছেন। তার যে ওপেনিংটাই পছন্দ। কিন্তু এখন আর কোন পজিশন নিয়ে কথা বলতে রাজি নন ইমরুল। তাইতো মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বুধবার উদ্বোধনী জুটি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতেই বলে দিলেন, ‘এ প্রশ্নটা না করলে ভাল হয়। বাদ দেই এ প্রশ্নটা।’ তবে ব্যাটিং-অর্ডার নিয়ে বলেছেন, ‘যেখানে দিবে ওটাই আমার পছন্দের পজিশন আমার পার্টিকুলার কোন পছন্দ নেই। মানুষ হিসেবে সবকিছুই পরিবর্তন করতে হয়। একটা মানুষ তো সবসময় একটা ট্র্যাকে ঠিক থাকে না। নিজেকে নিজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।’ ২০০৮ সালে বাংলাদেশ যখন সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকায় যায়, তখন ইমরুলের অভিষেক হয়েছিল। সেই অভিষেক স্মৃতি নিয়ে ইমরুল জানান, ‘ওইরকম স্মৃতি আমার মনে নেই। ওই সিরিজে আমার ডেব্যু হয়েছিল। আমি তখন অনেক কিছুই বুঝিনি, টেস্ট ক্রিকেট, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তাও আবার দক্ষিণ আফ্রিকার মতো জায়গায়। আমার জন্য কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আমি খুব সাহসের সঙ্গে ব্যাটিং করেছিলাম। সিনিয়র ক্রিকেটাররা যারা ছিলেন তারা সবাই বলেছিলেন, ‘ব্যাটসম্যান হিসেবে যে জিনিসটা দরকার সেই জিনিসটা তোমার মধ্যে আছে। অসুবিধা নেই। তুমি সামনে আরও ভাল করতে পারবা। তুমি এই সাহসটা রেখ।’ অভিজ্ঞতার জন্যই ইমরুল সুযোগ পেয়েছেন এবার। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ইমরুল জানান, ‘নয় বছরে ত্রিশ টেস্ট ম্যাচ খেলেছি। এটাই সব থেকে বড় অভিজ্ঞতা। দক্ষিণ আফ্রিকা আমার, তামিম, মুশফিক সবার জন্য ভিন্ন কন্ডিশন। আমাদের পরিচিত কন্ডিশন এটা না। এতো লম্বা সময় ধরে খেলছি এটাই একটা অভিজ্ঞতা। টেস্ট ক্রিকেট কিভাবে খেলতে হয়, কিভাবে সার্ভাইভ করতে হয়, কিভাবে ধারাবাহিক থাকতে হয়, এটাই অভিজ্ঞতার বিষয়। শেষ সিরিজটা ভাল হয়নি। চেষ্টা করব এবার সাকসেস যেন পাই। (নির্বাচক) তাদের ধন্যবাদ। আমার ওপর তারা যে আস্থা রেখেছে। ভাল করিনি তবুও তারা আমাকে সুযোগ দিয়েছে। এটার জন্য ধন্যবাদ। আস্থার প্রতিদান ভালভাবে দিতে চাই।’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শেষে কোচের সঙ্গে ইমরুলের কথা হয়েছে। কী হয়েছে? জানান ইমরুলই, ‘কোচের সঙ্গে কথা হয়েছে। একটা খেলোয়াড় চারটা ইনিংস খারাপ খেলেছে বলে তো আমরা তাকে বাদ দিতে পারি না। আমাকে বলেছে, “তুমি টানা দুই-তিন বছর টেস্ট ক্রিকেটে রান করে গেছ। ম্যাক্সিমাম সব ফরমেটেই রান করেছ। দুই-চারটা ইনিংস খারাপ করলেই ড্রপ করতে পারি না।’ আমাকে বলেছে তুমি খেলে যাও। অসুবিধা নেই।’ ইমরুল এখন কিভাবে চ্যালেঞ্জ জয় করেন, সেদিকেই সবার নজর থাকবে।