রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক নদীর পানি বণ্টন নয়, ব্যবহারের চুক্তি প্রয়োজন

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫
  • সেমিনারে বিশেষজ্ঞ অভিমত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আন্তর্জাতিক নদীর পানির ভাগাভাগির চুক্তি নয়, বরং এসব পানির ব্যবহারের চুক্তি প্রয়োজন। একই সঙ্গে ন্যায্যতা ও যৌক্তিকতার ভিত্তিতে পানি ব্যবহারে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক আইনের হস্তক্ষেপ। আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানি নিয়ে দর কষাকষির জায়গায় পানি কূটনীতি নিয়ে দেশের অবস্থান আরও পরিষ্কার ও জোরালো করা জরুরী। দেশের মানুষের স্বার্থে তা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছে বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, উন্নয়নের দর্শনের নামে নদীগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে। অভিন্ন উন্নয়ন দর্শনের শিকার হচ্ছে মানুষ ও প্রকৃতি। কিন্তু প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়ন করা হলে সে উন্নয়নের কোন অর্থ থাকবে না। নদীর উন্নয়নের নামে যা করা হচ্ছে সবটাই ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন তারা। মঙ্গলবার তিস্তাসহ আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং অভ্যন্তরীণ নদী-জলাশয়-জলাধার দখল-দূষণ রোধে করণীয়’ শীর্ষক আয়োজিত এক সেমিনারে তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (এএলআরডি) এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে তারা আরও অভিযোগ করেন, ভারত আন্তর্জাতিক নদীগুলোতে বাঁধ দিয়ে পানি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে এসব নদীর ওপর নির্মিত বাঁধ হঠাৎ করেই খুলে দেয়া হচ্ছে। যার প্রভাবে দেশে বিভিন্ন এলাকায় পানি নিচে তলিয়ে যাচ্ছে হঠাৎ করেই। কিন্তু এভাবে হঠাৎ করে পানি না ড়েছে বাংলাদেশকে আগে থেকে জানানো উচিত। তাহলে প্লাবিত এলাকায় আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। তারা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর উন্নয়নের নামে নদীতে বন্যা, প্রতিরোধ বাঁধ, সøুইচ গেট নির্মাণের নামে শত শত কোটি টাকা লুটপাট করছে। এ প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে দেয়া উচিত। অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে প্রকৌশলী ইনামুল হক বলেন, ভারতের তিস্তা নদীর পানি সরিয়ে নেয়ায় এক ভয়ানক পরিণতি হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। যেখানে বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলের যোগান দেয় তিস্তা নদী। ভারত এভাবে অভিন্ন নদীগুলোর ঐতিহাসিক প্রবাহ থেকে আমাদের বঞ্চিত করে জনজীবন, জীবজীবন, কৃষি ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত করে ফেলছে।

ভারত একটি আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যার মধ্যে তারা ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নদীগুলোর পানি ভারতের পশ্চিমে রাজস্থান ও গুজরাট এবং দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে নিতে চায়। ব্রহ্মপুত্র নদের তিস্তা অববাহিকায় ভারত কয়েক ডজন ড্যাম নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গসহ অনেক অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে। যার প্রভাব পড়বে আমাদের কৃষি, অর্থনীতি, পরিবেশ ও জীবনযাত্রার ওপর।

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫

১৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: