কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

জাতীয় নাট্যশালায় ‘সুখ চান্দের মোড়’ নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনী

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫
জাতীয় নাট্যশালায় ‘সুখ চান্দের মোড়’ নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনী
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রায় সপ্তাহখানেক বিরতি দিয়ে আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেল শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা। নাট্যশালার তিনটি হল সংস্কারের কারণে গত কয়েক দিন ধরে মঞ্চস্থ হয়নি কোন নাটক। শুক্রবার ছুটির দিনে বৃষ্টি ছাপিয়ে আবার সরব হলো রাজধানীর মঞ্চনাটকের এই আঙিনাটি। আর এদিন যেন সরবতার সঙ্গে যোগ ঘটল নতুনত্বের। ঢাকার মঞ্চে যুক্ত হলো আরেকটি নতুন নাটক ‘সুখ চান্দের মোড়’। আষাঢ়ের সন্ধ্যায় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটি উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়। হাস্যরসধর্মী ব্যঙ্গাত্মক প্রযোজনাটি মঞ্চে এনেছে নাট্যদল কিস্্সা কাহিনী। নাটকটি রচনা করেছেন আসাদুজ্জামান দুলাল। নির্দেশনা দিয়েছেন দলের কর্ণধার তরুণ নাট্য নির্দেশক মোঃ জসিম উদ্দিন। শত বঞ্চনার মাঝে শ্রমজীবী মানুষের জীবন যে হাস্যরসে সিক্ত হতে পারে তারই চিত্রায়ন ঘটেছে নাটকে। বিশেষ করে যানজটে নাকাল রাজধানীবাসীকে একটু রসচিত্ত করার প্রচেষ্টার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও যুক্ত করা হয়েছে নাটকের গল্পে। এছাড়া দেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্য আঙ্গিক সঙযাত্রার একটি শিল্পরূপ তুলে ধরা হয়েছে প্রযোজনাটির নির্মাণ ও উপস্থাপনাশৈলীতে। বিশেষ করে অভিনয়শিল্পীদের অঙ্কিত শরীর প্রযোজনায় যোগ করেছে বিশেষ মাত্রা। সহজ-সরল এক নাট্য আখ্যান সুখ চান্দের মোড়। প্রত্যন্ত এক গ্রামের চার রাস্তার সংযোগ স্থলের নাম সুখ চান্দের মোড়। নাটকের কাহিনীতে দেখা যায় গ্রামের বড় রাস্তার সঙ্গে পিচঢালা সংযোগ সড়ক নির্মাণ হচ্ছে সুখ চান্দের মোড় থেকে। আর এ কর্মযজ্ঞে সবাই ব্যস্ত। কামলা, কামলার দালাল, রাজমিস্ত্রি, ঠিকাদার, প্রকৌশলী এমনকি রাজনীতিবিদও সম্পৃক্ত এই ব্যস্ততায়। অনেক আশা-আকাক্সক্ষা আর সুখের সম্ভাবনা নিয়ে নির্মিত হচ্ছে সড়কটি। শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও যুক্ত করা হয় এই রাস্তার সঙ্গে। কিন্তু সত্যিই কি সুখ আর সম্ভাবনার প্রতীক এই রাস্তা? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি যুক্ত হচ্ছে এই নির্মিতব্য অবকাঠামোর সঙ্গে! নাকি কামলা থেকে রাজনীতিবিদ পর্যন্ত সুখসন্ধানী মানুষের পারস্পরিক শোষণের পর্যায়ক্রমিক কাঠামো পোক্ত হচ্ছে এই কর্মযজ্ঞে! এমনি গোলক ধাঁধার আবর্তেও কেউ না কেউ থাকে যে পরিচ্ছন্ন স্বপ্নের ক্যানভাসে সুন্দর স্বদেশের স্বপ্ন দেখে। সে কবি কাশেম গণি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে সে প্রতিরোধও গড়ে তোলে শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে। আপাত দৃষ্টিতে এই প্রতিরোধ ব্যর্থ হয় তবে কাশেম গণির এই প্রতিরোধ আমাদের সচেতনতার দুয়ারে যে করাঘাত করে যায় তাতেই এর সার্থকতা।

তারুণ্যনির্ভর প্রযোজনাটির অভিনয় শিল্পীরা হলেনÑ মোঃ নোমান, সুরেশ চন্দ্র দাস, মোঃ শামীম মিয়া, তানভীর আহমেদ, মোহাম্মদ জাভেদ, মোঃ জান্নাতুন আদনান, শুভজিৎ কুমার পাল, কাকন চৌধুরী, অমিতাভ রাজীব, মোঃ মাহবুবুর রহমান, পংকজ দাস প্রমুখ। পোশাকসজ্জা ও শরীর অঙ্কন করেন এনাম তারা সাকী। আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন শওকত হোসেন সজীব। প্রপস নির্মাণ করেছেন ফজলে রাব্বি সুকর্নো।

আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় একই মিলনায়তনে নাটকটির দ্বিতীয় মঞ্চায়ন হবে।

‘নতুন চলচ্চিত্র, নতুন নির্মাতা’ ॥ ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি যৌথভাবে ‘নতুন চলচ্চিত্র, নতুন নির্মাতা’ শিরোনামে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকারদের নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য, পূর্ণদৈর্ঘ্য এবং প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের বছরব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করেছে। উৎসবে জুন মাসের প্রদর্শনীর জন্য জমা হওয়া চলচ্চিত্র থেকে ৭টি চলচ্চিত্র নির্বাচন করেছেন জুরি সদস্যরা। নির্বাচিত হয়েছে ৫টি স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনী, ১টি প্রামাণ্য ও ১টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র। নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলো শুক্রবার বিকেল ও সন্ধ্যা প্রথমবার প্রদর্শিত হয়। একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে দেখানো হবে ৫টি স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনী ও ১টি প্রামাণ্যচলচ্চিত্র। স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্রগুলো হলো আমিনুর রহমান মুকুল নির্মিত ‘অবরোধ’, শ্রাবন্ত হাবিবের ‘স্মৃতিময় বাড়ির মৃত্যু’, হাসান আশিক রহমানের ‘ঢাকা ২০১২’, আরাফাতুর রহমানের ‘বিবর্তন’ ও সাজ্জাদ হোসেনের ‘নিপাতনে সিদ্ধ’ এবং মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনের প্রামাণ্যচলচ্চিত্র ‘বাঁশ পাগলা’। এছাড়া প্রদর্শিত হয় আকরাম খান নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র ‘ঘাসফুল’।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ছোটকাকুর ঈদ উপহার ॥ ঈদের আনন্দ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আবারও ছোটকাকু বাস্তবে এসে দাঁড়াল তাদের পাশে। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের টি-শার্টসহ বিভিন্ন রকমের খাবার সামগ্রীসহ নানা রকম উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। শুক্রবার দুপুরে চ্যানেল আই চত্বরে এসব শিশুর হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন ছোটকাকু চরিত্রের স্রষ্টা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর, জনপ্রিয় নির্মাতা-অভিনেতা ‘ছোটকাকু’ আফজাল হোসেন, সঙ্গীতশিল্পী এসআই টুটুল, ক্রীড়া সংগঠক মুশফিকুর রহমান মোহন, আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান, শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম, অভিনেতা শহিদুল আলম সাচ্চু প্রমুখ।

এ অনুষ্ঠান থেকে জানানো হয়, ছোটকাকু সিরিজের এবারের গল্প ‘রাগ করে রাঙামাটি। আট পর্বে গোয়েন্দা এ ধারাবাহিকটি এবারও চ্যানেল আইয়ের পর্দায় চাঁদরাত থেকে ঈদের সপ্তম দিন পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে প্রচার হবে।

প্রসঙ্গত, ‘ছোটকাকু’ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের জনপ্রিয় ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস। গোয়েন্দা কাহিনীনির্ভর এই উপন্যাস অবলম্বনে খ্যাতিমান নাটক ও বিজ্ঞাপন নির্মাতা আফজাল হোসেন নির্মাণ করেছেন ধারাবাহিক টিভি নাটক ‘ছোটকাকু’। ধারাবাহিকটি নির্দেশনার পাশাপাশি মূল চরিত্রে অভিনয়ও করছেন আফজাল হোসেন। তাঁর সঙ্গে আরও অভিনয় করছেন অর্ষা, সীমান্ত ও প্রবাল।

অফিসার্স ক্লাবে দিনব্যাপী ঘরোয়া মেলা ॥ শুক্রবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো ঘরোয়া মেলা। এ মেলার আয়োজন করে ক্লাবের মহিলা কমিটি। রকমারি পণ্যসামগ্রীর সমাহার ঘটে মেলায়।

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫

২৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: