মূলত মেঘলা, তাপমাত্রা ২৭.৮ °C
 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১০ আশ্বিন ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নিরন্তর যন্ত্রণার দিন

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৬
নিরন্তর যন্ত্রণার দিন
  • দুঃসহ সেই পেট্রোল বোমার দিনগুলো
  • জেলা প্রশাসনের রশি টানাটানিতে নিহত ইমরানের স্ত্রী লাভলি এখনও পায়নি অর্থ সহায়তা
  • দ্রুত বিচারের আশ্বাসও পূরণ হয়নি তাদের
  • স্কুল শিক্ষিকা শামসুন্নাহারকে হাতিয়া থেকে প্রতিমাসে আসতে হয় বার্ন ইউনিটে

রশিদ মামুন ॥ সাত বছরের মরিয়ম, পৃথিবীর সঙ্গে ঠিকঠাক পরিচয়ের সুযোগও ঘটেনি। এরমধ্যে গত বছর ৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিহিংসা আর ক্ষমতা দখলের রাজনীতির ভয়াল থাবায় পিষ্ট শিশু মরিয়ম। গাজীপুর পুলিশ লাইনের সামনে বলাকা পরিবহনের একটি বাসে ছুড়ে মারা পেট্রোলবোমায় শরীরের ৪৫ ভাগ পুড়ে অঙ্গার শিশু মরিয়মের। মার্চেই হিংসা, দ্বন্দ্ব আর বিবাদের পৃথিবী ছাড়ে মরিয়ম। যেখানে শিশুর প্রতিও একটুখানি দয়া দেখানো হয় না, সেই দেশ, সেই মানুষ সেই ক্ষমতালোভী রাজনীতিবিদদের মুখে মরিয়মরা পারলে থু থু ছিটিয়ে দিত। কিশোরগঞ্জের কুশলপুরে আব্দুল মতিন খোকন আর নার্গিস আক্তারের সংসার আলো করে এসেছিল মরিয়ম। জন্মের পরই নার্গিস মেয়েকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নর জাল বুনতে পারেননি খোকন। রক্তে দানাবাঁধে ভয়াল ক্যান্সার। বছর তিনেক আগে খোকনও জীবন থেকে ছুটি নেয়। এরপরও স্বপ্নটা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন নার্গিস। পোশাক কারখানায় কাজ করে মেয়েকে বড় করার চেষ্টাটা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু এখন কাকে নিয়ে আর স্বপ্ন সাজাবেন? সেই মরিয়মই যে নেই। তাই তো মরিয়মের কথা জানতে চাইলে নার্গিসের অশ্রু বাঁধ ভাঙ্গে। আজ তার কোথাও কেউ নেই। কিভাবে মরিয়ম পুলিশ লাইনের সামনে গেল কিভাবে পেট্রোল বোমায় সে দগ্ধ হলো সব কিছু রহস্যে ঘেরা। নার্গিস জানেনই না কিভাবে ঘরে রেখে যাওয়া মরিয়ম রাস্তায় বের হলো। নাকি কেউ তাকে ধরে নিয়ে জ্বালিয়ে দিল, নষ্ট রাজনীতির বিশেষ এসাইনমেন্টেই কী বলি হলো মরিয়ম? নার্গিসের চোখের অশ্রু যেমন ফুরাবে না, তেমনি এই প্রশ্নেরও কোন দিন উত্তর মিলবে নাÑ কেন কিভাবে মরিয়ম ট্র্যাজেডির সূত্রপাত।

সরকারের সহায়তায় অসহায় পরিবারগুলোর আর্থিক অসচ্ছলতা খানিকটা ঘুচলেও ফরিদপুরের রাজধারপুরের নিহত ইমরানের স্ত্রী লাভলি বলছেন মাগুরা আর ফরিদপুরের জেলাপ্রশাসনের রশি টানাটানিতে এখনও সহায়তাই পাননি তিনি। আর ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় বলছে দু’মাস আগেই সহায়তার অর্থ এসে পড়ে আছে কেউ নিতেই আসেনি। প্রশ্ন উঠতেই পারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত অর্থের চেক জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এসে কিভাবে দু’মাস পড়ে থাকে। একই পেট্রোলবোমা অভাগী লাভলির আপন ভাই ২৫ বছরের টগবগে তরুণ ইয়াদুলকেও কেড়ে নেয়। ঘটনার সময় দ্রুত বিচার, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে পুড়িয়ে হত্যার বিচার করার আশ্বাস দিলেও কথা রাখেনি সরকার। শিশু রাজন-রাকিবের বিচার দ্রুততার সঙ্গে করে নজির স্থাপন করলেও পলিটিক্যাল কিলিং বলেই কী মরিয়ম হত্যার বিচারে দীর্ঘসূত্রতার বৃত্ত ভাঙ্গা সম্ভব হচ্ছে না!

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে ফোন করা হলেও আইন মন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হককে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত ওই বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি এ্যাডভোকেট আনিসুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে পেট্রোলবোমা নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিচারের কথা জানান। আর জুলাইতে আরেক খবরে বলা হচ্ছে সাত বিভাগে সাতটি বিশেষ আদালত হবে। এরমধ্যে ঢাকায় একটি বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন হবে। তবে ওই সময় তিনি জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে এজন্য বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। যত দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া যাবে তত দ্রুত বিশেষ আদালত গঠন করা হবে। বিশেষ আদালত না হলেও সন্ত্রাস দমন আইনে হওয়া মামলাগুলো অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনে বিচারকাজ শুরু হয় ২০১২ সালে কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই আইনে কোন মামলার রায় হয়নি।

জানতে চাইলে আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ইচ্ছা করলেই দ্রুত এসব বিচার করা যায়। এটাও এক ধনের মানবতাবিরোধী অপরাধ। সন্ত্রাস দমন আইনে মামলার বিচারের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিচারপতি মানিক বলেন, নিশ্চই এখানে সরকারপক্ষের দূর্বলতা রয়েছে। তবে অনেক মামলায় দেরি হতে পারে উল্লেখ করে সব বিষয় একটু ভাল করে দেখা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

বিচারের এই অবস্থায় কিভাবে বাবার ঘাতদের দ্রুত বিচার পাবে জাহিদ! বগুড়ার কাহালুর নিশ্চিতপুর গ্রামের জাহিদ হাসান (১৩) তো বাবার মতো ট্রাকের হেলপার হতে চায়নি। স্বপ্নের পথেই এগিয়ে চলেছিল জীবনটা। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর সংসারের জোয়াল পড়েছে কাঁধে। স্কুল ছেড়ে কাজে যোগ দিয়েছে জাহিদ। ছোট্ট বোন, মা, দাদা-দাদি মিলে পাঁচ জনের সংসারের অনেক দায়িত্ব এখন ছোট জাহিদের কাঁধে। এই জাহিদ যদি জানতে চায় কোন অপরাধে তার পিতা জাহাঙ্গীরের জীবনটা পেট্রোলবোমায় ঝলসে দেয়া হলো। কোন অপরাধে তাকে স্কুল ছাড়তে হলো কি উত্তর আছে তার? গত বছর ২৩ জানুয়ারি বগুড়ার চারমাথায় ট্রাকে ছুড়ে মারা পেট্রোলবোমায় ৪৬ ভাগ পুড়ে যায় জাহাঙ্গীরের। ২৭ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুর কাছে পরাজয়বরণ করেন তিনি। জাহাঙ্গীরের স্ত্রী বিউটি জানালেন, সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী মানুষ ছিল তাঁর স্বামী। এখন প্রতিমাসে সরকারের ১০ হাজার টাকায় সংসারটা চলে না। এজন্যই ছেলেটাকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে কাজে দিয়েছেন। তবে মেয়ে জাহানারাকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন।

জাহিদ হাসান আর নার্গিস আক্তারই নয়, গত বছর ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি জোটের টানা ৯২ দিনের আন্দোলনে দেশে একের পর এক পেট্রোলবোমা মেরে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খাদেলা জিয়ার ডাকা অবরোধে বন্দী না থেকে সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনে রাস্তায় বের হলে তাদের উপর পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারা হয়। যদিও বিএনপি প্রথম থেকেই সারাদেশে এই নির্মমতার দায় অস্বীকার করে এসেছে। তবে বিএনপি আন্দোলন থেকে সরে এলে একেবারে সারাদেশে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মানুষ হত্যা বন্ধ হয়ে যায়। জীবন্ত দগ্ধ এমন ১৮৩ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট চিকিৎসা দেয়। ওই সময় আগুনে পোড়া মানুষের হাহাকারে বার্ন ইউনিট ছিল আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। সারাদেশে পোড়া মানুষের আর্তনাদ বাড়তে থাকলে এই চিকিৎসা বিভিন্ন হাসপাতালে সম্প্রসারণ করা হয়। দগ্ধ মানুষের মিছিল ঢাকার বার্ন ইউনিট থেকে ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতাল থেকে নতুন হাসপাতালে। ওই সময় সারাদেশে পেট্রোলবোমা আর নানা রকম সন্ত্রাসী হামলায় ২৩১ জন মানুষ নিহত হন, আর আহত দগ্ধ মানুষের তালিকায় নাম ওঠে এক হাজার ১৮০ জনের।

এদের অনেকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে নিরন্তর যন্ত্রণায় দিন যাপনের কথা। শরীর পুড়ে যাওয়া মানুষের স্বপ্ন পুড়ে ছন্দ হারিয়েছে জীবন। সেই সময়ের দুঃসহ স্মৃতি ভুলে আবারও জীবনের পথে মুখরিত হতে চান সকলেই। কিন্তু ভয়াল সেই স্মৃতি পিছু ছাড়ছে না কারও। যেমনটি শামসুন্নাহারের শরীর ছেড়ে যায়নি পোড়ারোগ। নোয়াখালীর হাতিয়ার মডেল পাইলট স্কুলের শিক্ষিকা তিনি। আন্দোলনের প্রথম পেট্রোলবোমার স্বীকারও শামসুন্নাহার সঙ্গে তার দুই সন্তান জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তানজিমুল হক এবং কলেজ পড়ুয়া সালমা অনিকা। ভোটের মাঠে নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের আন্দোলনে উত্তাল ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪ রাজধানীর কাজিপাড়ায় পেট্রোল বোমায় আহত হন তারা। প্রথম পেট্রোল বোমা চার্জ হওয়ায় আতঙ্ক ছড়ায় নগরে। মেয়েকে ডাক্তার দেখাতে এসে নিজেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন শামসুন্নাহার। মেয়ে ভাগ্যক্রমে ২ শতাংশ পুড়লেও ছেলে ১৫ আর নিজে ১০ শতাংশ দগ্ধ হন।

শামসুন্নাহারের স্বামী মোঃ জাবের উদ্দিন জনকণ্ঠকে জানান, এখনও প্রতিমাসেই স্ত্রীকে নিয়ে বার্ন ইউনিটে আসতে হয়। এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন শামসুন্নাহার। তবে যে শহর পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল অনিকাকে সেই শহরেই সে ফিরে এসেছে। এ বছরই ইডেন কলেজে অনার্সে ভর্তি হয়েছে সে। আর তানজিমুল এখন চাকরির চেষ্টা করছেন।

শামসুন্নাহারদের দিয়ে শুরুর ঘটনা আরও প্রকাশ্য হয় বছরের ৫ জানুয়ারি। এদিন প্রথম ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ হয়। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকার কদমতলীতে পেট্রোলবোমায় আহত হন এক আনসার সদস্য। ঢামেকের রোগী ভর্তির তথ্য বলছে ওই সময় মগবাজার থেকে তেজগাঁও, নারায়গঞ্জ থেকে মিরপুর, কমলাপুর থেকে কুমিল্লা, রংপুর থেকে সিরাজগঞ্জ, মহম্মদপুর থেকে উত্তরা, সাভার থেকে বরিশাল অথবা ফেনি, বগুড়া, বকশিবাজার অথবা যাত্রাবাড়ী দেশের নগরে নগরে পাড়ায় মহল্লায় সবখান জুড়েই আতঙ্ক ছিল পেট্রোলবোমা। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটটের হিসেবে সব শেষ পেট্রোলবোমায় আহত রোগী ভর্তি হন ওই বছর ১৩ এপ্রিল। ময়মনসিংহের গৌরীপুর সব শেষ পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। মোঃ রিয়াজ উদ্দিন নামের এক ট্রাক চালকের শরীরের ১৪ ভাগ পুড়ে যায় ওই সন্ত্রাসে।

জেলা শহর মাগুরার মুগিরঢালে একটি বাসে ছুড়ে মারা পেট্রোলবোমায় চারজন নিহত হন। এদের একজন ইমরান হোসেনের স্ত্রী লাভলি। চব্বিশের লাভলি বিয়ের তিন বছর দুই মাসের মাথায়ই সংসার হারান। আর ছেলে লামিম বাবা ইমরানকে হারান এক বছর চার মাসের ছোট জীবনে। লামিম যখন বুঝতে শিখবে বাবা কী, সেই দিন ইমরান বহুদূরের মানুষ। হয়ত কষ্টে বুক ফাটবে, হতাশায় ডুবে যাবে। চিৎকার করে বাবা বলে ডাকতে ইচ্ছা করবে কিন্তু কেউ আর সাড়া দেবে না। কেউ আর আদর বুলানো হাতে বুকে টেনে নেবে না। লাভলি জানান, তিনি সরকারের কাছ থেকে কোন সহায়তা পাননি। মাগুরা জেলা প্রশাসক বলছেন, ঘটনা মাগুরার হলেও ইমরান ফরিদপুরের স্থায়ী বাসিন্দা। সঙ্গত কারণে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন এই ক্ষতিপূরণ দেবে। তারা সব কাগজপত্র তৈরি করে ঢাকায় পাঠিয়েছে। এরপর আর কিছু জানা সম্ভব হয়নি লাভলির। তিনি একবার মাগুরা আরেকবার ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের দরবারে দৌড়াচ্ছেন। কিন্তু কবে এই সহায়তা পাবেন তা কেউ জানাতে পারছেন না।

এই অভিযেগের প্রেক্ষিতে ফরিদপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মনদীপ ঘড়াই জনকণ্ঠকে জানান, দু মাস আগেই সহায়তার চেক এসে পড়ে আছে। কিন্তু এখনও তারা কেউ ক্ষতিপূরণ নিতে আসেননি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়ার কোন দায়িত্ব ছিল কি না জানতে চাইলে ঘড়াই জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমানকে আমরা বিষয়টি জানিয়েছিলাম। এরপর আর কিছু জানাতে পারেনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।

এই যখন প্রশাসনের অবস্থা তখন যশোরের ঝিকড়গাছার ছুটু বিবিদের পাশে সরকারই বা কীভাবে দাঁড়াবেন। গত বছর ১৯ মার্চ এক মা ছুটু বিবির একমাত্র ছেলে শরীফ হারিয়ে যান পেট্রোলবোমার লেলিহান শিখায়। নিজের ট্রাকই চালাচ্ছিলেন শরীফ। আগুনে শরীফের ৮৮ শতাংশ ঝলসে যায়। তার মামা খন্দকার শাহ সেকেন্দার জানালেন, সরকারের ক্ষতিপূরণের টাকা পেলেও নিজের ট্রাকের কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি পরিবারটি। এক ছেলে এক মেয়ের ভবিষ্যত চিন্তায় আজ শরীফের স্ত্রীও পাগল প্রায়।

শুধু শরীফের স্ত্রীই নয়, চাঁদপুরের জাহিদের স্ত্রী জাকিয়ারও সেই একই দশা। স্বামীর মৃত্যুর পর বাবার ভিটায় গিয়ে উঠেছেন তিনি। ছেলে জিদান আহমেদ বাবার খুব আদরের ছিল। যখন বাবার কথা ওঠে জিদানের মুখখানা শুকিয়ে আসে। মনটা ছোট হয়ে যায়। কিন্তু যারা পেট্রোলবোমা মেরে নির্বিচারে মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে তারা কী কোন দিন তা অনুধাবন করবে! কোন দিন করবে।

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৬

১৪/০১/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: