কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রয়োজন প্রশিক্ষণ

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৬

খন্দকার মাহ্বুবুল আলম

এ দেশে বহুবার ভূকম্পনের ঘটনা ঘটেছে, যার পরিসংখ্যান এখানে তুলে ধরা সম্ভব নয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রিখটর স্কেলে এসব ভূকম্পন সৃষ্টি হয়েছিল। এসব ভূকম্পনের অনেকগুলোতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কম ছিল না। পরিসংখ্যান বলছে, ১৮৯৭ সালে ঢাকায় এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে সহস্রাধিক লোকের প্রাণহানিসহ বিপুল পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছিল। এখানকার জন্য এটিই ছিল সর্বশেষ ভয়াবহ ভূমিকম্প। ভূমিকম্পপ্রবণ চিহ্নিত ২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বলে এক সমীক্ষায় পরিদৃষ্ট হয়। তাছাড়া মার্কিন ভূতত্ত্বের এক জরিপে উঠে এসেছে- বাংলাদেশে গত দেড় যুগের ভূকম্পনের মধ্যে সদ্য এই ভূকম্পনের মাত্রা ছিল অধিক।

মোটা দাগে বলতে গেলে একান্তই প্রাকৃতিক কারণে এসব ভূকম্পনের সৃষ্টি হয়ে থাকে। এটি হচ্ছে ভূপ্রকৃতির একটি নিয়ম বা ধর্ম। যে কোন বিষয়ের চরিত্রই হচ্ছে তার ধর্ম। এক্ষেত্রেও তাই। এ কথা সত্য যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখনও স্থায়ীভাবে রোধ করা যায় না, তবে এর ভয়াবহতা থেকে জানমাল (এক্ষেত্রে বিশেষত জীবন রক্ষা) রক্ষার তাগিদ অনুভবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় মাত্র। সে রকম প্রশিক্ষণ বা ব্যবস্থা আমাদের মধ্যে কতটুকু আছে? যা আছে তা পর্যাপ্ত নয়। এ বছরের শুরুতে সদ্য এই ভূকম্পনের কারণে রাজধানীর অনেক ভবনে ফাটলের সৃষ্টিসহ কোথাও কোথাও ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সেসব ভবনের বাসিন্দারা এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। এক্ষেত্রে গৃহ বা বহুতল ভবন নির্মাণে অনেকাংশে প্রকৌশল নিয়ম-নক্সা ইত্যাদি সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। পুকুর, ডোবা, খাল-বিল ভরাট করে নরম মাটির ওপর এসব ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং হচ্ছেও। এ ভবনগুলো নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি থেকে অপরটির দূরত্বও বজায় রাখা হচ্ছে না। তাছাড়া এসব ভবন নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই এসব নির্মিত ভবন বরাবরের ন্যায় ঝুঁকির মধ্যে থেকেই যাচ্ছে।

ভূমিকম্প যেহেতু একটি প্রাকৃতিক কারণ, সেহেতু এ নিয়ে নিছক কুসংস্কারাচ্ছন্ন থাকা ঠিক নয়। এর উৎপত্তির প্রকৃত বৈজ্ঞানিক কারণ যেমন জানা দরকার, তেমনি নিরাপদ থাকার যৌক্তিক কৌশলগুলো সম্পর্কেও ধারণা থাকা দরকার। বিশেষ করে এ দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলসমূহের লোকজন এবং স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তত্ত্বীয় জ্ঞানদানের পাশাপাশি বাস্তবিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার-ওয়ার্কশপ ইত্যাদি বেশিমাত্রায় করা দরকার। সর্বোপরি ভূমিকম্প আসলে কী, কোন্ কোন্ প্রাকৃতিক অঞ্চলে এর প্রভাব বেশি এবং ভবন নির্মাণ কৌশলসহ ত্বরিত পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার কৌশল সম্পর্কে সর্বমহলে নানাবিধ উপায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা একান্তই জরুরী।

হালিশহর, চট্টগ্রাম থেকে

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৬

১৪/০১/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: