আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অমীমাংসিত সীমানার নতুন মানচিত্র এক বছরের মধ্যেই

প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৫
  • সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
  • ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নাগরিকত্ব বেছে নেয়ার আবেদন করতে হবে ছিটমহলবাসীকে
  • জেডব্লিউজির বৈঠক আগামী সপ্তাহে কলকাতায়

তৌহিদুর রহমান ॥ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী এক বছরের মধ্যে অমীংমাসিত সীমানার নতুন মানচিত্র তৈরি হবে। আর চলতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ছিটমহলবাসীকে নাগরিকত্ব বেছে নেয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। এদিকে ছিটমহল বিনিময় কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে কলকাতায় দুই দেশের যৌথ সীমান্ত কার্যকরী গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠক শুরু হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এ সব তথ্য জানায়। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত চুক্তি দলিল বিনিময়ের পর এ চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত দ্রুত সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করতে চায়। ইতোমধ্যেই দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই দেশই নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এ সময়সীমার মধ্যেই সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হবে। তবে দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় ও নাগরিকত্ব নির্ধারণের পরেও কোন সমস্যা হলে ২০২০ পর্যন্ত তা সমাধান করা হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত চুক্তি বিল বিনিময়ের পর এখন সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে আর কোন বাধা নেই। তবে সীমান্ত চুক্তি বিল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি জটিল। এ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া হবে সময়সীমা অনুযায়ী। দুই দেশের কর্মকর্তারা সময়সীমা অনুযায়ী ছিটমহল বিনিময় সম্পন্ন করবেন। মোদির ঢাকা সফরের সময় সীমান্ত চুক্তির দলিল বিনিময় হয়। তারপর থেকে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে দুই দেশের সীমানার নতুন মানচিত্র তৈরি হবে। সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলতি বছরের ৩০ নবেম্বরের মধ্যে ছিটমহলের ভূমি জরিপ, রেকর্ড তৈরি, খতিয়ান ম্যাপ তৈরির পর দুই দেশের জেলা প্রশাসনের মধ্যে বিনিময় করা হবে। তবে আগামী ৩০ নবেম্বর পর্যন্ত ছিটমহল এলাকার অধিবাসীরা কিভাবে যাতায়াত করবেন তা দুই দেশের প্রশাসন মিলে ঠিক করবে। এছাড়া ছিটমহল বিনিময় চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত সেখানকার বাসিন্দারা হলদিবাড়ি, বুড়িমারী ও বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন।

এদিকে ভারতের গণমাধ্যম জানিয়েছে, সীমান্ত চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী কড়াকড়ি নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকা থেকে দিল্লী ফেরার স্থলপথে বিমানেই তিনি এ বিষয়ে একটি বৈঠক করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্র সচিব জয়শঙ্করসহ অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে সেই বৈঠকে মোদি দ্রুত সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

সূত্র জানায়, ছিটমহলবাসীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। সেখানকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এ সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার।

ছিটমহলবাসীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই দুই দেশের সরকার অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটে ছিটমহলবাসীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সালে সম্পাদিত মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির ধারাবাহিকতায় ভারতীয় সংসদে স্থল সীমান্ত বিল অনুমোদিত হওয়ার ফলে ছিটমহলের বাসিন্দারা বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত হতে চলেছে। এর ফলে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকা-ের পরিধি ছিটমহল পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। ওই এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম বেগবান করার জন্য এই বাজেটে ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার থেকেও সেদেশের ছিটমহলবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। ছিটমহলবাসীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ইতোমধ্যেই তিন হাজার নয় কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।

উত্তরাধিকার সূত্রে ভারতের স্থল সীমান্ত নিয়ে এ সমস্যাটি পেয়েছিল বাংলাদেশ। অবিভক্ত ভারতের অংশ থেকে পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ সমস্যার অবসানে ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি হয়। এর আওতায় ছিটমহল বিনিময়ে বাংলাদেশের দিক থেকে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও তা আটকে ছিল ভারতের দিকে। কারণ ভূমি ছাড়তে হলে ভারতের সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। এর মধ্যে ২০১১ সালে ভারতে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় স্থল সীমান্ত সমস্যার সমাধানে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রটোকল সই হয়। এরপর কংগ্রেস সরকার সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিলেও তার মধ্যেই নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল হয়ে যায়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি, প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদি। তবে কংগ্রেস সরকারের সেই উদ্যোগকে সফল করতে আরও সচেষ্ট ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ছিটমহল বিনিময়ে আপত্তি জানানো আঞ্চলিক দলগুলোকে মানান তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মে ভারতের লোকসভায় সীমান্ত চুক্তি বিল পাস হয়। আর গত ৬ জুন ঢাকায় সীমান্ত চুক্তির দলিল বিনিময় হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১ ছিটমহল রয়েছে। এখানে বর্তমানে ৩৭ হাজার মানুষের বাস। অন্যদিকে, ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১ ছিটমহলের বাসিন্দা ১৪ হাজার। ২০১১ সালে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে শুমারিতে এ তথ্য পাওয়া যায়। ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১ ছিটমহলের আয়তন মোট ৭ হাজার ১১০ একর। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১ ছিটমহলের আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ একর।

প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৫

১৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: