মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নিরাপদ পানির সঙ্কট

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫

বরেন্দ্র অঞ্চলে গত এক দশকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রায় ৭০ ফুট নিচে নেমে গেছে। বর্ষা মৌসুমে এই স্তর কিছুটা উপরে উঠে আসলেও শুষ্ক মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে পানির স্তর দ্রুত নিচে নামতে থাকে। প্রতিবছরের মতো এবারও শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলের হাজার হাজার অগভীর টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে। তাই খাবার পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে এই অঞ্চলটিতে। বিশেষ করে তানোর, নাচোল, গোমস্তাপুর, সাপাহার ও পোরশাসহ আশপাশের উপজেলাগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। এসব অঞ্চলের কোন কোন এলাকায় পানির স্তর ১১০-১১৫ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে গেছে। এসব এলাকা এখন প্রচণ্ড খরাপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। একবার পানির স্তর নিচে নামলে তা আর উপরে উঠছে না। এখানকার বেশিরভাগ অগভীর টিউবওয়েল দিয়ে পানি উঠছে না। এটা অস্বাভাবিক ও ভয়াবহ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এখনই পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই বিরাণভূমিতে পরিণত হতে পারে অঞ্চলটি।

দেশে নিরাপদ বা সুপেয় পানির সঙ্কট বাড়ছে। বলা চলে বিশ্বের সিংহভাগ মানুষের নিরাপদ পানি পানের সুযোগ নেই। পরিসংখ্যান বলছে, নিরাপদ পানির অভাবে বিশ্বে প্রতিদিন অসংখ্য শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নামও। বিশ্বে নিরাপদ পানি সঙ্কটাপন্ন দশটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। দেশের ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত। উল্লেখিত বরেন্দ্র অঞ্চল এই পরিসংখ্যানেরই অংশ। এটি চিন্তিত হওয়ার মতো খবর। বিষয়টি নিয়ে এখনই আমাদের ভাবতে হবে, সচেতন হতে হবে। আমাদের দেশে সুপেয় পানির উৎসমূল থেকে যে পানি আসছে, সংরক্ষণাগারের অভাবে ক্রমাগত তা সাগরের দিকে চলে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই সুপেয় পানির উৎসগুলো দূষণের শিকার হচ্ছে। এমনকি দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ নদীর পানি প্রবাহ আগের মতো নেই, যা আছে তাও দূষিত। টিউবওয়েলে আর্সেনিকের বিষের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পানি এখন আলোচনার বিষয়। পানি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিয়ে মানুষ চিন্তিত। বিজ্ঞানীরাও বিষয়টিকে বড় সঙ্কট হিসেবে দেখছেন। প্রাকৃতিক এ সম্পদটি নিয়ে নতুন করে বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। তারা বলছেন, সারা বিশ্বে যে পরিমাণ পানি রয়েছে তার মধ্যে মাত্র দশমিক শূন্য ১৪ ভাগ খাবার পানি রয়েছে। ৯৭ দশমিক ৪১ ভাগ পানি লবণাক্ত। বাকি ২ দশমিক ৫৯ ভাগ পানি কয়লা খনি বা মাটির এত নিচে যে এ পানি পাওয়া কঠিন। তাই খাবার উপযোগী পানি সংরক্ষণে সচেষ্ট হতে হবে, এ ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি ধারণ এবং সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার।

বরেন্দ্র অঞ্চলের যে চিত্রটি আমাদের সামনে উঠে এসেছে সেটা একটা খ-চিত্র মাত্র। দেশের উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায়ই কমবেশি এই সমস্যাটি রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে পানি লবণাক্ত হওয়ায় পান যোগ্য নয়। কোন কোন অঞ্চলে পানিতে প্রচুর পরিমাণে আর্সেনিক রয়েছে। বলা চলে নানা কারণে নিরাপদ পানির সঙ্কট বাড়ছে। আমরা মনে করি, নিরাপদ পানির সঙ্কট দূর করতে দরকার সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। প্রয়োজন জনসচেতনতা। নিতে হবে প্রয়োজনীয় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫

১১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: