কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এম আর আখতার মুকুল

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫
  • শামীম মমতাজ

“হে বাংলাদেশ নতুন প্রজন্ম জেনে রাখুন ‘৭১’ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা সক্রিয়ভাবে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর মদদ দিয়েছিল এবং যারা রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং নরহত্যায় লিপ্ত হয়েছিল তাদের ইতিহাস আপনাদের কাছে গোপন করা হচ্ছে। আর বিচার! সে তো করবে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম।”

১৯৯৩ সালে এম আর আখতার মুকুলের লেখা ‘আমাকে কথা বলতে দিন’ বইটিতে ওপরে উল্লিখিত তাঁর সোচ্চার দাবি আজ ২২ বছর পর ২০১৫ সালে নতুন প্রজন্ম তার সঠিক জবাব দিচ্ছে।

তাদের বিচার শুরু হয়েছে, বিচার চলছে এবং সঙ্গে রায়ও কার্যকর হচ্ছে। ’৭১-এর মানবতাবিরোধী কর্মকা-ের ইতিহাস যেন আজ বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সামনে ফিরে আসছে।

তবে আক্ষেপ আর মনোকষ্ট এই যে, আখতার মুকুলের সেই অমর ভবিষ্যদ্বাণী আজ অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হলেও তিনি স্বচক্ষে তা দেখে যেতে পারলেন না। এইসব ডামাডোলের মাঝেই ফিরে এসেছে ২৬ জুন চরমপত্রের মুকুলের চলে যাওয়ার দিন।

একরাশ জ্বালা, দহন ও ক্রোধ বুকে নিয়ে এই বইটিতে তার খেদোক্তি ছিল, ‘এ লজ্জা রাখি কোথায়?’ তবে তিনি জানতেন, বুঝে গিয়েছিলেন একদিন না একদিন এদের বিচার হতেই হবে বাংলার মাটিতে। সত্যি ইতিহাস বড়ই নির্মম, নির্দয় ও কঠিন। কাউকেই সে ক্ষমা করে না। বর্তমানের চালচিত্র দেখে তাই মনে হয়, ’৭১ কি আবারও ফিরে এলো? ফিরে এলো ’৭১-এর চরমপত্র-চরমপত্রের মুকুল!

তবে হ্যাঁ, আখতার মুকুলের কথা বলতে গেলে চরমপত্রের কথা এসেই পড়ে। এ যে একসঙ্গে দু’জনার বসবাস। ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর ছিল চরমপত্রের শেষ দিন আর বাঙালীর বিজয়ের দিন। কেউ বলে মুকুলের চরমপত্র, আবার কেউ বলে রক্তপত্র, আজ তা হয়ে উঠেছে ১৬ কোটির চরমপত্র। কবি ত্রিদিব দস্তিদারের কবিতায়Ñ

একি পত্রে রাখলে মন -ক্রলিং করে শব্দেরা যায়

এ্যাম্বুশ করে পঙ্ক্তি ফোটে

বাঙ্কারে বসে মুক্তিসেনা শুনছে চরমপত্রের ডাক

এ আমাদের স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু

চরমপত্রের অমেয় হাঁক।

মাত্র কয়েক মিনিটের কয়েকটি শব্দ-সুরে, শব্দ-গানে, প্রতিদিনের নতুন সুরে নতুন ভাবনায় সব শব্দই ছিল তার অস্ত্র। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে সব শব্দ মিলমিশে হয়ে পড়ল ‘ডযবহ ড়িৎফং নবপড়সব বিধঢ়ড়হং’. মুকুলের কণ্ঠের মাঝের শব্দগুলো হয়ে উঠল উন্মাদনায় পাগল করা এক ডাকাতিয়া বাঁশি।

আবারও কি চরমপত্রের দিন শুরু হলো? আজ এম আর আখতার মুকুলের ১১তম শাহাদাত দিবসে জানাতে চাই- ওপারে গিয়েও দেখো যুদ্ধ থামেনি।

আজ জেগে গেছে তোমার নতুন প্রজন্ম, তারা আরও সজাগ, ’৭১ না দেখলেও তারা চরমপত্র শোনে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানে। আর তাই ইতিহাস থেকেই তারা শিক্ষা নিয়েছে। আজ তাঁর ১১তম শাহাদাতবার্ষিকীতে আমাদের আবেদন, তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠদের অনুরূপ জাতীয় বীরের মর্যাদা দেয়া হোক।

তাঁর কবরে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হোক। চরমপত্রসহ তাঁর রচনাবলী গঠন ও গঠনের জন্য জাতীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হোক। তাহলেই তাঁর কাছে জাতির ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে।

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫

২৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: