ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ বৈশাখ ১৪৩১

তিস্তা চুক্তি ছাড়া অন্য কোন চুক্তি দেশের মানুষ মানবে না

প্রকাশিত: ০৫:৩৯, ১৪ মার্চ ২০১৭

তিস্তা চুক্তি ছাড়া অন্য কোন চুক্তি দেশের মানুষ মানবে না

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের বিপক্ষে যায়, দেশের স্বার্থের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করে এমন ধরনের কোন চুক্তি দেশের মানুষ কখনও গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সুসম্পর্ক রয়েছে। ১১ বছর ধরে আশা করেছি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। অন্তত তিস্তার পানিটা পাব। কিন্তু আজ পর্যন্ত এক ফোঁটা পানি আমরা পায়নি। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ছাড়া অন্য কোন চুক্তি দেশে জনগণ মেনে নেবে না বলে উল্লেখ করেন। সোমবার পল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির যৌথসভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে অনেক সুবিধা দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে কোন সুবিধা পায়নি। ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সুসম্পর্ক থাকার পরও ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে বলে দেয়া হয়েছে, পানি দেয়া সম্ভব না। অথচ আমাদের দিক থেকে ট্রানজিট দেয়া হয়েছে, নৌপথে বন্দর ব্যবহারে অনুমতি দেয়া হয়েছে। উপরন্তু সীমান্তে বেআইনীভাবে বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। শেষ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের সময় প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ভারতীয় পত্র-পত্রিকায় এসেছে, ভারতের সঙ্গে ২৫ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তি হতে যাচ্ছে। সেখানে কী হচ্ছে, তা বলা উচিত। আশঙ্কাটা শুধু আমাদের না, আশঙ্কাটা ভারতের পত্র-পত্রিকায় বেশি বেরিয়ে এসেছে। ভারতের পত্র-পত্রিকায় বেশি এসেছে যে, ২৫ বছরের চুক্তি আবার একটা হতে যাচ্ছে। আমরা চাই সেখানে কী আলোচনা হতে যাচ্ছে এটা বলা উচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিপক্ষে যায় অর্থাৎ তার স্বার্থের সঙ্গে সংঘাত ঘটে এই ধরনের কোন চুক্তি দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না উল্লেখ করেন। সীমান্তে বাংলাদেশীদের বেআইনীভাবে হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে আলোচন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবসের প্রস্তাবের বিষয়য়ে বলেন, আমরা গণহত্যার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে প্রস্তাব নেয়া হয়েছে, আইনে আসুক। চীন থেকে আনা দুটি সাবমেরিনের বিষয়ে বলেন, সাবমেরিন যদি ডুবে ঠিকমতো এবং আর যদি শত্রু পক্ষের জাহাজকে মারতে পারে, তাহলে স্বাধুবাদ জনায়। রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের বিষয় উল্লেখ করেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তাঁকে সবকিছু চিন্তা করে কথা বলা দরকার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেখতে পাই না। তাঁর রাজনৈতিক স্বার্থে অবলীলায় মিথ্যাচার করার ফলে জাতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে আরও বিভক্ত হয়। দেশের মানুষের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক স্বার্থে যেটা বলা উচিত, সেটাই তাঁর বলা উচিত। হাওয়া ভবনে ‘র’-এর লোকজন বসে থাকতেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের জবাবে বলেন, এ বিষয়ে জনগণের ধারণা অন্য রকম রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেই নাকি তাঁরা বসে থাকেন। কারা বসে থাকেন, তা আমরা জানি না। এটা পাবলিক পারসেপশন। যদি তা-ই হয়, এ ব্যাপারে তাঁর ব্যাখ্যা দেয়া উচিত উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, গত শনিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে যুব মহিলা লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ২০০১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারাতে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও যুক্তরাষ্ট্র একজোট হয়েছিল। তখন ‘র’-এর প্রতিনিধি ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের লোক বিএনপির চেয়ারপার্সনের কার্যালয় হাওয়া ভবনে বসে থাকতেন। মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সমালোচনা করেন সংবাদ সম্মেলনে। বলেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী কিভাবে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কার কাছে মুচলেকা দিয়েছিলেন? মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ধারণা আছে যে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশে আসলেন। তিনি সব জায়গায় দৌড়ালেন। এরশাদ সাহেবের কাছে গেলেন। তাকে নির্বাচনের জন্য রাজি করালেন। তাহলে কি মানুষ এটাই ভাববে যে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভারতের ‘র’ এর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? স্বাধীনতা দিবসে বিএনপির কর্মসূচী ॥ এদিওকে আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির ৭ দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। এসব কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে, শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রা। সোমবার দুপুরে দলের এক যৌথসভা শেষে বিএনপির এ কর্মসূচীর ঘোষণা করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ২৬ মার্চ বেলা তিনটায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের হবে। এর আগে সকাল সাতটায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে, নয়টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। স্বাধীনতা দিবসের দিন সকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সন্ধ্যায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও ছাত্রদলের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ মার্চ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, এ বছর আলোচনা সভার পরিবর্তে সারাদেশে শোভাযাত্রা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্ব যৌথসভায় যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন, খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, বিলকিস জাহান, এমরান সালেহ, শামা ওবায়েদ, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
×