কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সালাহউদ্দিন, ধূসর বিএনপি এবং মুক্তির জয়

প্রকাশিত : ১৮ মে ২০১৫
  • সিডনির মেলব্যাগ ॥ অজয় দাশগুপ্ত

সালাহউদ্দিন উৎপাতে অনন্ত বিজয় চাপা পড়ে গেছে মিডিয়ায়। লক্ষণ অসুস্থতার। তারা জোরজবরদস্তি করে সালাহউদ্দিনের কথিত ফিরে পাওয়ার খবরকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারাই এদেশে বড় দু’দলের বিরুদ্ধে সোচ্চার। প্রশ্ন হলো, সেটাই যদি সত্য ও খাঁটি হয় তবে সালাহউদ্দিনকে মেঘালয়ে না হিমালয়ে পাওয়া গেল, তা নিয়ে দিনের পর দিন প্রচারের মাজেজা কোথায়? দু’দলের প্রতি সমান অনীহা আর বিদ্বেষ থাকলে সালাহউদ্দিনের আজগুবি ফিরে আসায় অন্তের রক্তধারাকে অপমান করা হতো না। জাতি ও সমাজের প্রেক্ষাপটে নেতা হলেই কি সাত খুন মাফ? এই দেশের জন্য সালাহউদ্দিন সাহেবের অবদান কী? কতটা করেছেন এই দেশের মানুষের জন্য? যেসব ব্লগার বা লেখক জান দিচ্ছেন খালি চোখে দেখা না গেলেও সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে এরা সমাজ বিনিমার্ণে ভূমিকা রেখেছেন বলেই আজ খুন ও মৃত্যুর শিকার। অন্যদিকে রাজনীতিবিদ নামে পরিচিত নেতা নামধারী অভিনেতার চেয়েও সরস। নাটুকেপনা বা নাটক তৈরিতে এদের জুড়ি মেলা ভার। এই যে ভারতে পালিয়ে যাওয়া বা তাঁকে খুঁজে পাওয়া এতে তাঁর জীবনে বেঁচে থাকার আনন্দ বা মানুষ হিসেবে শুকরিয়া আদায়ের পরিবর্তে আর কী থাকতে পারে? অথচ এটাই এখন হট টপিক কর্পোরেট মিডিয়ার যে অংশটি কৌশলে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় লিপ্ত তারাই এ নিয়ে এমন করছে। এদের নিয়ে বিপদ অনেক বেশি। কারণ এরা জামায়াত-শিবিরের মতো একমুখী কিছু নয়। এদের অন্তরে পাক প্রেম, হৃদয়ে ভারত বিদ্বেষ, আর জান বাঁচানোর জন্য চাই ভারতে পলায়ন। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ দেশ ভারত হলেও আমাদের সীমান্ত বার্মা বা মিয়ানমারের সঙ্গেও আছে। কোনদিন কেউ সে মুখো হয়েছেন শোনা যায় না। শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের পর চট্টগ্রাম পেরিয়ে সে মুখো যাত্রার কথা অজ্ঞাত কেন? ভারতে আতিথেয়তা পাওয়া যায়, অর্থ ঘুষ বা অন্য কোন লবিংয়ের কারণে সেখানে জামাই আদরে থাকা যায়। তাছাড়া ভারত বিদ্বেষ তো আসলে বাহ্যিক। সালাহউদ্দিন সাহেবদের ঘরে ঘরে কারিনা কাপুর, শাহরুখ খান বা আমীর খানের জয়জয়কার। তাই তারা আপদে-বিপদে, আনন্দ-ফুর্তিতে ভারতমুখী। এই যে হঠাৎ অন্তর্ধান আর অকস্মাৎ ফিরে আসা জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব কী? তিনি ফিরে এলে বা তাকে খুঁজে পেলেই কি বর্তমান সরকারের পতন ঘটবে? না দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের সুবাতাস বয়ে যাবে? এই লোক দেশত্যাগের আগে রাষ্ট্রবিরোধী স্ট্যাটাস দিতে কসুর করেননি। পেট্রোলবোমা আর আগুনে দগ্ধ বাংলাদেশীদের মেরে নিজে বহালতবিয়তে বেঁচে থাকার এই নাটক তাই কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না। সালাহউদ্দিনের সমর্থক নামে পরিচিত সুশীলদের কা- দেখুন। রহস্যের কিনারা বা উৎস চিহ্নিতের আগেই দেশ ও সরকারবিরোধী প্রচারণায় ব্যস্ত তারা। কেউ কেউ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও তুলনা করছেন। কিমের দেশের ধ্যানধারণা ও চিন্তার প্রচারক কাজী জাফর হলেন বেগম জিয়ার পরম মিত্র। পাগলা রাজা কিমের দোসর উন্মাদ কাজী জাফরের দলকে কিছু না বলে আওয়ামী লীগের আমলের সঙ্গে তার তুলনা কি বেমানান নয়? তবু তারা সেটাই করে চলেছেন।

বাংলাদেশের দুর্ভাবনার মূল জায়গাটা এই অপশক্তি। বিএনপি হাটে মাঠে ঘাটে জনমনে আলোড়ন তুলতে ব্যর্থ হলেও এরা নাছোড়বান্দা। তাই প্রশ্ন জাগে আসলে এরা কী চায়? একি পাকিস্তান ভাঙ্গার প্রতিশোধ, না বদলে যাওয়া মানসিকতা? সালাহউদ্দিন সাহেব ও সাজানো নাটকে আরও একটি বিষয় পরিষ্কার- বিএনপি পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করতে জানে না। জানে যে না তাতো তাদের নেতা চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মনজুর আলমই বলে দিয়েছেন। চোখে পানি নিয়ে ভোটযুদ্ধ থেকে ফেরত আসা ভদ্রলোক সাফ জানিয়েছেন এ জীবনে বিএনপিতে ফিরে যাবেন না। নিজ হাতে মিষ্টি খাইয়ে আ জ ম নাছিরকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। কই বিএনপি নেতা আমীর খসরু বা আবদুল্লাহ আল নোমান তো তা করতে পারলেন না? পারবেনও না। ঘরানার ব্যাপারটাই আলাদা। মনজুর আলম মূলত আওয়ামী ঘরানার মানুষ। তাই তাঁর সিদ্ধান্তে এখনও গণতন্ত্র আছে। সালাহউদ্দিনের মনে বা চেতনায় তা নেই। নেই বলেই মানুষ ও দলকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে ভারতে চলে গেছেন।

আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আসলে কী চাই? খুন হত্যা বোমা আগুনে এদেশ ও জাতির উন্নয়ন বিঘœ করতে মরিয়াদের ক্ষমতায় আনব, না বিসর্জনে পাঠাব? সব জাতি সব সময় উন্নয়নের সুযোগ পায় না। শেখ হাসিনার সরকার যেভাবেই হোক দুয়ার খুলে দিতে পেরেছে। সে ধারায় এগিয়ে না গিয়ে বন্ধ ঘর বন্ধ অফিস আর অচলায়তনের রাজনীতি কি কিছু দিতে পারবে? দেখেশুনে আমরা নিশ্চিত, বেগম জিয়া আসলে আর পারছেন না। তাঁদের নিজেদের ফাঁদে নিজেরা ধরা পড়ে কোন অর্জনেও শামিল হতে পারছেন না। পারলে বিলেতজয়ী বাঙালীদের শুভ কামনা ও অভিনন্দন জানাতে বিলম্ব করতেন না। সন্তান মানুষ করতে না পারার বেদনা বুঝি, কিন্তু ক্ষোভ বুঝি না। যারা জিতেছে- টিউলিপ, ড. হক, রুশনারা সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রায়শ্চিত্তও করতে পারল না বিএনপি। সারাজীবন কোন জাতি নাটকের অংশ হতে পারে না। হয়ত সে কারণেই বিএনপি এখন লাগামছাড়া। এমন একদিন আসবে ফসিলে পরিণত হতে হবে। বাংলাদেশ ও তার জন্মলগ্নের মানুষই এ দেশকে শত্রুমুক্ত করবেন। এটা নিশ্চিত।

প্রকাশিত : ১৮ মে ২০১৫

১৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: