হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পল্লবীতে নিজ বাসার সামনে থেকে উদ্ধার হলো গৃহবধূর লাশ

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৫
  • শ্বাসরোধে হত্যার পর স্বামী পালিয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিজ বাসার সামনে থেকেই এক হতভাগ্য নারীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই একমাত্র পুত্রকে নিয়ে স্বামী লাপাত্তা। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিদেশ যাওয়ার যৌতুক বাবদ চাওয়া সাড়ে তিন লাখ টাকার মধ্যে আড়াই লাখ টাকা দিতে না পারায় মিতু আক্তার জোরানাকে তার স্বামী শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে বাসার সামনে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার প্যারিস রোডের ১৮ নম্বর লাইনে একটি টিনশেড বাসার সামনে থেকে মিতু আক্তার জোরানা (২৫) নামে ওই গৃহবধূর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয়রা বলছেন, সকালে পাকা রাস্তার উপর আড়াই মণ চাল ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। বস্তার মুখ রশি দিয়ে বাঁধা। মনে হয়, যেন ভ্যান বা অন্য কোন যানবাহনে বস্তাটি নেয়ার পথে পড়ে গেছে। অনেকেই কাছে গিয়ে বস্তার গায়ে রক্ত দেখতে পান। এরপর সন্দেহ বেড়ে যায়। স্থানীয়রা বস্তার মুখ খুলতেই ভেতরে এক নারীর লাশ দেখা যায়। শুরু হয় হৈচৈ। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

নিহত মিতুর চাচা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে জানান, মিতুর পিতার নাম মৃত ইনু গাজী। মা সালমা বেগম। বাড়ি পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালি থানার বিবিরহোলা গ্রামে। মিতুরা তিন বোন। বড় বোন ঝুমুর আক্তার, মেজো বোন ঝর্ণা আক্তার এবং সবার ছোট ছিল মিতু। প্রায় আট বছর আগে বরিশালের ছেলে খায়রুল আলম সবুজের (৩৫) সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। তাদের ঘরে মোহাম্মদ আলী নামে চার বছর বয়সী এক পুত্রসন্তানও রয়েছে।

পরিবারটি এতদিন বরিশালেই ছিল। তিন মাস আগে ঢাকায় এসে পল্লবীর প্যারিস রোডের একটি টিনশেড বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। ঢাকায় আসার আগ থেকেই মিতুর স্বামী বিদেশ যাওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা চেয়েছিল। কিন্তু মিতুদের এত টাকা দেয়ার মতো কোন সামর্র্থ্য নেই। তারপরও আস্তে আস্তে এখন পর্যন্ত এক লাখ টাকার বেশি সবুজকে দেয়া হয়েছে। বাকি আড়াই লাখ টাকার জন্য সবুজ তার স্ত্রীকে প্রায়ই চাপ দিচ্ছিল। আসলে আড়াই লাখ দূরের কথা, ৫০ হাজার টাকা দেয়ার মতো সামর্থ্যও নেই মিতুদের। এ নিয়ে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। তারই জের ধরে হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটে। হত্যাকারী হিসেবে সন্দেহের প্রথম তালিকায়ই রয়েছে মিতুর স্বামী সবুজ। মিতুর লাশ পটুয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে দাফনের কথা রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই টেলিফোন পাচ্ছেন। এরমধ্যে নানা জায়গা থেকে মিতুর স্বামী বা তার লোকজনদের মাধ্যমে টেলিফোনে হুমকি-ধমকিও দেয়া হচ্ছে। এজন্য আমরা ভয়ে আছি। টেলিফোন পাওয়ামাত্রই আমরা নিজেদের পরিচয় দিতে রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।

পল্লবী থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শাহীনুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, মিতু নিহতের ঘটনায় তার বড় বোন ঝুমুর বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মিতুর স্বামী সবুজসহ তিনজনকে এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মিতুকে বৃহস্পতিবার রাতের কোন এক সময় শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে বাসার সামনে রাস্তায় ফেলে দেয় আসামিরা। হত্যার পর সবুজ তার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে গেছে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, সবুজ মূলত টেইলারিংয়ের কাজ করত। বিদেশ যাওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি বাসার পাশেই বায়তুল ফালাহ মসজিদের নিচে পাঞ্জাবি তৈরির দোকান রয়েছে সবুজের। সন্ধ্যা সাতটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে বলে জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিপ্লব কিশোর শীল। সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে হত্যাকা-ের সঙ্গে স্বামীর কোন না কোনভাবে যোগসূত্র থাকার সম্ভবনা বেশি বলেও জানান তিনি।

সোনারগাঁয়ে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে জানান, সোনারগাঁয়ের এলাহীনগর গ্রামে লতা মনিকা (২০) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে সোনারগাঁ থানা পুলিশ গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। ঘটনার পর পর শ্বশুর জাহেদ আলী, শাশুড়ি মমতাজ, ভাশুর মাহবুব ও ভাবি সায়মা পলাতক রয়েছে। রাত সাড়ে ৯টায় সোনারগাঁ থানার পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের পর বোঝা যাবে ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা।

নিহতের বাবা আব্দুল জব্বার সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ৭ মাস আগে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের এলাহীনগর এলাকার দুবাই প্রবাসী শাহজালালের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরপক্ষ ৮০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেছিল। তার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়। বিয়ের কিছুদিন পর শাহজালাল দুবাই চলে যায়। এরপর যৌতুকের বাকি টাকার জন্য মনিকার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর চাপ দিতে থাকে। টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাকে ঠিকমতো খেতেও দিত না। গত ৫ দিন এক রকম অনাহারেই কেটেছে মনিকার। জব্বারের দাবি শ্বশুরবাড়ির লোকজনই মনিকাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর অপচেষ্টা করেছে।

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৫

১৩/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: